Sunday, January 16, 2022
Home > সাহিত্য খবর > পেন্ডুলাম ও একজন রুম্মান তার্শফিক

পেন্ডুলাম ও একজন রুম্মান তার্শফিক

Spread the love

পেন্ডুলাম….

ছোটবেলায় আপনার স্বপ্ন কি ছিল!বড় হয়ে কি হতে চেয়েছেন আপনি?

আমার স্বপ্ন ছিল “ট্রাফিক পুলিশ” হওয়ার। কিন্তু সবাই এটা শুনে হাসতো খুব। কারণ মেয়েরা তো সাধারণত ট্রাফিক পুলিশ হয় না বলেই প্রচলিত। তারপর তো অনেক ইচ্ছা, কখনো আর্মি অফিসার,কখনো সাংবাদিক, কখনো ডাক্তার কখনো বা Rubeus Hagrid।

মনে পড়ে জীবনে প্রথম বইমেলায় যাই ২০০৪সালে।তখন আমি ক্লাস ফোরে পড়ি। বাবাকে জিজ্ঞেস করছিলাম এত বই কিভাবে আসলো! বাবা বললো, লেখক লিখেছে। আমি হঠাৎ বলে বসি,আচ্ছা! তাহলে আমি বড় হয়ে লেখক হবো। বাবা বুঝিয়ে বললেন, প্রকাশকরা এই বইগুলো প্রকাশ করে। তাদের অনেক দায়িত্ব থাকে। আমি বললাম ওরা এত বই কেমন করে প্রকাশ করে।বাবা আমাকে বই বের করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দিলেন।তখন আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলাম যে,বড় হয়ে আমি প্রকাশক হবো,প্রকাশকই হতে হবে। অনেক অনেক মজার মজার বই বের করতে হবে। বাবা বললো,প্রকাশক হতে হলে প্রচুর পড়তে হবে,নইলে ছাপাখানার মালিক হতে পারবে কিন্তু প্রকাশক না।প্রকাশক হতে হলে প্রচুর পড়তে হবে,একজন লেখকের চেয়েও বেশি জানতে হবে তোমাকে। সেই থেকেই প্রকাশক হওয়ার স্বপ্ন শুরু।

পেন্ডুলাম কি?

প্রকাশনী দিবো নাম তো একটা দিতে হবে। নাম কোথা থেকে পাবো! কত জনের কাছে নামের জন্যে বললাম।কোনও নামই পছন্দ হয় না। কি যে করি! একজন বলে ‘জীবনান্দ প্রকাশন’ আরেক জন বলে ‘গাঙ্গচিল’ প্রকাশন। একেক জনের একেক মত। অথচ তাদের দেয়া কোনও নামই ভালো লাগে না আমার। ঠিক যেন মনের মতো হয় না। তারপর একদিন লীনা দিদি বললো দোলক প্রকাশনী রাখতে পারো। নামটা ভালো লাগলো। সাথে সাথেই শব্দটাকে ইংরেজি করে নাম রেখে দিলাম “পেন্ডুলাম”। আমার ভালোবাসার ও ১৪ বছর জিইয়ে রাখা বিরামহীন স্বপ্নের প্রথম পদক্ষেপ।

প্রকাশনীর লোগোর কি হবে?

লোগোটা কেমন হবে এ নিয়ে শুরু হলো নতুন ভাবনা। একটু সুন্দরের জন্য জন্য অনেক শিল্পী বা ইলাস্ট্রেটরে কাজ করে এমন মানুষকে বলতে শুরু করলাম। নিজে ঠিক আইডিয়া দিতে পারছিলাম না কেমন হলে সুন্দর হবে! কারণ শুধু দোলককে লোগোতে এনে সুন্দর কিছু ক্রিয়েটের আইডিয়া আসছিলো না। আমি উচ্ছ্বাস কে বলি। উনার লোগো আমার খুব পছন্দের। সে আমাকে কিছু লোগো করে দেয়। লোগো গুলো সুন্দর, কিন্তু মন মত হলো না। তারপর বিধান দাদাকে বলি। দাদা দোলক ব্যবহার করে আমাকে কিছু ক্লাসিক টাইপ লোগো করে দেন। এখানেও বিপত্তি। আমি ক্লাসিক টাইপ লোগোও চাই না। অথচ দাদার লোগোগুলো খুব সুন্দর। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনি লোগো করে দেন। এই হলো লোগোতিহাস।

অবশেষে আমাকে মিথুনের কমলাবানু লোগোটাই নিতে হয়। এর কারণটাও কিন্তু আমও জানি না। আমি একটা প্রফেশনাল লোগো চাচ্ছিলাম। মিথুনে লোগোটা তাই মনে হয়েছে। তবে এর পেছেনে যেটা কাজ করেছে তা হলো, আমি পেন্ডুলামকে শুধু বইয়ের প্রকাশনী রাখতে ইচ্ছুক না। এটাকে বইয়ের যাবতীয় সবকিছুর জন্য একটা ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করতে চাই। এ ভাবনা থেকেই লোগোটা সিলেক্ট করা।

প্রকাশনী কবে থেকে চালু হবে?

আমি এখনও প্রকাশনী চালু করার মত পরিণত হয়ে উঠিনি। তাই আরো ৪-৫ বছর পর প্রকাশনী চালু করবো। এটা ৮-১০ বছরও হতে পারে বা আরো কম বা বেশী। তবে পেন্ডুলাম প্রকাশনী হবেই।

পেন্ডুলাম বুক এক্সচেঞ্জ অফার?

পেন্ডুলাম প্রকাশনী হতে তো দেরী আছে তাহলে এখন পেন্ডুলামে আমি কি করবো। সেটা নিয়ে চিন্তা করছিলাম অনেকদিন। একদিন মিথুন আর কাউসার বললো তুমি কেন অনালাইনে বইয়ের ব্যবসা করো না! এতে পেন্ডুলামটা সবাই চিনবে। তোমার প্রকাশনী করতেও সুবিধা হবে। মিথুন বললো তুমি ” বুক এক্সচেঞ্জের অফার’ চালু করো। এতে তোমার জন্যে অনেক সুবিধা হবে। পেন্ডুলাম প্রকাশনী হলেও তুমি বই এক্সচেঞ্জের অফার চালু রাখতে পারো। এটা খুবই সুন্দর আর নান্দনিক আইডিয়া মনে হলো।

এখন বই যে এক্সচেঞ্জ করবো,এ জন্য তো আমার একটা অফিস বা রুম লাগবে। সাথে পুরনো বই সংগ্রহ বা নতুন বই কেনা। অনলাইনে সবার সাথে টেক্সট, কমেন্ট গুলোর উত্তর দেয়া। তারপর যদি আমার ওয়ার হাউজ থেকে এসে বই না নেয় সে ক্ষেত্রে তাকে কুরিয়ার করা ইত্যাদি; এখানে কিন্তু অনেকগুলো কাজ। আমার একার পক্ষে এটা সম্ভব না। আমার একটা সহকারীও দরকার। তাই আমি পুরোপুরি বিনা টাকাতে বই এক্সচেঞ্জ করতে পারি না। এই বই এক্সচেঞ্জ করার জন্য আমি সিদ্ধান্ত নিলাম,আপনার একটা বই +আমার থেকে যে বই নেবেন তার ২৫% দাম দিয়ে নিতে হবে।আপনার সুবিধা হলো আপনি যে বই পড়তে চাচ্ছেন তা পেয়ে যাচ্ছেন কম খরচে। নিজের পড়া বইয়ের বিনিময়ে। কুরিয়ারের ক্ষেত্রে আপনি একটি বইয়ের কুরিয়ারের টাকা দেবেন পরিবর্তে এক্সচেঞ্জ করা বইয়ের কুরিয়ারের টাকা দেবো আমি।

বই এক্সচেঞ্জ করবেন পেন্ডুলামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে : ফেসবুক পেইজের জন্য এখানে ক্লিক করুন!

পুরান বই যদি ভালো গেলে যায়?

আপনি যদি বই না দিতে চান আর আমাদের সংগ্রহের কোন বই আপনার ভালো লেগে গেল, তখন কি করবেন! এটা তো হতেই পারে। সেক্ষেত্রে আপনি ৫০%দাম দিয়ে বইটি নিতে পারবেন।

আর কি কি থাকবে আমাদের পেন্ডুলামে?

১.বুকমার্ক।
২.বুক রিভিউ(আপনার রিভিউ দিতে পারবেন,সেটা ভিডিও আকারেও দেয়া যাবে)।
৩.বই প্রকাশে আর্থিক সাহায্য।

বুকমার্ক কি?

বইয়ের কত পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়া হলো, তা ঠিক রাখার জন্যই বুকমার্ক। অনেক বইপোকাই বুকমার্ক সংগ্রহ করে। আমরা কাস্টম মেইড বা হ্যান্ড মেইড দুই ধরনের বুক মার্কই সরবরাহ করে থাকবো।

বুক রিভিউ বা বই নিয়ে ভাবনা?

আপনি আপনার পড়া বইগুলোর রিভিউ বা বই নিয়ে যে কোনও ভাবনা প্রকাশ করতে পারেন। এটা আমাদেরকে বইয়ের ব্যাপারে বা আপনাকে বই পড়ার ব্যাপারে উৎসাহী করবে।

বই প্রকাশে আর্থিক সাহায্য কিভাবে?

পেন্ডুলাম যেহেতু এখনও একটি প্রকাশনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই আমরা নিজেদের নামে বই বের করলেও বাংলাদেশের চিন্তাভাবনা অনুযায়ী আপনার বইটি মেলায় পাবেন বা আমার স্টল থাকবে,এমন হাস্যকর প্রমিজ করতে পারি না। তবে যদি বাংলাদেশের কোনও প্রকাশক আপনার বই না করে আমরা বই বের করবো। অনলাইনে এবং দেশের সব বই দোকানগুলোতে বই পাওয়া যাবে সে ব্যবস্থা তো করতেই পারি। এভাবেই পেন্ডুলাম বই প্রকাশে আর্থিক সাহায্য করবে। সেক্ষেত্রে আমরা অন্য প্রকাশনীকে পরিবেশক হিসেবে দিলে আপনি মেলাতেও বই পেয়ে যাবেন। তবে আমি চাই শুধুমাত্র মেলাভিত্তিক বই বের করার কু’কালচার বন্ধ হোক। বই প্রকাশ হোক সারা বছরের উৎসব।

Facebook Comments