Monday, January 17, 2022
Home > গল্প > উস্তাদ, পিছনে রোহিঙ্গা | আবুদ্দারদা আব্দুল্লাহ

উস্তাদ, পিছনে রোহিঙ্গা | আবুদ্দারদা আব্দুল্লাহ

Spread the love

বাবুল ভাই একটার পর একটা মালব্রো সিগারেট টেনেই যাচ্ছেন । হাঁটু ঘেঁষা সেন্টার টেবিলের উপর অ্যাশ ট্রে রাখা আছে কিন্তু সেই অ্যাশ ট্রে ব্যবহৃত হচ্ছে না। মালব্রো সিগারেটের ছাইগুলো সব ফ্লোরে পড়ছে। এরকম দৃশ্য কখনোই দেখা যায় না আজকে কেন দেখা যাচ্ছে সেটা বাবুল ভাইয়ের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি কুহু কাওসার ছাড়া আর কেউ জানে না। এই কারণে সে রহস্যময় হাসি হাসছে।  কোকিলের মতো হুবহু কুহু ডাক ডাকতে পারে এই কারণে কুহু কাওসার। বাবুল ভাই অনুকরণ জিনিসটা খুব পছন্দ করেন। কুহু কাওসার কোকিলকে অনুকরণ করে এই কারণে বাবুল ভাই খুশি হয়ে উপাধি দিয়েছেন কুহু কাওসার। সাথে পুরষ্কার তো আছেই। ছোট ভাই ক্যাটাগরীতে ছিলো সেখান থেকে এক লাফে  ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হয়ে গেল। মাসিক বেতনও নির্ধারণ করা হয়েছে কুহু কাওসারের জন্য। চার হাজার টাকা। কুহু কাওসারের দুইটা দায়িত্ব। এক নাম্বারে,  ডাক দেয়ার সাথে সাথে যেনো তাকে পাওয়া যায় আর দুই নাম্বার দায়িত্ব হচ্ছে,  সকাল বিকাল বাবুল ভাইয়ের বাসাটা সুন্দর করে ঝাড়ু দেওয়া।

কুহু কাওসারের আগে বাবুল ভাইয়ের বাসা ঝাড়ু দিতো হৃদয়। সুন্দর করে একাধারে তিনমাস  ঝাড়ু দেয়ার পরে বাবুল ভাই উপাধি দিলেন ঝাড়ু হৃদয়। মুগ্ধ হয়ে উপাধি দিয়েছেন। গত পরশু রাতে মালিবাগ রেললাইন থেকে পুলিশ ঝাড়ু হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে। ঝাড়ু হৃদয়ের ভয়াবহ অপকর্ম অনেকগুলোই আছে, কোনটার থেকে কোনটা কম না। ঝাড়ু হৃদয়ের গ্রেফতার হওয়ার কারণে বাবুল ভাই বিদ্ধস্ত। তাকে কোন কাজে পাঠালে সফল না হয়ে ফিরে আসেনি। বুকভরা সাহস। বাবুল ভাইয়ের পুরো টিমে ঝাড়ু হৃদয়ের মতো সাহসী আর কেউ আছে কি না সন্দেহ, সবগুলো ম্যাদম্যাদা। বাবুল ভাই তিরিক্ষি মেজাজে আছেন। যার কারণে সবাই একটু দূরে দূরে দাঁড়িয়ে আছে। পাঁচ নাম্বার মালব্রো শেষ করে  তামিল ছবির ভিলেনদের মতো মাথাটা তুললেন। প্রাসঙ্গিক একটা কথা বলে রাখি, সেটা হলো বাবুল ভাই তামিল ছবির প্রত্যেকটা ভিলেনকে অনুকরণ করতে  পছন্দ করেন এবং সবার নাম তার ঠোঁটের আগায় আগায় আছে। বাবুল ভাই মাথাটা তুলে সবাইকে এক নজর দেখলেন তারপর আরেকটা মালব্রো সিগারেট ধরালেন। আবারো মাথাটা নীচু করে ফেললেন। বাবুল ভাইয়ের মনমরা ব্যাপারটা আজকে কেউই ধরতে পারছেনা। মনে মনে সবাই ভাবছে,  ঝাড়ু হৃদয় কি তাহলে এতো বড় পারসন হয়ে গেল যে,  তাকে ছাড়া বাবুল ভাই অসহায়? মালব্রো অর্ধেক শেষ করে বাবুল ভাই মাথা তুললেন, হাত মুঠ করে মুখের উপর ধরে কাশি দিলেন তারপর পনেরো সেকেন্ড স্থায়িত্বের একটা হাসি দিলেন। সবার মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বাবুল ভাই হাসছেন। জয়েন্ট সেক্রেটারি কুহু কাওসারকে কাছে ডাকলেন। কুহু কাওসার দুই হাত পিছনে বেঁধে কুঁজো হয়ে বাবুল ভাইয়ের মুখের কাছে কান পাতলো,  জ্বী ভাই, বলেন।
বাবুল ভাই তামিল ছবির অনুকরণে কুহু কাওসারের বাম গালে ঠাশ করে একটা চড় বসিয়ে দিলেন। এক সেকেন্ড দুই সেকেন্ড তিন সেকেন্ড। তারপর নীরবতা শেষ করে বাবুল ভাই হো হো করে হেসে দিলেন। স্বর্গীয় একটা উন্মাদনা অনুভব হচ্ছে সবার মনে। কারণ একটাই, বাবুল ভাই হেসেছেন। ভিলেনদের অনুকরণের প্রানন্তকর একটা প্রচেষ্টা বাবুল ভাইয়ের মধ্যে অলটাইম কাজ করে। তিনি পাকাপোক্ত নিয়ত করেছেন, জায়গা-জমি, রক্ত-কিডনি বেঁচে  হলেও একদিনের জন্য তিনি তামিল ছবিতে ভিলেনের পার্টটা করবেন। সম্ভাবনা পাঁচ পার্সেন্ট তবে আশা ধরে রেখেছেন। কুহু কাওসারের কানের কাছে মুখ নিয়ে বাবুল ভাই ফিসফিস করে বললেন, আগামী দুইমাসের মধ্যে হৃদয় ঝাড়ুর মুক্তির কোন সম্ভাবনা নাই। অনেক টাকা ঢালতে হইবো। আপাতত সম্ভব না । জেলে থাকুক দুইমাস, অভিজ্ঞতা হবে। ভয়ংকর অপরাধীদের সাথে থাকলে অনেক কিছু শিখতে পারবো, এটা আমাগো জন্য ভালো না?
জ্বী ভাই অনেক ভালো।
আপাতত এই দুইমাসের জন্য ঝাড়ু হৃদয়ের জায়গায় একজন সাহসী লোক লাগবে। তোর নজরে কেউ আছে?
ভাই, আছে। কিন্তু তার ব্যাপারে আপনার কাছে বলতে ডর লাগে। আপনি অভয় দিলে বলতে পারি।
কে, তুই? তুই পারবিনা। আনসাক্সেস ফুল হইলে পরে তোরে জুতা দিয়া পিটামু। সহ্য করতে পারবি?
ভাই, আমি না তো। অন্য আরেকজনের কথা বলতে চাইছিলাম।
ছয় নাম্বার মালব্রো ধরাতে ধরাতে বাবুল ভাই বললেন, হুম বল।
আমার পরিচিত কালা কুট কুইট্যা  একটা রোহিঙ্গা আছে। সে নিজেকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরের  অন্যতম সন্ত্রাসী  আব্দুল হাকিমের সাবেক ডান হাত বইল্যা দাবী করে। ভীষণ সাহস আর বড় আকাইম্যা।
আকাইম্যাডার নাম কি?
কালা চাঁদ।
এটা কি আসল নাম?
জ্বী ভাই।
তামিল ছবিতে কিন্তু আকাইম্যা যারা অর্থাৎ ভিলেন তাদের কিন্তু আসল নাম নাই। সব ছদ্মনাম।
ভাই, রোহিঙ্গাডার আসল নামই কালাচাঁদ।  ফকফকা জোস্না রাতে ঐ রোহিঙ্গাডার জন্ম হয়েছিল এই কারণে ওর মা কিম্বা  দাদু এই দুইজনের যে কোন একজন এই নামটা রেখেছিলো।
শুদ্ধ বাংলা বলতে পারে? চিটাগাংয়ের ভাষা পারে তয় আপনি কিছু টাকা খরচ করলে শুদ্ধ ভাষা শিইখা ফেলাইতে পারবে। বহুত হারামী শালায়। আপনারে বেইচা খাইতে পারবো। না না উস্তাদ সরি। আপনারে না, আমাগোরে বেইচা খাইতে পারবো।
অতিরিক্ত কথা বলে বাবুল ভাইকে রাগিয়ে দিলে তখন উস্তাদ বলে সম্বোধন করার নিয়ম। ঐ সময় ভাই বলে ডাকা সম্পূর্ণ নিষেধ। বাবুল ভাই মাথাটা এদিক ওদিক ঘুরিয়ে বললেন,  ঠিক আছে আজকে সন্ধ্যায় নিয়ে আসিস। সন্ধ্যার সময় বাবুল ভাইয়ের পার্সোনাল রুমে মিটিং। বাবুল ভাই বিদেশী চুরোট ধরিয়েছেন। বিদেশ থেকে এক ছোটভাই পাঠিয়েছে। ছোটভাইটা পাঁচ বছর আগে বাবুল ভাইয়ের সাথে বেয়াদবী করে এলাকা ছাড়া হয়েছিল। এমন সময় বেয়াদবী করেছিলো যখন বাবুল ভাইয়ের পার্টি দেশের ক্ষমতায়। এখন অবশ্য যুগ পাল্টেছে তারপরেও ক্ষমতা তো একটু আকটু আছে। ছোটভাই বিদেশ থেকে কয়েকদিন পরেই আসবে। আসার আগে একটু ঘুষ দিয়ে বাবুল ভাইকে খুশি করে ঢুকতে চাচ্ছে, এই আর কি। চুরোট পাঠিয়েছে প্রায় ত্রিশটা। একটা কেবল ধরিয়েছেন।
বাবুল ভাই কুহু কাওসারকে ডাক দিলেন, এই কুহু?
জ্বী উস্তাদ।
কালা চাঁদ কোথায়?
উস্তাদ, পিছনে রোহিঙ্গা। এই কালা, লাব্বাইক ক।
কালা চাঁদ বাবুল ভাইয়ের পিছনে দাঁড়ানো ছিলো। সামনে এসে বললো, লাব্বাইক।
এইটা কি মাস চলে?
উস্তাদ, এইটা রোজার মাস।
রোজা আছোছ?
না উস্তাদ ।
তুই মুসলমান না?
কালা চাঁদ ইতস্তত করে। মাথা চুলকায়।
জ্বী উস্তাদ, মুসলমান।
এই জায়গা কয়জন রোজাদার আছোছ?
তিনজন হাত তুললো।
বাবুল ভাই এদিক ওদিক কয়েকবার তাকিয়ে বললেন, ঠিক আছে তোরা যা, ছুটি।  আমি সিগারেট খাচ্ছি। এই ধোঁয়ার কারণে রোজা ভাইঙা যাইতে পারে।
বাবুল ভাই রোহিঙ্গা কালা চাঁদের দিকে নজর দিলেন। নাক চুলকাতে চুলকাতে বললেন, কি খবর বল?
জ্বী উস্তাদ ভালো।
কেমন ভালো?
অনেক ভালো উস্তাদ।
আমার সাথে যারা থাকে তারা অলটাইম হাসিখুশি  থাকে, তুই থাকতে পারবি?
জ্বী উস্তাদ পারবো।
একটা হাসি দে তো।
বাবুল ভাইয়ের কথার আকস্মিকতায় কালা চাঁদ ঘাবড়ে গেলো । কুহু কাওসার পাশ থেকে অভয় দেয়, আরে বেটা, হাসোছ না ক্যান? ভাইয়ে মিস্টি হাসি খুব পছন্দ করে। দে, হাসি দে।
কালা চাঁদ কিছু বুঝে উঠতে পারে না। বাবুল ভাই কালা চাঁদের গালে ঠাশ করে একটা চড় বসিয়ে দিলো। দে, হাসি দে।
কালা চাঁদ তাড়াতাড়ি হেসে ফেললো।
মুখের থেকে হাত সরা।
কালা চাঁদ মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিলো।
আগামীকাল দুইটায় কুহু কাওসারের সাথে নবাবগঞ্জ যাবি।
জ্বী উস্তাদ।
যা বলার সব বলে কুহুরে বইলা দিছি। ও যা বলবে তা শুনবি। যদি ঠিকঠাক মত কাজ করে আসতে পারিস। তাহলে বিশ হাজার টাকা পাবি। নগদ টাকা, কোন ফাঁকিবাজি করিনা। আসবি, সাথে সাথে দিয়ে দিবো।
জ্বী উস্তাদ।
পরেরদিন সন্ধ্যার দিকে কালা চাঁদ আর কুহু কাওসার নবাবগঞ্জ থেকে ফিরে আসলো। মুখে হাসি। সাকসেসফুল।
চার লাখ টাকা সফলভাবে ছিনতাই করে এসেছে সাথে একজনের লাশও ফেলে এসেছে। তবে লাশ না ফেললেও পারতো। এর জন্য অবশ্য বাবুল ভাইকে কৈফিয়ত দিতে হবে। কথায় কথায় খুন খারাপী পছন্দ করেন না। বাবুল ভাইয়ের রুলস হলো,  মানুষ মারা ছাড়া যা করতে পারো করো, সমস্যা নেই। কিন্তু মাডার করলে সমস্যা আছে। থানা পুলিশে দৌড়াদৌড়ি বাবুল ভাইয়ের পছন্দ না।
বাবুল ভাই নিজের পারসোনাল রুমে বসে আছেন। মেজাজ অনেক খারাপ। মালব্রো সিগারেটের তিনটা প্যাকেট হঠাৎ করে  উধাও। একজনকে মালব্রো আনানোর জন্য  দোকানে পাঠানো হয়েছে। মালব্রো না আনা পর্যন্ত স্বস্তি নেই। এই মুহুর্তে দেখা করতে গেলে চড় থাপ্পড় খেতে হবে যার কারণে কুহু কাওসার আর রোহিঙ্গা কালা চাঁদ রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় আধাঘন্টা অপেক্ষার পরে বাবুল ভাই কুহু কাওসারকে ডেকে পাঠালেন।
কুহুর বাচ্চা, খবর কি, ক?
ভাই, ভালো। টাকাগুলো সব নিয়ে এসেছি। তবে একটা সর্বনাশ হয়ে গেছে।
এক এক সব ঘটনা বলতে থাক।
জ্বী ভাই। ভাই, রোহিঙ্গা শালার ভায়ে খামাখা একজনরে ফেলায়া দিছে। মাইরা ফেলানোর কোন দরকারই ছিলো না। অনেক মানা করেছি। কথা মোটে শুনেই না!
তোর কথা একদমই শোনে নাই?
না ভাই।
ডাক দে।
ভাই, ঐ তো আপনার পিছনে।
রোহিঙ্গা কালা চাঁদ বাবুল ভাইয়ের পিছন থেকে সামনে এসে দাঁড়ালো। ভাই, কানে ধরছি, ভুল হয়া গেছে।
এতোবড় ভুল হইলে চলবো? মানুষ মারার এই বদভ্যাস কবে থেকে?
উস্তাদ, ভুল হয়া গেছে। আর হবে না।
কানে ধইরা পাঁচশো বার কানে ধইরা উঠবোস কর।
জ্বী উস্তাদ।
এরকম ভুল কোনদিন আর হবে?
জ্বী না উস্তাদ, আল্লাহর কসম।
আল্লাহর কসম দিস না। কসমের ওজন বুঝোছ?  কথায় কথায় কসম খাইলে আল্লাহ পাক নারাজ হয়।
কালা চাঁদের একই রকম ভুল ঠিক দুইদিন পরে আবার হলো। তবে এবার আর বাবুল ভাইয়ের শাস্তি দিতে হলো না। বাচ্চা  অপহরণ করতে যেয়ে জনগণের হাতে গণধোলাই খেয়ে আধামরা অবস্থা। পায়ের অবস্থা তো জঘন্য। মাথা ফেটে গেছে।  বাবুল ভাই অবশ্য চিকিৎসা করানোর রিস্কি নিলেন না। চিকিৎসা করাতে গেলেই হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হবে। কি দরকার, এতো ঝাই ঝামেলার? রোহিঙ্গা কালা চাঁদকে চিকিৎসা বাবদ পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে দিলেন। বাবুল ভাই আবারো কঠিন চিন্তিত হয়ে পড়লেন। বাবুল ভাই কঠিন চিন্তিত বুঝার কারণ হলো,  যখন চিন্তিত থাকেন তখন সেন্টার টেবিলে অ্যাশ ট্রে থাকা সত্ত্বেও সেটা ব্যবহার করেন না। সিগারেটের ছাইগুলো সব ফ্লোরে পড়ে। বাবুল ভাই মালব্রো সিগারেট খাচ্ছেন। কুহু কাওসারকে ডাক দিলেন।
কুহু!
জ্বী উস্তাদ।
কি মাল আনলি? এই রোহিঙ্গার বাচ্চা রোহিঙ্গা থেকে ঢাকা শহরের বস্তির পুলাপানই তো অনেক সাহসী।
উস্তাদ, কালা চাঁদের সাহস অনেক কিন্তু জায়গামতো খাটায়তে পারতেছেনা।
ওরে দরকার নাই। নতুন আরেকটা দেখ।
উস্তাদ, ঢাকা শহরের বস্তির পুলাপান নাকি রোহিঙ্গা?
কুহুর বাচ্চা কুহু, আবারো রোহিঙ্গা কিসের জন্য? থাপড়ায়া দাঁত ফেলায়া দিমু।
উস্তাদ, রোহিঙ্গা ছাড়া বড় বড় অপরাধ করার লোক ইদানিং কম। অল্প কিছু টাকা দিলেই ওরা কাজ করে দেয়। সহজ কাজ, কঠিন কাজ সবক্ষেত্রেই ওদের রেট কম। টাকার অভাবের কারণে এই অবস্থা। এই জিনিসটা ভালো না উস্তাদ?
ঠিক আছে দ্যাখ তাহলে।
কুহু কাওসারের জোর প্রচেষ্টায় দুইটা রোহিঙ্গা পাওয়া গেছে। আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়েছে। বাবুল ভাই গুরুত্বপূর্ণ মিটিং সন্ধ্যা ছাড়া করেন না। সোমবার সন্ধ্যায় বাবুল ভাই একটা খারাপ সংবাদ শুনলেন, ঝাড়ু হৃদয়কে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রিমান্ডের মার ভীষণ শক্ত। স্বীকার করে ফেললেই সর্বনাশ। সুতরাং বাবুল ভাই আত্নগোপনে চলে গেলেন। মঙ্গলবার দিন বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাবুল ভাইয়ের অফিসে এসে ডিবি পুলিশ হানা দিলো। অফিস খাঁ খাঁ করছে কিন্তু দুইজন মানুষকে পাওয়া গেল। দুইজনই রোহিঙ্গা, বাবুল ভাইয়ের এপয়েন্টমেন্ট প্রাপ্ত। ডিবির জৈষ্ঠ কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ বাবুল ভাইয়ের পার্সোনাল রুমেই ছোটখাটো একটা রিমান্ডের ব্যবস্থা করে ফেললেন। শরীরে কারেন্টর হিট দিতেই দুই রোহিঙ্গা বাবুল ভাইয়ের নাম্বারটা দিয়ে দিলো। বাবুল ভাইয়ের নাম্বারে ফোন দেয়া হয়েছে। রিং হচ্ছে। ডিবির জৈষ্ঠ কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ কান খাঁড়া করে রেখেছেন।

Facebook Comments