Sunday, January 16, 2022
Home > আমাদের কথা > অতঃপর অনুপ্রেরণা

অতঃপর অনুপ্রেরণা

Spread the love
কাজী লীনা : ‘শব্দে’র আছে জাদুকরী ক্ষমতা। এই শব্দ দিয়ে আমরা কী না করেছি! আর এটি অন্যান্য প্রাণিদের সাথে গড়ে দিয়েছে মানুষের প্রধান পার্থক্য।
না ,’শব্দে’র বন্দনা করব বলেই কেবল আপনাকে লিখতে বসি নি। মূল কথায় চলে যাই তবে।
 
একজন লেখকের কাছে ‘শব্দ’ সবচেয়ে প্রিয়, যেমন মায়ের কাছে সন্তান। মা যেমন চান সন্তানের মধ্য দিয়ে প্রস্ফুটিত হতে তেমনি লেখকও এই ‘শব্দ’ দিয়ে প্রকাশ করেন নিজেকে। ‘শব্দ’ দিয়েই তিনি ছুঁতে পারেন পাঠককে, সময়কে। এমনকি তিনি বদলে দিতে পারেন স্রোত। আরও অনেক কিছুই পারেন।
 
একজন লেখক আসলে কী চান? সর্বাগ্রে নিজেকে প্রকাশ করতে, নিজের চেতনা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে, পাঠকের সমর্পিত সাড়া পেতে এবং সর্বোপরি নিজের না থাকার মাঝে খুব তীব্রভাবে রয়ে যেতে!
এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের প্রকাশ সহজ এবং তড়িৎ করে দিয়েছে। আপনি চাইলেই মুহূর্তে আপনার চিন্তাটি ছড়িয়ে পড়বে অন্তর্জালে, আপনি অন্যদের সাড়াও পেয়ে যাবেন দ্রুত। এই সহজত্ব আর তাড়াহুড়ো যে আপনার চিন্তার গভীরতাকে একটু একটু করে অস্বীকার করছে তা কি বুঝতে পারছেন? হু হু করে কেবল বেড়ে চলেছে সংখ্যা আর মানের কোঠা কড়া নাড়ছে বিলুপ্তির দরজায়? তবুও নিরাশার চাদর সরিয়ে আশান্বিত মেঘগুলো উঁকি দেয় যখন স্ফুলিঙ্গগুলো জানান দেয় আবির্ভাব। পাঠক হিসেবে আমাদের কি দায় বর্তায় না এই স্ফুলিঙ্গগুলোকে পরিণত হতে উৎসাহ দিতে?
 
সব স্ফুলিঙ্গ তো আগুন হবে না, তবুও অকৃপণ উৎসাহে দোষ কোথায়! আমাদের গঠনমূলক সমালোচনাই পারে এর দায়মুক্তি ঘটাতে। প্রশ্ন উঠতেই পারে-চারদিকে অজস্র শব্দের মধ্যে সুন্দর শব্দগুলো চিনব কী করে, আর সাড়াই বা দেব কী করে? উত্তর হল-সুন্দর আকর্ষণীয় বটে, আপনি দেখলেই বুঝবেন। একটা সমর্পিত লেখা কতটুকু মানোর্ত্তীর্ণ তা বুঝতে হলে পুরোটা পড়তে হয় না। যে লেখা আপনাকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবে সেখানে তো আপনার উচিত সাড়া দেয়া। আর ‘মুখচেনা’ সংস্কৃতির আবর্ত থেকে সমুদ্রের নীলজল কি বেশি আন্দোলিত করবে না? কে বলতে পারে হয়ত এই ছোট্ট উৎসাহটির কাছে ঋণ স্বীকার করবে লেখালিখির পৃথিবী। আপনি যদি কেবল নিন্দাই করে যান আপনার পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে তা কি আপনাকে মহৎ করবে? কালির ছিটা কি একটুও লাগবে না আপনার গায়ে?
 
আর অগ্রজদের দায়িত্ব তো আরও বেশি। অনুজদের সম্ভাবনাময় প্রত্যুষে তাঁরা হবেন অরুণিমা। সাড়া দিলে মানুষ অসম্মানিত হয় না, বরং দীপ্ত হয় আনন্দে। নিজ নিজ জায়গা থেকে যদি সবাই এই তাড়না অনুভব করেন তবেই সার্থক হবে ক্ষুদ্র প্রয়াসগুলি।
আপনি যখন কোনও সংঘে আছেন তখন সদস্য হিসেবে আপনার দায়িত্ব থাকে এর উদ্দেশ্যকে সার্থক করার। যদি অপারগ হন তবে স্থান ছেড়ে দিন। সমর্পণ ছাড়া ভাল কিছু সম্ভব নয় তা আপনি যে ভূমিকাই পালন করুন না কেন।
 
ভালোবাসা দিলে তো কমে না বরং বেড়ে যায়। চারিদিকে অসুস্থ আর অমানবিক প্রতিযোগিতার ভীড়ে ক্ষতি কি দলছুট হলে?
জ্ঞান মানুষকে বিনয়ী করে না উদ্ধত?
প্রশ্ন রইলো, উত্তরটা দেবেন নিজেকেই।
 
বিঃদ্রঃ লেখাটি কারও মানসকে আঘাত করার জন্য নয়। তারপরও কেউ যদি আহত বোধ করেন তবে বিনম্র চিত্তে মার্জনা দাবি করছি।
Facebook Comments