Wednesday, January 19, 2022
Home > নতুন বই > “সৃজনশীল বইয়ের সৃজনশীল প্রচারণা”

“সৃজনশীল বইয়ের সৃজনশীল প্রচারণা”

Spread the love
রিয়াজ মাহমুদ : গত ২২ মে নবীন লেখক মোহাম্মদ সাইফূল ইসলামের প্রকাশিতব্য সায়েন্স ফিকশন বই “প্রজেক্ট প্রজেক্টাইল” এর প্রচ্ছদ নিয়ে ‘প্রচ্ছদের গল্প লিখে বই জেতার সুযোগ’ শিরোনামে পাঠকদের জন্য একটি সৃজনশীল আয়োজন করেছিল উপন্যাস প্রকাশন। উদ্যোগটি পাঠকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে । উপন্যাস প্রকাশনের সাথে কথা বলার পর জানা যায় মূলত বিজয়ী তিন পাঠকের অনুমান গল্পগুলো ছিল প্রকাশনা-লেখক-পাঠকদের মাঝে আত্মিক যোগাযোগের একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা এবং উপন্যাস প্রকাশনা এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় সবসময় ৷ উল্লেখ্য, “প্রজেক্ট প্রজেক্টাইল” বইটি গত ৩১ মে ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে৷
 
প্রথম বিজয়ী সৈয়দা ইসরাত জাহান কনকের প্রচ্ছদ দেখে অনুমান গল্পটি ছিল লেখক মোহাম্মদ সাইফূল ইসলামের সায়েন্স ফিকশনধর্মী “প্রজেক্ট প্রজেক্টাইল” বইয়ের প্রচ্ছদ ছবিতে ফুটে উঠেছে বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির অপরূপ মেলবন্ধন।
 
প্রচলিত বিজ্ঞানের দুটো প্রভাব আমাদের জীবনে ঘটে। ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক। প্রচ্ছদে, ঋণাত্মক বিজ্ঞানের আভাস স্পষ্ট। মানবরূপী যন্ত্র রোবটের হাতে রাইফেল কিংবা মরণাস্ত্র। মহাকাশ, পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ, খুব সম্ভবত একটা ল্যাবরেটরীও দেখতে পাই প্রচ্ছদে। প্রতীয়মান হয়, কাল্পনিক বিজ্ঞানের রহস্যময় গল্পের রস আস্বাদিত হবে এ বইয়ে।
ছবিতে, এক বালক বিজ্ঞানের এহেন ঋণাত্মকতাকে পিছনে ফেলে বাঁশিতে সুর তুলছে।
হতে পারে, মরণাস্ত্রের সাথে এটি মধুর যুদ্ধ। বিজ্ঞান যে আবেগটুকু কেড়ে নিয়েছে তারই এক তীব্র প্রতিবাদ এই বাঁশির ঝংকার। কিংবা আমরা জসীমউদ্দীনের সেই বিখ্যাত কবিতার মত বলতে পারি –
 
“যে মোরে দিয়েছে বিষ ভরা বান,
আমি দেই তারে বুক ভরা গান
কাটা পেয়ে তারে ফুল করি দান,
সারাটি জনম ভর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই, যে মোরে করেছে পর।”
 
 
দ্বিতীয় বিজয়ীর রুপন্তী শাহরিন প্রচ্ছদ দেখে অনুমান গল্পটি ভেবেছেন এভাবে, যে — “বইটি প্রথম নজরে দেখলে মনে হচ্ছে এটি একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর বই। এলিয়েন, স্পেসশিপ, মহাবিশ্ব নিয়ে কোনও কাহিনী, যেখানে পৃথিবীতে ঘটে গেছে অবিশ্বাস্য কিছু, যার সমাধান আছে বংশীবাদক নায়ক চরিত্রের হাতে। কিছুটা হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার মত তার কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক চরিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।
 
প্রচ্ছদ এ বোঝা যাচ্ছে, মহাবিশ্ব বিপদের সম্মুখীন, মনিটরের দিকে তাকিয়ে এখানে মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের কোনও যুদ্ধ বা কোনও মানুষের সর্বোচ্চ ক্ষমতা খাটানোর মাধ্যমে কোনও আসন্ন বিপদকে আটকানোর প্রচেষ্টা হয়ত বইটির প্রধান গল্প তেমনটাই মনে হচ্ছে। আর সায়েন্স ফিকশন যেহেতু, মহাকাশ বিজ্ঞানের সফল বাস্তবায়ন হয়ত বইটির প্রতিপাদ্য বিষয়।”
 
 
তৃতীয় বিজয়ী সাজিব সাহরিয়ান তাঁর প্রচ্ছদ দেখে অনুমান গল্পে লিখেছেন – ” একটি সিক্রেট প্রজেক্টে অনেকগুলো রোবট নিযুক্ত করা হল। রোবটগুলো হাই
ফাংশনালিটি সম্পূর্ণ এবং আধুনিক ওয়েপান ইউজে এক্সপার্ট।
 
এই সিক্রেট প্রজেক্টের রোবটগুলো দিয়ে পৃথিবীর উপর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সাথে
সাথে মহাবিশ্বের অন্যান্য গ্রহের বাসিন্দাদের উপরও নিয়ন্ত্রণ নেয়া সম্ভব।
 
এই রোবটগুলো খুবই ভয়ংকর। মানুষের উপর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য প্রয়োজনে এরা
গণহত্যাও করতে পারে।
 
এই রোবটগুলোকে থামাতে হবে। প্রজেক্টকে কখনও সফল হতে দেয়া যাবে না। এইজন্য প্রয়োজন যে মানুষগুলো এই প্রজেক্ট চালাচ্ছে তাদের কাছ থেকে রোবটগুলোকে নিয়ে বহুদূরের কোনও জায়গায় পালিয়ে যাওয়া।
 
শুধু একজন হ্যাকারই পারে সিস্টেমে ঢুকে রোবটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে। সে
হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মত রোবটগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে, তাদের সঙ্গে করে
নিয়ে দূরে কোথাও চলে যাবে এবং রোবটগুলোকে ধ্বংসের মাধ্যমে তার মিশন
কম্পিলিট করবে।”
 
এই ব্যতিক্রমী চিন্তা পাঠকমনে কতটুকু সাড়া ফেলেছে সেটি অনুমান গল্পের গভীরতা দেখে সহজেই অনুমান করা যায় ৷ বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতে এই ধারাবাহিকতা আরও এগিয়ে যাক আমরা তাই প্রত্যাশা করি ৷
Facebook Comments