Sunday, January 16, 2022
Home > গল্প > আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন – রিফাত আদনান

আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন – রিফাত আদনান

Spread the love
সাদিয়া এখন নাইনে পড়ে। বয়স সবেমাত্র ষোল। বয়সের তুলনায় শারিরীক গঠন বেশ লম্বা। গোলগাল মিষ্টি চেহারা।
বাড়ন্ত শরীরে উঠতি যৌবন। দেখতে খুব সুন্দর।
সাদিয়া স্কুলে আসত বোরকা পরে। কিন্তু স্কুল টিচারদের এইটা পছন্দ ছিল না।স্কুল টিচারদের পিঁড়াপিঁড়িতে সাদিয়া একপর্যায় বোরকা ছাড়াই স্কুলে যেতে বাধ্য হয়ে। সাদিয়ার স্কুলটা তার বাড়ি থেকে বেশ দূরে ছিল। সাদিয়ার অনেক খানি পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হত। পথে বখাটে ছেলেরা তার দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত। কয়েকটা ছেলে তাকে প্রেমের প্রস্তাবও দিয়ে বসে। সাদিয়া কাউকে কিছু না বলে চুপচাপ থাকত। একা একা নির্জন জায়গায় বসে থাকত মন খারাপ করে।
সাদিয়ারর বাবা রফিক সাহেব বিষয়টি বুঝতে পেরে সাদিয়ার বিয়ের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু বাল্যবিবাহর অজুহাতে সাদিয়ার বিয়ে আটকে দেয় স্থানীয় এনজিও কর্মী ও স্কুল শিক্ষক।
 
আজ আষাঢ়েরর প্রথম দিন। আকাশ মেঘলা থাকার কথা কিন্তু আকাশ মেঘলা না। প্রচণ্ড রোদের তাপ। মাঝে মাঝে মৃদু বাতাস বইছে। কিছুক্ষণ আগে সাদিয়া স্কুল যাবার উদ্দেশ্য বেরর হয়েছে। পথে একা একা হাঁটছে। আজ তার মনটা বেশ ভাল ছিল। কিন্তু কে জানে এই অল্প সময় তার উপর নেমে আসবে রাজ্যের সব অন্ধকার। তিনটি বখাটে ছেলের হাতে অপহৃত হয় সাদিয়া সেইদিন। নিজের মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে ফেলে সাদিয়া। গ্রাম্য শালিশে ছেলেদের ফাইন হয় ষাট হাজার টাকা। লজ্জা আর অপমানে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয় সাদিয়ার। বিয়ের জন্য বরপক্ষ আসলে এসব কথা শুনে ফিরে যায়। সাদিয়ার আর বিয়ে হয় না। একদিন সুইসাইডের চেষ্টা করেও পারিবারিক বিচক্ষনতায়  বেঁচে যায় সাদিয়া। তবে সাদিয়ার জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে উঠে। কী অপরাধ ছিল সাদিয়ার? সাদিয়ার কেন এমন শাস্তি পেতে হল? মাঝেমাঝে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়। কিছু বলতে পারি না।শুধু অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি।
Facebook Comments