Friday, January 28, 2022
Home > উপন্যাস > উপন্যাসঃ “রূপন্তী” (১ম পর্ব) – তকিব তৌফিক

উপন্যাসঃ “রূপন্তী” (১ম পর্ব) – তকিব তৌফিক

Spread the love
দুপুর গড়িয়ে বিকাল যখন হবার পথে তখন’ই একটা পাখির খাঁচা হাতে রূপন্তী বাসায় ফিরল। খাঁচায় একজোড়া পাখি বন্দি আছে। একেবারে নিরীহ প্রকৃতির ছোট ছোট দুইটি পাখি। চুপচাপ খাঁচার ভেতর বসে আছে। রূপন্তীর হাতে খাঁচাটা দোলনার মতো মৃদু দুলছে। পাখি গুলো সেই দোলনে তৃপ্তি পাচ্ছে। নড়ছে না একেবারেই। নির্মল চোখে নতুন পরিবেশকে চিনতে চেষ্টা করছে।
স্নাতকে পড়ুয়া নাতনীর হাতে পাখির খাঁচা বেদার সাহেবকে অবাক করল কিনা বুঝা গেল না। তিনি বসার ঘরে বসে ছিলেন। আপনাআপনি বসে বিড়বিড় করছিলেন। তিনি গত একমাস যাবত এমন বিড়বিড় আসক্তিতে ভুগছেন। কি নিয়ে বিড়বিড় করেন তা কেউ জানে না। জানবার কথাও নয়। তিনি বড্ড নাকউঁচু স্বভাবের মানুষ। রক্তের স্বভাব এখনও ভয়াবহ উদ্দীপ্ত। বাসায় সবাই বেদার সাহেবকে ভয় পায়। রূপন্তীও এই একজনের সামনে বড্ড কাঁচুমাচু করে। তবে ভয় পায় কিনা বুঝা মুশকিল। কারণ পুরো বাসায় সে একজনই যে বেদার সাহেবের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে। বেদার সাহেবকে পরাস্ত করবার পদ্ধতি খুব শীঘ্রই উদঘাটন করা সম্ভব বলে রূপন্তীর ধারণা। কিন্তু রূপন্তীর বড়ভাই রুহুল এতে বিশ্বাসী নয়। সে বেদার সাহেবকে আড়ালে বেজার সাহেব বলে ডাকে। রূপন্তী প্রতিবাদ করে না কারণ বেদার সাহেবের চেহারায় কখনো হাসি দেখা যায়নি। ঝগড়াফসাদ শেষে যে চেহারা মানুষের হয় সেই চেহারা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও তার চেহারায় পরিলক্ষিত হয়।
বেদার সাহেবকে নিয়ে রূপন্তীর ধারণা ভিন্ন। তার মতে বেদার সাহেব এমন একজন ব্যক্তিত্ব যাকে নিয়ে গবেষণা করা যায়। তিনি গবেষণার জন্য এক উৎকৃষ্ট জ্যান্ত বস্তু। সব মানুষকে গবেষণার উপাদান হিসেবে গ্রহণ করা যায় না, গ্রহণ করা গেলেও গবেষণার ফলে কোনো বিশেষত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু বেদার সাহেবকে গবেষণার উপাদান হিসেবে কাজে লাগালে প্রত্যহ নিত্যনতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে রূপন্তীর ভয়ঙ্কর আত্মবিশ্বাস। তাই রূপন্তী তার দাদা বেদার সাহেবকে নিয়ে গোপনে গবেষণা করবে বলে মনস্থির করে রেখেছে। কিন্তু সেটা বেদার সাহেবের মৃত্যুর পূর্বে করা উচিত নাকি মৃত্যুর পর করা উচিত তা’ই বুঝে উঠতে পারছে না রূপন্তী। তিনি জীবিত থাকাকালীন যদি গবেষণার কাজ শুরু করা হয় তাহলে তাকে মরতে দেয়া যাবে না, কিন্তু সেটা অসম্ভব।  জীবন-মৃত্যু উপরওয়ালার হাতে। তাই বেদার সাহেব জীবিত থাকা অবস্থায় গবেষণা চলাকালীন সময়ে তিনি হুট করে পরলোকগমন করলে রূপন্তীর সব চেষ্টা বৃথা যাবে। জীবিত থাকা মানুষটি মৃত হবার পর অন্য ভাবনায় গবেষণার কাজ করতে হবে। তখন থিওরির ভুল হতে পারে। সূক্ষ্ম কিন্তু বড় ভুল। তাই এই মুহুর্তে বেদার সাহেবকে নিয়ে সে গবেষণা করতে ইচ্ছুক নয়।
রূপন্তী জানত বাসায় ঢুকার পর তার হাতে পাখির খাঁচা দেখে তার শ্রদ্ধাভাজন রাশভারী দাদাজান তাকে দাঁড় করিয়ে কৈয়ফিয়ত চাইবেন। সে এই কৈফিয়ত দিতে রাজি কিন্তু এখনই নয়। বাইরে ভাদ্রের কাঠপোড়া রোদ্দুর পেরিয়ে এসে তার ইচ্ছা করছে না পাখির বিত্তান্ত উপস্থাপন করতে। গাঁ দিয়ে ঘাম ঝরছে, জামা ভিজে গেছে, যেনো মাত্রই একপশলা বৃষ্টিতে ভিজলো। কপালের কালো টিপ সরে গিয়ে একপাশ হয়ে গেছে। চোখের কাজলের বিশ্রী অবস্থা। যেনো সস্তা বাজেটের ভুতুড়ে ফিকশনের শ্যুটিংয়ের মেকআপ নিয়েছে। রূপন্তীর কোঁকড়ানো চুল আপনাতেই ফুলে থাকে, ধুলো-বালিতে আরও বেশি ফুলে গেছে। তাকে দেখতে দুর্বল কাতাল মাছের মতো মনে হচ্ছে। মোটা মাথা, শরীরখানা রোগা চিকন। এসবে তার ভ্রুক্ষেপ নেই। তার ভয় মাইগ্রেন নিয়ে। মাইগ্রেনের ব্যথা উঠে গেলে দু’তিন দিনের জন্য বিছানার আলিঙ্গন ছেড়ে দেয়ার জো থাকে না রূপন্তীর।
‘রূপ’,  ভরাট কন্ঠে ডাকলেন বেদার সাহেব। বেদার সাহেবের এই এক শব্দের ডাক রূপন্তীর শরীরে যেনো হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করল।
‘যা চায় না তা এই মুহূর্তেই পেতে হবে কেনো! এখন একগাদা উত্তর দিতে হবে। কি কষ্ট! কি কষ্ট!’ ভেবেই জবাবে বলল, ‘জ্বী দাদু’।
‘হেটে এসেছো নাকি রিক্সায়?’, জানতে চাইলেন বেদার সাহেব।
‘হেটে এসেছি, দাদু’, নরম কন্ঠে উত্তর দিল রূপন্তী।
‘এই হেটে আসা-যাওয়া কতদিন ধরে চলছে?’
রূপন্তী বাম হাতের আঙুলে সংক্ষিপ্ত হিসেব কষে প্রত্যুত্তরে বলল, ‘তিন শুক্রবার বাদ দিয়ে আটারো দিন’।
‘এই আটারো দিনে প্রতিদিন’ই ক্লাস ছিল!’, গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করলেন বেদার সাহেব।
‘না, দাদু।’
‘তাহলে কয়দিন ক্লাস ছিল?’
‘বারো দিন’।
‘হুম। পাখিজোড়া নয়’শ টাকায় কিনেছো?’
রূপন্তী তার দাদার মুখে পাখিজোড়ার দাম শুনে চমকে গেল। পাখিজোড়ার দাম যে নয়’শ টাকা সেটা বেদার সাহেবের জানার কথা নয় কিন্তু কিভাবে তিনি জানলেন সেটাই ঘুরপাক খাচ্ছে রূপন্তীর মাথায়।
‘হ্যাঁ, কিন্তু দাদাজান…’, থামতে হল রূপন্তীকে। রূপন্তীকে থামিয়ে দিয়ে বেদার সাহেব বললেন, ‘যাও, হাত-মুখ ধুয়ে, খেয়ে দেয়ে আমার কাছে এসো। পাখি নিয়ে কথা বলবো’।
রূপন্তীর ইচ্ছা হল বেদার সাহেবের প্রেডিকশনের রহস্য সম্পর্কে এখনই জানতে কিন্তু শরীরটাকে ক্লান্তি চেপে ধরেছে। তাই কথা না বাড়িয়ে সে ভেতরের ঘরের দিকে পা বাড়ালো।
‘রূপ, খাঁচাটা এখানেই রাখো।’, বললেন বেদার সাহেব।
রুপন্তী পাখির খাঁচা বসার ঘরের মেঝেতে রেখে ভেতরের ঘরে চলে গেল।
ঘড়িতে সময় বিকাল পাঁচটা। বেদার সাহেব এখনো বসার ঘরে রূপন্তী আসার অপেক্ষা করছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন  রূপন্তী আসবে না। চাইলেই তিনি রূপন্তীকে ডাকতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। ‘রূপন্তীকে তো আসতেই বলা হয়েছিল! তাকে আবার ডাকতে হবে’ই-বা কেনো! বাধ্য মেয়ে হলে তো সে তখন’ই আসতো! আসেনি। মেয়েটা বড্ড অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে’, ভাবলেন বেদার সাহেব। পরক্ষণে ভাবলেন, ‘ পাখির খাঁচা এখানে পরে আছে সেগুলো নিতেও তো সে আসতে পারতো! কিংবা আমি পাখি যুগলের দাম কি করে জানলাম সেটাও তো তার কাছে একটা রহস্যের বিষয় বটে! কিন্তু এই ব্যাপারে কি তার কৌতূহল নেই? নেই। থাকলে তো সে আসতোই।’
সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। বেদার সাহেব এখনো  আগের জায়গায় বসে আছেন। তিনি একা এভাবে বসে থাকলে বিড়বিড় কি যেনো হিসাব কষতেন, কিন্তু তা করছেন না। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে তিনি রীতিমত খেপে আছেন। প্রবল বর্ষণ পূর্বে কালো মেঘ যেইভাবে জমাটবদ্ধ হয়ে থম দিয়ে থাকে বেদার সাহেবের মেজাজেরও যেনো একই অবস্থা।
বেদার সাহেব কিছুক্ষণ পরপর পাখির খাঁচার দিকে দৃষ্টি দিচ্ছেন। পাখিজোড়া দেখলেই তার মেজাজ নিয়ন্ত্রণে এসে যাচ্ছে। চোখ ফিরিয়ে নিলেই তার মেজাজ আবার বেড়ে যায়। তবে মেজাজ এখনো নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
বেদার সাহেব পাখি যুগলের দিকে আর তাকাচ্ছেন না। ঘনঘন তাকালে এটুকু পাখি জোড়া তার-মন মেজাজ ভালো হয়ে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু তিনি এই মুহুর্তে মেজাজকে নিস্তেজ করতে চান না। মেজাজ কমে গেলে রূপন্তী তার আদেশ অবমাননা করবার শাস্তি পাবে না। তার কথার প্রাধান্য না দিয়ে রূপন্তী রীতিমত বড় অপরাধ করে ফেলেছে। এই অপরাধকে তিনি বেয়াদবি বলে ধরে নিয়েছেন। আর বেয়াদবিকে বেদার সাহেব কখনো প্রশ্রয় দেননি, দিবেন না। এতে তার নীতির উপর কলঙ্কের  সীলমোহর পরে যাবে।
মগরিবের আযান শেষ হতেই বেদার সাহেব উঠে দাঁড়ালেন। পাখির খাঁচার দিকে তিনি আর নজর দিলেন না। বসার ঘরে পাশে থাকা বাথরুমে ঢুকলেন।
খানিকবাদে ওযূ শেষে বের হতেই দেখেন  পাখির খাঁচা নেই। মেজাজ খারাপের মাত্রা বেড়ে গেলো দ্বিগুণ। মাথায় হাত বুলিয়ে ভাবলেন, ‘এ কেমন দুঃসাহস!’
তিনি আবার বাথরুমে ঢুকলেন। ইদানীং তার নতুন এক সমস্যা দেখা দিয়েছে। মেজাজ বেশি চড়া হলেই প্রসাবের চাপ বাড়ে। এতবেশি বাড়ে যে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
বেদার সাহেব মিনিট পাঁচেক পর পুনরায় ওযু করে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলেন। তিনি নিজের ঘরের দিকে গেলেন। এক মিনিট জোরপূর্বক চেষ্টা করেরে মেজাজকে বশ করতে সক্ষম হলেন। যেহেতু তিনি নামাযে দাঁড়াবেন সেহেতু তার মানুষ আত্মার আচরণে নমনীয় আর আনুগত্য ভাব থাকা জরুরি।  নামাযে দাঁড়ানো মানেই সরাসরি মহান আল্লাহ্‌র কাছে হাজিরা দেয়া। এমতাবস্থায় হৃদয়কে শীতল রাখা আবশ্যক। বেদার সাহেবও তা’ই করলেন।
নামায শেষে তিনি বসার ঘরে বসলেন। গুলবাহার চামড়া ঝুলানো হাতে দু’কাপ চা নিয়ে বসার ঘরে এলেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সংসারের সব দায়-দায়িত্ব ছেলের বউয়ের হাতে তুলে দিয়েছেন ঠিক’ই কিন্তু প্রত্যহ ভোরবেলা এবং সন্ধ্যাবেলা দু’কাপ চা করে তা স্বামীকে পান করাতে তিনি ভুলেন না। সংসার জীবনের এই একটি অভ্যাসকে বেশ যত্নে আগলে রেখেছেন গুলবাহার। তার এই অভ্যাসকে গুরুত্ব দিতে ভুল করেন না বেদার সাহেব। তিনি গত পঁয়তাল্লিশ বছরে গুলবাহার ব্যতীত কারোর হাতের চা মুখে নেননি। ঘরে কিংবা বাইরে কেউ তাকে চা করে খাওয়াতে পারেনি। একমাত্র গুলবাহারের হাতে করা চা’ই বেশ তৃপ্তি ভরে মুখে নিয়ে গলা ভেজান বেদার সাহেব।
চায়ের কাপে চুমুক দিতেই রূপন্তী এসে হাজির। নির্ভয়ের এক চেহারা প্রদর্শনে রূপন্তী দাদীর পাশে বসল। রূপন্তীর এমন আচরণে বেদার সাহেব অবাক হলেন। রূপন্তীর চেহারায় অপরাধবোধের কোনো চিহ্ন’ই তিনি দেখতে না পেয়ে বেদার সাহেবের মাথায় আবার মেজাজের ফোয়ারার ঢল নামালো। তিনি ছুটে গেলেন বাথরুমে।
যখন ফিরে এলেন তখন দেখলেন দাদী-নাতনী মিলে টেলিভিশনে ভারতীয় বাংলা সিরিয়াল দেখায় ব্যস্ত। তিনি মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রেখে বললেন, ‘ রূপ টেলিভিশন বন্ধ করো।’
বেদার সাহেবের এই এক উত্তম গুণ। তিনি রেগে থাকুক কিংবা শিথিল থাকুক, কথা বলার ভঙ্গিমা সবসময় এক। রেগে গেলে চেঁচিয়ে কথা বলেন না, শান্ত থাকলে হেসেও কোনো কথা বলেন না। সবসময় গম্ভীর একটা ভাব থাকে কথার মধ্যে।
রূপন্তী টেলিভিশন বন্ধ করে দিল। টেলিভিশন বন্ধ করে উঠে দাঁড়ালো নিজের ঘরের দিকে ফিরে যাবে বলে। বেদার সাহেব তাকে থামালেন।
রূপন্তী দাঁড়িয়ে আছে। রূপন্তীর মধ্যে কোনো কৌতূহল নেই দেখে বেদার সাহেব অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলেন। রূপন্তী দাঁড়িয়েই আছে। তার মনেও কোনো জিজ্ঞাসা নেই। অথচ বেদার সাহেব ভেবেছিলেন পাখির দাম বলে দিতে পেরে তিনি রূপন্তীকে খুব চমকে দিতে পেরেছেন। রূপন্তী চমকেও গিয়েছিল ঠিক, কিন্তু এখন তার মধ্যে কোনো কৌতূহল নেই। বেদার সাহেব মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না। রূপন্তীকে অপেক্ষা করতে বলে তিনি আবার বাথরুমের দিকে ছুটে গেলেন।
ফিরে এসে ক্লান্ত কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমাকে খাওয়া শেষে এখানে আসতে বলেছিলাম?’
‘জ্বী দাদু, বলেছিলেন’।
‘আসোনি কেনো?’
‘আসতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারছিলাম না’।
‘কেনো আসতে পারছিলে না? তোমার ঘর থেকে এই ঘরের দুরত্ব কত মেইল?’, ভুরো কুঁচকে জানতে চাইলেন বেদার সাহেব।
‘দশ হাত’।
‘কি করে বুঝলে দশ হাত!’, অবাক হয়ে জানতে চাইলেন বেদার সাহেব।
‘একদিন ফোনে বাবা কাকে যেনো বলছিল এই ঘর থেকে আমার ঘর পনেরো ফুট দুরত্ব। আমার দু’হাতে তিন ফুট হয়। সে হিসেবেই….’।
বেদার সাহেব কিছু বললেন না। একটু থেমে আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ এই দশ হাত পেরিয়ে কেনো এখানে আসতে পারোনি?’
‘আমি বলতে পারবো না দাদু।’
‘কেনো বলতে পারবে না?’
প্রত্যুত্তরে রূপন্তী কিছুই বলল না। তার চেহারায় কেমন এক অস্বস্তির ছাপ।
বেদার সাহেব আবার বললেন, ‘আমি যখন ওযু করতে যাই তখন তুমি’ই কি পাখির খাঁচা নিয়ে গেলে?’
‘না’, উত্তর দিল রূপন্তী।
‘তাহলে! কে নিল?’, অবাক হলেন বেদার সাহেব।
‘আমি জানি না। তবে পাখিগুলো বারান্দায় আছে’।
‘রুহুল কোথায়?’
‘বেরিয়েছে হয়ত, রুমেই ছিল।’
‘এখন নেই?’
‘না’।
রূপন্তী আর বেদার সাহেবের কথোপকথনে গুলবাহার কোনো হস্তক্ষেপ করলেন না। তিনি দু’জনের কথা শুনে মজা পাচ্ছিলেন। দাদা-নাতনীর কথোপকথন গুলবাহারের বড্ড ভালো লাগে। তিনি মজা পান। কেনো তাদের কথোপকথনে তিনি এত মজা পান তা তিনি নিজেও জানেন না।
রূপন্তী নিজ ঘরে ফিরে গেলো। তার পিছু পিছু চায়ের খালি কাপ হাতে গুলবাহারও ধীর কদমে ভেতরের ঘরে চলে গেলেন।
বেদার সাহেব খানিকক্ষণ চুপচাপ থেকে আবার বিড়বিড় করে কি যেনো হিসাব কষতে লাগলেন।
Facebook Comments