সাকিব-রশিদের অলরাউন্ড নৈপূণ্যে ফাইনালে হায়দরাবাদ

রশিদ খানের দুর্দান্ত পারফরমেন্স, সাথে সাকিব আল হাসানের যোগ্য সঙ্গ। তাতেই কুপোকাত কলকাতার নাইটরা। শুক্রবার কোয়ালিফায়ার টু-তে ঘরের মাঠেই শাহরুখের দলকে ১৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে চলে গেলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

কলকাতা এদিন টস জিতে হায়দরাবাদকে আগে ব্যাট করতে পাঠায়। সাত উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে দলটি। সাকিব আল হাসান ২৮ রান করার পাশাপাশি ১৬ রান দিয়ে এক উইকেট নেন।

রান তাড়া করতে নেমে সুনিল নারিন আর ক্রিস লিন দারুণ শুরু করেন। ৮৭ রানে এক উইকেট থেকে ১১৮ রানে ছয় উইকেট হয়ে যায় তাদের!

নারিন ফেরেন ৩.২ ওভারের মাথায়। দলের রান তখন ৪০। ১৩ বলে ২৬ করে যান। চারের মার ছিল চারটি, ছয় একটি।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ক্রিস লিন এবং নীতিশ রানা ৪৭ রান যোগ করেন। রানা (২২) রানআউট হলে এই জুটি থেমে যায়। এরপর রশিদ খানকে রিভার্স-সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন আগের দশ ম্যাচে একটি অর্ধশতক পাওয়া রবিন উত্থাপা (২)। চকিত ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আঘাত হানেন সাকিব। এবার অধিনায়ক কার্তিককে (৮) বোল্ড করেন তিনি। কাছের বলে কাটশট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন। সাকিব তিন ওভারে এক উইকেট নিতে খরচ করেন ১৬ রান।

এতক্ষণ একপাশ আগলে রাখা ক্রিস লিন ভুল করেন রশিদ খানের বলে। রশিদ শর্টস্কয়ার লেগে ফিল্ডার রেখে পায়ে-পায়ে বল করছিলেন। তারই একটিতে লিন প্যাডেল সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ। যাওয়ার আগে ৩১ বলে ৪৮ রান করে যান। ১০৮ রানের মাথায় পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেন লিন।

এরপর হাল ধরার চেষ্টা করেন অ্যান্ড্রু রাসেল এবং শুভম গিল। রাসেল জেঁকে বসার আগেই তাকে ফিরিয়ে দেন দুর্বোধ্য রশিদ খান। রশিদের চার ওভার শেষ হতে দেখে উইলিয়ামসন শর্টস্লিপে ফিল্ডার আনেন। ১৫তম ওভারের চতুর্থ বলটি রশিদ তার গুগলি অস্ত্র ছাড়েন। রাসেল কাট করতে গিয়ে ওই শর্টস্লিপেই ধাওয়ানের হাতে ধরা পড়েন। সাত বলে তিন করেন তিনি।

শেষ চার ওভারে ৪৩ রান দরকার ছিল শাহরুখ খানের কেকেআরের। শেষ ওভারে ১৯। পীযুষ চাওলা, শুভম গিলরা সেটি নিতে পারেনননি।

এর আগে ওপেনিংয়ে ভাল সূচনা করেন ঋদ্ধিমান আর শেখর ধাওয়ান। ধাওয়ান ২৪ বলে ৩৪ ও ঋদ্ধিমান ২৭ বলে ৩৫ রান করে আউট হন।
এরপর দলের প্রয়োজনে দারুণ একটি ইনিংস খেলেছেন সাকিব। ২৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ২৮ রান করে নন-স্ট্রাইকিং এন্ডে থেকেও দুর্ভাগ্যজনক রানআউটের শিকার হন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার।

কিন্তু এরপরই বিপর্যয়ে পড়ে হায়দরাবাদ। পরপর আরও কয়েকটি উইকেট হারানোয় এক সময় মনে হচ্ছিল রান দেড়শ’র কোটাই পেরোতে পারবে না। কিন্তু শেষদিকে এসে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সমর্থকদের হতাশা কাটিয়ে দিয়েছেন আফগানিস্তানের রশিদ খান। বোলিংয়ে বিখ্যাত হওয়া এই লেগস্পিনার পুরোদুস্তোর ব্যাটসম্যান হয়ে দলকে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি এনে দিয়েছেন। মাত্র ১০ বলে ২ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কায় হার না মানা ৩৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

কলকাতার পক্ষে ৪ ওভারে ২৯ রানে ২টি উইকেট নেন কুলদ্বীপ যাদব। পূর্বপশ্চিম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *