Saturday, October 16, 2021
Home > বই আলোচনা > পথের পাঁচালী | বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

পথের পাঁচালী | বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বইঃ পথের পাঁচালী
লেখকঃ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশনিঃ রাবেয়া বুক হাউস
মূল্যঃ ৩৮০ টাকা
পর্যালোচনাঃ গালিবা ইয়াসমিন

পাঠ্য প্রতিক্রিয়াঃ
প্রতিক্রিয়া লিখার শুরুতে যিনি উপন্যাস লিখেছেন তার সম্পর্কে কিছু না বললেই নয়, “পথের পাঁচালী” উপন্যাস লিখেছেন ‘বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়’ যিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তিনি মূলত উপন্যাস ও ছোটগল্প লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। পথের পাঁচালী ও অপরাজিত তাঁর সবচেয়ে বেশি পরিচিত উপন্যাস।
লেখক সমগ্র উপন্যাসটি মোট তিনটি খণ্ড ও মোট পঁয়ত্রিশটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন। খণ্ড তিনটি যথাক্রমে বল্লালী বালাই, আম-আঁটির ভেঁপু এবং অক্রূর সংবাদ ।
নিশ্চিন্দিপুর নামক গ্রামের এক পরিবারকে ঘিরে উপন্যাসটির রচিত হতে থাকে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘অপু’ কিন্তু আমার মনে হয়েছে কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে ‘সর্বজয়া’।
উপন্যাসের এর প্রথম দিকে দেখা যায় একজন পরিবারহীন নারী বৃদ্ধাকে, যার ঠাই হয় দূরসম্পর্কের আত্মীয়র বাড়িতে কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সেখানে তাকে বিভিন্ন ভাবে অবহেলিত হতে হয়। তিনি কয়েকবার চেষ্টা করেছিলেন অবহেলা থেকে মুক্তি পেয়ে শান্তিতে মৃত্যুর অপেক্ষা করতে কিন্তু সেই ভাগ্যের ফেরে তার মৃত্যুও হয় মর্মান্তিক।
হরিহর আর সর্বজয়ার দুই সন্তান মেয়ে দূর্গা ও ছোট ছেলে অপু। এই চারটি প্রধান চরিত্রকে কেন্দ্র করেই উপন্যাসের বাকী অংশের বিকাশ। গ্রামের অবারিত পরিবেশে বেড়ে ওঠা অপু দূর্গা দুই ভাইবোন একে অপরের প্রাণ। তাদের বাবা বংশে কুলীন ব্রাহ্মণ হলেও তাহারা অর্থ অভাবে কোন মতে দিনগুজরান করেন। মা সর্বজয়া সন্তানদের মুখে ভালো খাবার তুলে দিতে পারেন না বলে সর্বদা অনুসোচনায় ভুগেন।দুই ভাইবোন বনেবাদাড়ে ঘুরে বেতফল, পানিফল,অপরিপক্ক আমের গুটি, কুল, বুচিফল ইত্যাদি খেয়ে মহাতৃপ্ত হয়।জীবনে এরা কোন ভাল খাবার পায়নি। গরীব ঘরের সন্তান বলে তারা দুই ভাই বোনই বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন কারণে পাড়া- প্রতিবেশীর কাছে অপমানিত অবহেলিত হয়েছে।
সময় পার হয়ে কিছু আশার আলো দেখা দিলেও তা দূর্গার কপালে সয় না, ভাগ্যের পরিহাসে অকালেই ওপাড়ে পারি জমাতে হয় তার।
সন্তান হারানো হরিহর আর সর্বজয়ার কিছুতেই আর মন টেকেনা নিশ্চিন্দিপুর গ্রামে। দু:খ-কষ্ট ভুলে একটু ভালো থাকার আশায় হরিহর পরিবার নিয়ে চলে যায় কাশী। সেখানে নতুন পরিবেশে সংসার প্রথমে ভালোই চলছিল কিছুদিন। সেই সুখও তাদের ভাগ্যে স্থায়ী হলো না।
এভাবে দিন গড়িয়ে বদ্ধ পরিবেশে পরে নির্যাতিত হয়ে – মার খেয়ে তারা সময় পার করতে থাকে। দুচোখে শুধু অতীতের গ্রাম, হারিয়ে যাওয়া সৃতি নিয়ে দিন-রাত অশ্রু ফেলে তাদের দিন রাত আর রাত দিন হতে থাকে।
“পথের পাঁচালী” উপন্যাসে লেখক “বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়” বোঝাতে চেয়েছেন শিক্ষাহীন, লক্ষ্যহীন, কর্মহীন, আর্থিক সচ্ছলতাহীন একজন নারী আমাদের সমাজে কীভাবে অবহেলিত হয় এবং কী পরিমাণ নির্যাতন সহ্য করে টিকে থাকার লড়াই করে। এক হিসেবে বলা যায় লেখক উপন্যাসটিতে তিনটি তিন বয়সের নারী চরিত্রের মাধ্যমে সুন্দর সুনিপুণ ভাবে আমাদের সমাজের অন্ধকার রূপ তুলে ধরেছেন। উপন্যাসটি পড়তে পড়তে অজান্তেই চোখের কোন ভিজে উঠচ্ছিল বার বার। ছোট বড় সবারই উচিৎ উপন্যাসটি পড়ে দেখা সময়ে অসময়ে সমাজ কতোটা নিষ্ঠুর হয়ে পরে তা অনুভব করা।

শুভ হোক আপনার পাঠ্য কার্যক্রম।

Facebook Comments