Monday, January 17, 2022
Home > গল্প > ক্ষত! সালমান সাদের গল্পবাজি

ক্ষত! সালমান সাদের গল্পবাজি

Spread the love

ক্ষত

কে আসে আবার?
আমি ঘাড় তুললাম। বিরক্তি।

মোড় ঘুরে এই রাস্তায় নেমেছে সাইকেল চালক তিনটা ছোকরা মানুষ। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় এদের মুখ ঠাহর করা গেলো। এখানকার ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে, শ্রমিক, থাকে ওখানের মেসেই। শহর থেকে সিনেমা দেখে ফিরলো নাকি?
অত ভেবে কাজ কী, পাশ ফিরে শুই আবার। বুত্তকে দেখি একবার।

ও ঘুমোচ্ছে। চোখেমুখে নিবিড় শান্তির প্রলেপ। একঘুমে রাতকাবার। একটু শব্দ হতেই আমার মতো জেগে ওঠেনা। ঘাড় উঁচায় না। বেখবর। লাইনে আনার চেষ্টা করছি সেই বিয়ের পর থেকেই৷ সোজা হয় না। অলস একটা আমার। বসে বসে ঝিমায় খালি। উম্মা…হ!

আমার পরিচয়টা দেই। আমি বুত্তি। একজন সুশীলা কুকুর আমি৷ আমি এবং আমরা থাকি এক ছোট্ট শিল্পাঞ্চলে। একটা সংরক্ষিত এরিয়া। য়ার ভেতরে দশ-বারোটি কোম্পানির ফ্যাক্টরি, ইন্ড্রাট্রি।

আমরা এখানেই থাকি সারাদিন। রাতেও৷ আমি মাটিতে সরাসরি মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়তে পারি। বুত্তটা পা বিছিয়ে হাত বিছিয়ে তার ওপর আরামে মাথা রাখে। পাজিটা বড্ড আরামপ্রিয়।

ওহ, কথা বলতে বলতে খেয়ালই করিনি, আমার মাথার কাছের বেঞ্চিমতো জায়গায় একটা মানুষ এসে বসেছে। ধুপ করে কখন এসে বসে গেলো। জায়গাটাতে আমরা মাঝেমধ্যে শুই। স্থানটা অপরিস্কার না সূচিত, তা না দেখেই নিতম্ব বিছিয়ে দিল!
ধুর মানুষ তো মানুষই। আস্ত একটা মানুষ কোথাকার।

মুঠোর মধ্যে কী একটা চারকোণা লম্বা বাক্সর মত নিয়ে তাতে লোকটা করছে কী? একা একাই হাসছে?! তার মুখে একটা নীলচে আলো এসে পড়ছে।
সে এমন কী দেখছে ওটায় চোখ ডুবিয়ে, তার কপালে মুখে ঘাম করছে রীতিমতো, পাজামার মধ্যের অংশটা তার কীভাবে ফুলে উঠছে। মানুষটাকে অস্থির দেখাচ্ছে। আমাদের দিকে লোকটা এবার তাকালো। আমি তো নজর করেই ছিলাম। মুখ দিয়ে অকারণেই শিষ ধ্বনি করলো একবার৷ আমি এবার মাটি থেকে মুখ তুলে আরেকবার লোকটিকে পরখ করলাম।

বুত্তর ঘুম ভেঙে গেছে। ঘোমের ঘোর কাটেনি, তাই পারিপার্শ্বিক জ্ঞান স্পষ্ট হতে সময় নিচ্ছে। সে নির্বিকার উঠে দাঁড়িয়ে শরীরটা ধনুকের ছিলার মতো করে একটা টান দিলো, তারপর দ্রুত ঝাড়া দিলো শরীর। বড় ভালো লাগে দেখতে, ও, ওর চারপাশ, ওর সবকিছু।

কী বুঝল, ও আমার পাশ ছেড়ে উঠে গেলো। আমি কিছু বললাম না ডাকও দিলাম না, শুয়েই দেখতে থাকলাম দুষ্টুটার কাণ্ড। কাঁদা পারিয়ে, রাস্তার ওইপারে ফ্যাক্টরির গেটের কাছের উঁচু জায়গাটা সে কিছুক্ষন দেখে নিলো, ঘ্রাণ শুঁকলো এখানে ওখানে।
তারপর পেছনের পা বিছিয়ে সামনের পা’র ওপর মাথা রেখে আবার নির্বিকার ঘুমিয়ে পড়লো। পাঁচ রাত্রির নির্জনতা ও নিষ্পাপতা যেন ছায়া বিছিয়েছে ওর ঘুমন্ত প্রশান্ত মুখে।

ফাবিঅায়্যি আলা ই রাব্বিকুমা তুকাযযিবান…
কোথাও থেকে সুরলহর বাতাসে মিশে চরাচর ভাসিয়ে দিচ্ছে৷ হু, তারাবি নমাজের সময় এখন। রাস্তাঘাটে মানুষজন নেই তাই।

দেয়ালের ওইপাশে কারো আনাগোনা, কাদেরও ছায়া দেখা যায়? ওখান থেকে উঁকিঝুকি দিচ্ছে, ওটা কুরি না? বেটির সাহস বাড় বেড়েছে। আমার বুত্তর দিকে কেমন চোখ টেরে টেরে তাকাচ্ছে৷ ওর মধু চোখ আমি গেলে দিচ্ছি দাঁড়াও। অন্ধকারের আড়াল থেকে এবার কুন্ডা, শুন্ডা আর টুন্ডাও দেখি বেরোল। বখাটে কুকুরদল।
আমাদের এখানে নিয়ম আছে৷ একপাড়ার কুকুর অন্যপাড়ায় থাকতে আসা নিষেধ। দিনের বেলা বিচরণ অবাধ৷ কিন্তু রাতে যে যার জায়গায় ফিরে যেতে হয়, এটাই নিয়ম। এদেরকে তাড়া দিয়ে এসে আমি আবার আগের জায়গায় আরাম করে বসলাম৷
মানুষটা আবার কেমন শব্দ করলো আমার দিকে চেয়ে৷ পশুদের চোখেমুখে নাকি অভিব্যক্তি ফোটেনা মানুষের মতো। কুকুরমেয়ে না হয়ে মানুষমেয়ে হলে ভয়াবহ একটা ঝামটা দেয়া যেতো।

লোকটা চারকোণা জিনিষটায় তাকিয়ে এত উত্তেজিত হয়ে আছে কেন?

এরপরের ঘটনাপ্রবাহ অভাবিত, ভয়াবহ । হয়তো আমার জন্য৷ নয়তো মানুষটার জন্য৷

বুত্ত তখনও ঘুম। লোকটা হঠাৎ স্প্রিংয়ের মতো বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেলো। আমার দিকে সহসা একটা ঝাপ দিয়ে আমার দু’ পা ফাকা করে চেপে ধরলো।
আমার সাথে কী হচ্ছে এটা, আমি আচমকা বিস্মিত হওয়ার ঘোর কাটিয়ে দাঁত মুখ খিচে আমার পুরো শরীরের বল উরুতে এনে জোগাড় করলেও পা দুটি এক করতে পারছিনা। কী অপ্রতিরোধ্য তেজ মানুষের শরীরে।
মানুষটা কোমরের নীচের ফোলা অংশটি অনাবৃত করছে যে! এও কি হয়, হতে পারে!
আমি আতংকে ভেজা চোখ বুজে কতক্ষণ শক্তির বিপরীতে জুঝে রইলাম জানিনা, হঠাৎ আবার বোধ করলাম পাদুটো অাঁটুনিমুক্ত হালকা হয়ে গেল।
দেখলাম, বুত্ত কখন যেন জেগে উঠে নীরবে আচমকা লাফিয়ে এসে মানুষটার খোলা তলপেটের নীচের অংশটিতে কামড়ে ধরে আছে। এক সেকেন্ডেরও অর্ধেক সময়ে বিকট একটা চিৎকার হলো মাত্র। তারপর কাটা কলাগাছের মতো ধপাস করে মূর্ছা গেলো বিভীষিকাটি৷ আমি দ্রুত দূরে সরে এলাম। ওর দাঁতে ভয়ংকর বিষ। বুত্তটার কাজ শেষ হয়ে এলো বোধয়

ও ভালো কথা৷ আজ রাতে ডিনারটা বুত্তর এখনও সাড়া হয়নি৷ আমারও। আজ তাহলে জব্বর খানা হচ্ছে…
ওই মানুষটার উরু থেকে ছিঁড়ে নেয়া বেশ বড়সড় থলথলে শিশ্নটা বুত্ত মুখে করে আনছে…

Facebook Comments