Wednesday, January 19, 2022
Home > খেলাধুলা > বিশ্বকাপ দল পর্যালোচনা “ফ্রান্স”

বিশ্বকাপ দল পর্যালোচনা “ফ্রান্স”

Spread the love
ফ্রান্স
ডাক নাম: লে ব্লুস
প্রতীক: কগ গলোয়া (গলিক মোরগ)
অঞ্চল: ইউরোপ (উয়েফা)
বর্তমান র‍্যাংকিং: ৭
উল্লেখযোগ্য ক্লাব: মার্শেই, পিএসজি, মোনাকো, লিওঁ, সেন্ত এঁতিয়েন
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ১৫ বার
সেরা ফলাফল: চ্যাম্পিয়ন (১৯৯৮), রানার্স আপ (২০০৬)
২০১৪ এর ফলাফল: ১/৪ ফাইনাল (জার্মানির কাছে ০-১ গোলে হার)
জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ: লিলিয়ান থুরাম (১৪২ ম্যাচ)
সর্বোচ্চ গোল: থিয়েরি অঁরি (৫১)
মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা: ৯ (১৯৬০ সালে প্রথম)
অংশগ্রহণ : ৫ বার
সেরা ফলাফল: চ্যাম্পিয়ন (১৯৮৪, ২০০০)
২০১৬ এর ফলাফল: রানার্স আপ (পর্তুগালের কাছে ০-১ গোলে হার)
বিশ্বকাপ ইতিহাস: ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলেও ১৯৩৮ সালের নিজ দেশের বিশ্বকাপের আগে তেমন কিছু দেখাতে পারেনি ফ্রান্স। ১৯৩৮ সালে ইতালির কাছে ১-৩ গোলে হেরে যায় তারা। এরপর ১৯৫৮ সালে স্পেন বিশ্বকাপে ফুটবলবিশ্ব প্রথমবারের মত ফরাসি ঝলক দেখতে পায়। রেমন্দ কোপা, জ্যঁ ফন্তেইন্দের “সোনালি প্রজন্ম” ৩য় হয়। ঐ টুর্নামেন্টে জ্যঁ ফন্তেইন ১৩ গোল করেন (এক টুর্নামেন্টের রেকর্ড) যার ৪টি আসে জার্মানির সাথে ৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। ১৯৬০ সালে প্রথম ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ফ্রান্স ছিল স্বাগতিক। ‘৭০ এর দশকে ফ্রান্স ফুটবল মেধাশুন্যতায় ভোগে। ১৯৭০ ও ১৯৭৪ সালে হওয়া বিশ্বকাপ দুটিতে ফ্রান্স চুড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়। ‘৮০ এর দশকে মিশেল প্লাতিনি সতীর্থ তিগানা, জিরেসে ও ফার্নান্দেজের সাথে “জাদুকরী চতুষ্টয়” গড়ে তোলেন। ১৯৮২ এর স্পেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্স-জার্মানি সেমিফাইনাল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ম্যাচ। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে শেষ হওয়া সেই ম্যাচের ৫৭ মিনিটে জার্মান গোলরক্ষক হ্যারল্ড শুমাখার গোল বাঁচাতে ফরাসি ডিফেন্ডার প্যাট্টিক বাতিস্তঁ- এর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এতে বাতিস্তঁ মেরুদন্ডের একটি হাড়, গুটিকয়েক দাঁত ও সজ্ঞা হারিয়ে কোমায় চলে গেলেও রেফারি কার্ড বা পেনাল্টি দেন নি। পেনাল্টি শুটআউটে সেই ম্যাচ হারে ফ্রান্স। ১৯৮৪ সালে প্লাতিনি জাদু ফ্রান্সকে ইউরো ও অলিম্পিকের সোনা এনে দেয়। এরপর ১৯৮৬ সালে ৩য় হলেও বিশ্বকাপ ১৯৯৮ সালের আগপর্যন্ত মরীচিকাই ছিল। সেই অধরা স্বপ্নও ধরা দেয় এক টেকো-মাথার, “আলসে” লোকের কারিকুরিতে। ফাইনালে দুটি কর্নার থেকে তার প্রায় হুবহু দুটি হেডেই টানা দুই বিশ্বকাপ জেতার আশা চূর্ণ-বিচূর্ণ ব্রাজিলের। জিনেদিন জিদান আরো একবার “প্রায়” বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন ফ্রান্সকে। ২০০২ সালে গ্রূপপর্ব থেকেই বাদপড়া ফ্রান্সকে বাঁচাতে অবসর ভেংগে ২০০৬ বিশ্বকাপে ফেরেন জিদান। সেই “বুড়ো” জিদান আরো একবার ব্রাজিলের ঘাতক হন, এবার ১/৪ ফাইনালে। ঐ ম্যাচে তার একক পারফর্মেন্স বিশ্বকাপের ইতিহাসে ঠাঁই পাওয়ার মত। ফাইনালেও জিদান একইভাবে ছুটছিলেন। তার “পানেনকা” ফ্রান্সকে ৯ মিনিটেই এগিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু ১১০ মিনিটে ঐ ম্যাচেই সমতা ফেরানো মার্কো মাতেরাতসির উস্কানিমূলক কথাবার্তায় মেজাজ হারিয়ে ঢুঁস মেরে বসেন তিনি। লাল কার্ড দেখার মাথা নিচু করে বিশ্বকাপের ঝলমলে সোনালি ট্রফিটার পাশ দিয়ে জিদানের প্রস্থানের ফটোগ্রাফটা ফুটবল ভক্তদের মনকে আজীবন রক্তাক্ত করবে। ফুটবল থেকে সবকিছু অর্জন করা জিদান কি কখনো দেখেছেন ছবিটা? ২০১০ বিশ্বকাপের এভ্রা-আনেল্কা কান্ডের পরে ফ্রান্স গত বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নেয়।
২০১৮ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ফলাফল: (ম্যাচ:১০ জয়:৭ ড্র:২ হার:১ পক্ষে গোল: ১৮ বিপক্ষে গোল:৬ পয়েন্ট: ২৩
সর্বোচ্চ গোল: জিরু ও গ্রিজমান (৪ গোল করে)
২০১৮ বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
সর্বোচ্চ ম্যাচ: উগো লরিস (৯৭)
সর্বোচ্চ গোল: অলিভিয়ে জিরু (৭৩ ম্যাচে ৩১ গোল)
অধিনায়ক: উগো লরিস
স্কোয়াড ভাবনা: ইঞ্জুরি কোসিয়েলনি ও পায়েতের বিশ্বকাপস্বপ্ন কেড়ে নিয়েছেন। কোচ দেশম হয়তো এতে মনে মনে খানিকটা খুশিই হয়েছেন। কারণ এরা দু’জন থাকলে দল বাছাই করা দুরুহতর হয়ে পড়তো। এমনিতেই এবারের বিশ্বকাপে এক ফ্রান্স থেকেই সম্ভাব্য বিশ্বকাপজয়ী দুটো দল গড়া যাবে। দিনিয়ে, সিসোকো, লাকাজেত, কোমান, মার্শিয়াল, কুরজাওয়া,রাবিওদের মত দারুণ খেলোয়াড়দের ঠাঁই মেলেনি ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দলে। অধিনায়ক লোরিস দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ সদস্য, ফ্রান্সের এক নম্বর তো অনেক দিন ধরেই। কিন্তু সম্প্রতি ইতালির সাথে প্রস্তুতি ম্যাচটা আবার প্রমাণ করলো দারুণ কিপিংয়ের সাথে ভুল করার মারাত্মক প্রবণতা আছে এই সুইপার-কিপারের। ডিফেন্সের মাঝে আছেন গতিময় ভারান ও উমতিতি। তরুণ বয়সেই তাদের খেলা আশ্চর্য রকমের পরিনত। অভিজ্ঞ রামি আছেন, আছেন তরুণ কিম্পেম্বে-পাভার্দরাও। বাঁয়ে দারুণ খেলতে থাকা লুকাস হার্নাদেজ হয়তো জায়গা হারাবেন মেন্দির কাছে। ডানে দারুণ আক্রমণাত্মক সিদিবে। ফ্রান্সের মিডফিল্ড সম্ভবত এই মুহুর্তে বিশ্বসেরা। এমন অবস্থা যে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ফুটবলার পল পগবার জায়গায়ই নড়বড়ে হয়ে গেছে। করেন্তান তোলিসো অল্প সময়েই মাতুইদিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পণ করছেন। এন’গোলো কান্তের দম ও ট্যাল্কিং ক্ষমতা ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখবে অন্যদের থেকে। এদের ভিড়ে সেভিয়ার ন’জঞ্জি হয়তো শুধু দলের শোভা বাড়াতেই রাশিয়া যাচ্ছেন। ফ্রান্সের তরুণ আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষের শিরদাঁড়ায় শীতল স্রোত বইয়ে দিতে বাধ্য। টিনএজার কিলিয়াম এম্বাপে দেখতে যতটা নিষ্পাপ খেলেন ততটাই ভয় ধরানো ফুটবল। উস্মান দেম্বেলে ৪ বছর আগেও খেলতেন রেনের বি দলে। বার্সেলোনা উইংগার দু’পায়েই সমান পারদর্শী, তার গতি প্রতি আক্রমণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে। লিওঁর ফরোয়ার্ড ফেকিরের গত মৌসুমের ২৩ গোল থাকে রাশিয়ার টিকিট দিয়েছে, ২৬ গোল করে আছেন তভঁও। কে জানতো এক যুগ আগের সেই পরিত্যক্ত খর্বাকৃতির শুকনো ছোঁড়াটাই ফরাসি ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা হয়ে উঠবেন। জার্মান বাবা ও পর্তুগিজ মায়ের সেই সন্তানের উঠে আসার গল্পটা রূপকথার মতো। আন্তোয়ান গ্রিজমানের কাঁধে চাপ হয়ে জেতে পারে প্রত্যাশার বোঝাটা, যেমনটা হয়েছিল গত ইউরোর ফাইনালে। সেই হার থেকে শিক্ষা নিতে না পারলে আবারো স্বপ্নভংগের বেদনা সইতে হবে। সবশেষে আছেন দেশমের ব্যক্তিগত পছন্দ অলিভিয়ে জিরু। দীর্ঘদেহী চেলসি স্ট্রাইকার বাতাসে অদম্য, ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় যৌথভাবে ৪র্থ অবস্থানে আছেন তিনি। ফ্রান্সের বেঞ্চের শক্তিই এবারের বিশ্বকাপে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ: সি
প্রতিপক্ষ: অস্ট্রেলিয়া, পেরু, ডেনমার্ক
#হক_কথা
গ্রুপের কাঠিন্য: ৬.৫
গোলকিপিং: ৮.২
ডিফেন্স: ৮.৬
মিডফিল্ড: ৯.২
ফরোয়ার্ড : ৮.৮
বেঞ্চের শক্তি: ৯.৪
অবস্থান: সবকিছু ঠিক থাকলে ১/৪ ফাইনালে স্পেন বা পর্তুগালকে পাবে ফ্রান্স। আর হিসেব উল্টে-পাল্টে গেলে রাউন্ড অফ ১৬- এ হবে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি। তবে সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে ফাইনালও খেলতে পারে ফ্রান্স। কিন্তু ফাইনালে ফরাসি কান্না কি এখনই শোনা যাচ্ছে?
Facebook Comments