রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২২
Home > ইসলাম > কুরআন-হাদীসের আলোকে রমজানের ফযীলত

কুরআন-হাদীসের আলোকে রমজানের ফযীলত

Spread the love

কুরআন-হাদীসের আলোকে রমজানের ফযীলত


আদিল মাহমুদ ● আমাদের সৃষ্টিকর্তার অফুরন্ত রহমত-বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের অমিয় বারতা নিয়ে শুভাগমন করলো হিজরি ১৪৪০ সালের মাহে রমজানুল মোবারক। আজ পবিত্র রমজানের দ্বিতীয় দিন। উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য প্রতি বছর এই পবিত্র মাস এক শুভ উপলক্ষ। তাদের জন্য অপরিসীম প্রতিদান লাভের উদ্দেশ্যে ইবাদত ও নেক আমলের বসন্ত কাল রমজান মাস। অন্তরের সমস্ত কলুষতা দূর করে পবিত্র হওয়ার উত্তম সময় মহিমান্বিত এ মাস। আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনে রোজা একটি অপরিহার্য ইবাদত। হাদীসে এসেছে— উসমান রা. বলেন, ’আমি রাসূল সা.-কে বলতে শুনেছি, রাসূল সা. বলেছেন, রোজা ঢাল স্বরূপ। তোমাদের যুদ্ধে ব্যবহৃত ঢালের ন্যায়।’ (ইবন মাজাহঃ ১৬৩৯)

আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন রোজা রাখলে ঐ রোজাদার ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে সরিয়ে রাখা হবে। এ সম্পর্কে রাসূল সা. বলেন, ’যে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় একদিন রোজা রাখে, আল্লাহ তাআলা তার মাঝে এবং জাহান্নামের মাঝে ৭০ বছরের দূরত্ব তৈরি করেন।’ (বুখারী- ২৮৪০)

এ সম্পর্কে রাসূল সা. আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রোযা রাখবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারী- ১৮৭৫)

রোজা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। রোজা হলো এমন ইবাদত, যার মাধ্যমে বান্দা প্রভুর নৈকট্যলাভ করতে সক্ষম হয়। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।’ (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত : ১৮৩)

রমজান হলো ইবাদতের মাস। এ মাসে ঈমান বৃদ্ধি হয়। এ সময় মানুষ অধিক নামাজ আদায় করে। পবিত্র কুরআন তেলওয়াত করে। তওবা, ইস্তিগফার করে। রাসূল সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষর পাঠ করে তার প্রতিদানে সে একটি সাওয়াব পাবে। আর প্রতিটি সাওয়াব দশগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়।’ (তিরমিযী- ২৯১০)

রোজা মন ও প্রবৃত্তিকে দমন ও নিয়ন্ত্রন করে, সংযমী হতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে রোজাদার তার মন ও প্রবৃত্তিকে সেই কাজে ব্যবহার করতে পারে, যাতে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যান নিহিত রয়েছে। রাসূল সা. বলেন, ‘আদম সন্তানের নেক আমল দশ থেকে সাতশোগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। মহান আল্লাহ বলেন, তবে রোজা ব্যতিত। কেননা তা আমার জন্য, আর আমি নিজ হাতেই তার প্রতিদান দিব। সে তো তার প্রবৃত্তি ও পানাহার আমার জন্যই বর্জন করেছে।’ (মুসলিম- ২৭৬৩)

রোজার মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তি পাপ কাজ থেকে মুক্ত থাকে, তাকওয়াবান হয়। যাবতীয় নিষিদ্ধ কর্ম থেকে বিরত থাকে। রাসূল সা. বলেন, ’যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও তার উপর আমল ত্যাগ করতে পারল না, সে ব্যাক্তির পানাহার ত্যাগ করার মাঝে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারী- ৬০৫৭)

রোজা হলো বেহেস্তীগামী পথ। আবু উমামাহ রা. রাসূল সা. কাছে জানতে চাইলেন জান্নাতের প্রবেশ করাবে এমন আমল কি? রাসূল সা. বলেন, ‘তুমি রোজা রাখো। কারণ রোজার মত অন্য কোনো আমল নেই।’ (নাসাঈ- ২২২১)

এ সম্পর্কে রাসূল সা. আরো বলেন, ’জান্নাতের এমন একটি দরজা আছে যার নাম হলো রাইয়ান। কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে কেবল রোজাদার ব্যক্তিগণ প্রবেশ করতে পারবে, অন্যরা প্রবেশ করতে পারবে না।’ (বুখারী- ১৭৬৩)

রোজাদার ব্যক্তির মর্যাদা মহান আল্লাহ তাআলা সুমহান করেছেন। রোজাদার ব্যক্তির সকল আকুতি তিনি কবুল করে থাকেন। এ সম্পর্কে রাসূল সা. বলেন, ’তিন ব্যক্তি এমন রয়েছে, যাদের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ১. ন্যায়পরায়ন শাসক, ২. রোজাদার, যখন সে ইফতার করে, ৩. মজলুম ব্যক্তির দুআ। তাদের দুআ মেঘের উপর তুলে নেওয়া হয় এবং এর জন্য আসমানের দরোজা সমূহ খুলে দেওয়া হয়। প্রতিপালক বলেন, আমার মর্যাদার শপথ! আমি তোমাকে সাহায্য করবো যদিও কিছু সময় পরেও হয়।’(তিরমিযী- ২৫২৫)

রোজা কিয়ামত দিবসে রোজাদারের জন্য মহান আল্লাহর নিকটু সুপারিশ করবে। বলবে হে আমার রব! আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও যৌনক্রিয়া থেকে বিরত রেখেছিলাম। সুতরাং তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ গ্রহণ করো। অতপর মহান আল্লাহ তাআলা রোজার সুপারিশ গ্রহণ করবেন। (মুসনাদে আহমদ- ১৭৪)

রোজা রোজাদারের জন্য খুশি ও সুখের সেতু। রাসূল সা. বলেন, ’রোজাদারের জন্য দুইটি আনন্দের সময় রয়েছে। ১. ইফতারের সময় ২. প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের সময়।’ (বুখারী- ১৭৭১)

রমাজানে সাহরী খাওয়া বরকতময়। রাসূল সা. বলেন, ’তোমরা সাহারী খাও, কেননা সাহারীর মধ্যে বরকত রয়েছে।’ (বুখারী- ১৭৮৯)

রোজা মানুষের হৃদয়কে নরম করে, আল্লাহ-প্রেমী করে। শিশুর মনে আমানতদারীতার বীজ রোপণ করে। একজন শিশুকে রোজা রাখতে অভ্যস্ত করার সময় যখন তাকে পানাহার করতে নিষেধ করা হয় এবং খাবার কাছে থাকা সত্ত্বেত সে এ বিশ্বাসে খেতে পারে না যে, এটা আল্লাহ নিষেধ করেছেন এবং তিনি দেখছেন। যার ফলে শৈশব থেকেই শিশু মহান আল্লাহর আনুগত্য করতে থাকে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ’তারা তো আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তার ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছিল।’ (সূরা আল-বায়্যিনাহ, আয়াত : ৫)

রমজান হলো রহমতের মাস। এ মাসে শয়তানকে বন্ধী করে রাখা হয়। জান্নাতের দরজা সমূহ খোলে দেওয়া হয়। এ সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেন, ’রমজান মাস আসলে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।’ (মুসলিম- ২৫৪৭)

Facebook Comments