Saturday, October 16, 2021
Home > গল্প > শারীরিক ভালোবাসার তৎকালীন সংঘর্ষ | সৌমাভা পাল

শারীরিক ভালোবাসার তৎকালীন সংঘর্ষ | সৌমাভা পাল

সৌমাভা পাল

ছেড়ে যাওয়াই বিকল্প যখন, আটকাবো না আর, কয়েকশোটা বসন্তের পরেও বিচ্ছেদই হলো সার।

আটকে রাখবো জোর করে প্রতিবারের মতন। তুমি, তুমি গুছিয়ে নিও জীবনটাকে এক্কেবারে নিজের মতন করে। এই অসহ্যকর মেয়েটা আর যাবেনা সময়ে অসময়ে হাজারটা “কি-কেন” এর তীর ছুড়তে যাবেনা আর। কথা দিলাম সরে যাবো।আমার কেন জানিনা মনে হচ্ছে তুমি খুব, খুব ভালো থাকবে। অসলে “মনে হচ্ছে” বললে খুব ভুল হয়ে যাবে, আমার না কোথাও না কোথাও একটা জোড়ালো বিশ্বাস হয়ে যাচ্ছে তুমি অন্য মানুষের কাছে খুব ভালো থাকবেই। অন্য মানুষ আরও বেশি ভালো রাখবে তোমায়। আমার থেকেও অনেক বেশি ভালো রাখবে। আমি? মনে রাখবো কিনা তোমায়? কে জানে। কিছুই জানা নেই জানো তো!
এইযে দেখো না, প্রায়শই আমাদের একে অন্যের ভেতরে ডুবে থাকা দুই জোড়া ঠোঁটেরা কি জানতো, যে তারা শেষ বারের মতন একে অন্যের ছোয়াটা আমাদের সর্বশেষ সিধান্ত নেওয়ার ৩দিন ২১ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আর ৫১ সেকেন্ড আগেই হয়ে গেছে। ওহ, এইটা তো তোমার প্রশ্নের উত্তর ছিলনা , তাইনা?


আরও পড়ুন : সুইসাইড নোট | সৌমাভা পাল


তোমাকে মনে পড়বে কিনা তা আমার সত্যই জানা নেই। তুমি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর যখন আস্তে আস্তে জীবনটা গুছিয়ে নিতে থাকবে, তখন আমিও ওই হৃদয়ের ভগ্নাবশেষে “ভালো আছি” এর প্রলেপ আর এ বাড়ির ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার জামাই এর জন্য “সুযোগ্য পাত্রীর” পরত মেখে তৈরি করে নেব নিজেকে। বিদেশ ফেরত কোনো লাটসাহেব আমার বাবাকে কন্যাদায়ভার থেকে মুক্ত করে নিয়ে গিয়ে ফেলবে কোনো বিদেশ বিভুঁইতে। আমার বাবার চওড়া বুক, দ্বিগুন মাপ পাবে। বিশাল সোর্স থাকা এন আর আই বরের কল্যাণে হয়তো আমার ৯টা ৬টার এডিটরের চাকরি জুটেও যাবে। আর বলাই বাহুল্য তার হয়তো আমার থেকেও নামি চাকরি। অফিস ফেরতে, একই গাড়িতে আসতে হবে। হয়তো বা সিগন্যাল ক্রসিং এর জ্যামে চুমুর কাড়াকাড়ি হবে। তারপর রেস্তোরাঁ থেকে দামী মদ কিনে এপার্টমেন্ট এ ফিরবো। লিফটে দরজা বন্ধ আর খোলার মধ্যেখানে হয়তো আমার গলায় কয়েকবার কামড়ের দাগ পড়ে যাবে। চুলেও একটু টান পড়ার জন্য খুলে যাবে । দরজা খুলে যখন ভেতরে ঢুকবো, তখন বরের হাতে মদের বোতল নিয়ে রেফ্রিজারেটরে রাখব। হাত মুখ ধুতে ধুতে গলায় বুকে প্রতি রাতের অভ্যস্ত দাগগুলো নিজেদের জাহির করবে। এক ঝলক দেখতে না দেখতেই কোমরের কাছটায় তার আঙুলের স্পর্শ অনুভব করব। হাত ছাড়িয়ে তোয়ালে দিয়ে হাত মুখ মুছে টেবিলে নতুন রাইটারদের ফাইল গুলো খুলবো। চোখ দুটো ক্লান্তিতে ভেঙে আসবে। গলার কাছে সদ্য এঁকে দেওয়া আদরের দাগগুলো অস্বস্তিবোধ করবে। কোনো মতে কয়েকটা ফাইল দেখবো। যখন শরীরটা একেবারেই চলতে চাইবে না একটু ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াবো। পিছন থেকে ডাক শুনবো হয়তো সময় অসময়ে আমার শরীর জুড়ে আদরের দাগ এঁকে দেওয়া কারিগরের। ফিরে যাবো। দামি মদের গন্ধ বেরোবে তার সারা শরীর দিয়ে। ক্লান্ত আমিকে দুর্বল, আরো দুর্বল করতে শুরু করবে গন্ধটা। একটা সময়ে সেই গন্ধের উপসমটার সাধ পাবো আমার ঠোঁটে। ঠোঁটজোড়া সাধটুকু বুঝিয়ে দেবে তখন। বুঝবো শিল্পাপায়নে রত হয়েছেন কারিগর। ক্রমে কয়েক ঢোক আমার খাদ্য নালি দিয়েও নেমে পাকস্থলীতে আছড়ে পড়বে। ক্লান্ত, দুর্বল আমি নেশাগ্রস্থ হব। আস্তে আস্তে এক একটা আস্তরণ শরীর বেয়ে কারিগরের সাহায্যে নামতে শুরু করবে। মাঝরাতে যখন শেষ চুমুটা নেমে আসবে আমার কপালে। যখন পাশের লোকটাকে অচেনা বানিয়ে একটা চেনা অথচ ঝাপসা মুখ ভেসে ভেসে উঠবে, তখন সদ্য প্রশান্তি নেমে আসা শরীরে তেঁতো ভাবটা ছেয়ে ফেলবে। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত, দুর্বল আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারবো না কি হচ্ছে। বুঝেও বুঝতে চাইবো না হয়তো। পাশে শুয়ে থাকা খুব চেনা লোকটাকে খুব অচেনা বানিয়ে গ্রাম বাংলার এক প্রেমিকের কথা মনে পড়বে তখন। বুঝবো চোখের পাতায় দামি মদ আর কিশোরিবেলার আকস্মিক আবেগ হীরের কুচির মত জমাট বেঁধে, চোখের পাঁচিল টপকে গলে বেয়ে নেমে আসছে। বিষাদের অতল গভীরের কোলে মিলিয়ে যেতে থাকবো আমি। শারীরিক ভালোবাসার তৎকালীন সংঘর্ষে ক্লান্ত ঠোঁটে তখন দুই এক বার নাম শুনলেও শোনা যেতে পারে তোমার নাম। না না নাহ, বিশ্বাস করো, তোমায় কক্ষনো মনে পড়বে না…..।

Facebook Comments