শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Home > ইসলাম > নারী নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয় আইন করে

নারী নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয় আইন করে

Spread the love

মুহাম্মদ আইয়ূব ● পান থেকে চুন খসলেই ছমিরন বুর উপর নেমে আসে কাল বৈশাখী ঝড়। ছগির আলী খেটে খাওয়া মানুষ তার উপর রিক্সাওয়ালা, লোহার উপর হাত রাখতে রাখতে হাত দুটো ও লোহার সমার্থক হয়ে গেছে। এই হাত যখন ছমিরন বুর পিঠ আর গালে পড়ে তখন মনে হয় কাল বৈশাখের শিল পড়ছে।

আওয়ামীলীগ যখন ২০০৯ ক্ষমতায় এসেছিল তখন ছমিরন বু আশায় বুক বেধেছিল, ভেবেছিল এই বার ছগির আলীর রক্ষা নাই! কিন্তু কই? ছগির আলী তো দেখছি বিড়ি ছেড়ে সিগারেট ধরেছে এক ধাপ উন্নতি অথচ ছমিরন সেই কাল বৈশাখীর যাতনা বয়েই বেড়ায়। নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হলেন নারী, বিরোধীদলীয় নেতা নারী, স্পিকার নারী, অনেক সংসদ সদস্য নারী, আর্মি, বিডিআর, পুলিশের অফিসার নারী, ডিসি, ম্যাজিস্ট্রেট নারী, ইউএনও টিএনও নারী, পরিশেষে ক্ষমতাসীন দলের সব নেতারাই নারী (নারীর ক্ষমতায়নের শ্লোগানধারী)। এবার ছগির আলী যাইবা কই? কিন্তু কিছুই হল না।

ছগির আলীর সে তো প্যাসেঞ্জার নিয়ে সবখানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দিব্যি। দাপানোর জায়গা নেই শুধু ছমিরন বুর। নারী নির্যাতন বন্ধে আইন হয়েছে ঠিক, তবে সে আইনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে ছমিরনকে মারা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী এমপিরা অতিকথনে এক্সপার্ট অথচ কাজের বেলায় ঠনঠনাঠনঠন। নারীর কষ্ট নারীরাই বোঝে ছগির আলীরা নয়। গত রোববার সোনারগাঁও হোটেলের এক অনুষ্ঠানে মাননীয় শিশু ও মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা বললেন- ‘আইন করে নারী নির্যাতন বন্ধ সম্ভব নয়।’

নিউজটি পড়ে মন চাইছিল একটি সত্য ও বাস্তব কথা বলার জন্য নিজে গিয়ে তাকে ফুলের মালা পরিয়ে দিয়ে আসি। সরকারি দলে থেকে এরকম সত্য তার মুখ দিয়ে কিভাবে বের হল? আমি হতবাক! ছমিরন বু ও বুঝলো যে, এটাতো বাস্তব কথা। আইন করে পুরুষ থেকে নারীর অধিকার আদায় করা গেলেও তা যৎসামান্য এবং সেখানে দয়া, ভালবাসা অনুপস্থিত থাকে। পুরুষকে আজ বুঝাতে হবে যেমনটা বুঝিয়েছেন রাসূল (সা.)। আজকের যুগে তো নারীরা অনেক দূর এগিয়েছে অথচ জাহেলী যুগে মহিলাদেরকে শুধু ভোগের পন্য মনে করা হত, মহিলাদের বিশেষ দিনে তাদের ঘর থেকে বের করে দেয়া হত, অধিকারের অ র কথা ও যেখানে তারা কল্পনা করতে পারত না, সেখানে ইসলাম এসে তাদেরকে মায়ের অধিকার, বোনের অধিকার, স্ত্রীর অধিকার দিয়েছে। নারীর প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদায় হজে নবীজী (সা.) বারবার উম্মতকে মহিলাদের অধিকার আদায়ে সচেতন করেছেন। মহানবী কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী ছিলেন। নবীজী (সা.)-এর একাধিক স্ত্রী ছিলেন। তাদের অধিকারের প্রতি তিনি এমন সচেতন ছিলেন যে, রাত্রিযাপনের বিষয়টিও তিনি তাঁর স্ত্রীদের মাঝে বন্টন করে দিয়েছিলেন। দুনিয়াবাসী এমন নজীর দেখাতে পারবে কি আর?

ক্যাসিনো সম্রাট যখন ধরা খেল তখন তার এক স্ত্রী সংবাদ মাধ্যমে বলেছিল যে, তার নারী বান্ধব স্বামী দুই বছর যাবত কোন খোঁজ খবর নেয় না। নারীর অধিকার নিয়ে যারা স্লোগান দেয়, মন চায় তাদের স্ত্রীদের একটা সাক্ষাৎকার নেই, তখন সম্রাটের মত তাদের শিয়ালমুখগুলো ও জনতার সামনে ধরা পড়ত। কারণ মোরগকে মাঠে নামানোর হেন পরিকল্পনা নাই যেটা শিয়াল বাদ রেখেছে এতে মোরগ কি পেল না না পেল এতে শিয়ালের কিছু যায় আসে না। সে তো মোরগের কাচা মাংস পাচ্ছে!

লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Facebook Comments