রবিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২২
Home > খেলাধুলা > “মোহাম্মদ রফিক” বাংলাদেশের এক বিষ্ময়কর ক্রিকেটারের নাম

“মোহাম্মদ রফিক” বাংলাদেশের এক বিষ্ময়কর ক্রিকেটারের নাম

Spread the love

“মোহাম্মদ রফিক” বাংলাদেশের এক বিষ্ময়কর ক্রিকেটারের নাম


১৯৭০ এর ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার তীরবর্তী বুড়িগঙ্গার পাড়ে এক ঝুপড়ি ঘরে জন্ম তার, আর্থিক অনটনে জীবনের যে কোনো পর্যায়ে হারিয়ে যেতে পারতেন তিনি। ভাঙাড়ি কুড়ানো শিশুদের সাথে মিশে হয়ে যেতে পারতেন নাম না জানা কোনো এক ভাঙাড়িওয়ালা। জিঞ্জিরা কিংবা ধুলাইখালের নিত্য পরিচিত কোনো দোকানের কর্মচারী হয়েও কাটতে পারতো তার জীবন। কিন্তু তিনি তার কোনো টাই হন নি। ক্রিকেটের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় তিনি হয়ে উঠেছেন সবুজ মাঠের এক বিষ্ময়কর জাদুকর। তিনি নিজেই নিজেকে গড়ে তুলেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের নেতৃত্বদানকারী উইকেট শিকারি ছিলেন তিনি। তিনি চোখ ধাধানো বিষ্ময়ে মহিত করেছেন ক্রিকেট পাগল বাঙালীকে। যে আলোর ছোয়ায় একদিন স্পিনার হয়ে উঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন বর্তমান প্রজন্মের সাকিব আল হাসানরা। (শিরনাম না দেখলেও যে কেউই বলে দিতে পারবে) তিনি মোহাম্মদ রফিক।

আমরা আজ অক্ষরের ফিচারে তুলে ধরব সেই রফিককে নিয়ে। যার উত্থান হার মানায় হাজারও কিংবদন্তিদের। শুরুতে ছিলেন বাহাতি প্রেসার। পেশাদারি ক্যারিয়ার শুরুও করেন প্রেসার হিসেবেই। পরে বন্ধু ওয়াসিম হায়দারের পরামর্শে হয়ে উঠেন স্পিনার। সেই বাহাতি অথোরক্স দিয়েই একসময় রফিক নজর কাড়ে পুরো বিশ্বের। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে খুব সাদামাটা ক্রিকেটার মনে হবে রফিককে। ৩৩ ম্যাচে ১০০ টেস্ট উইকেট। আর ১২৫ ওয়ানডেতে ১২৫ উইকেট তো একজন মাঝারি মানের স্পিনারের থাকতেই পারে। টেস্ট আর ওয়ানডে মিলিয়ে ২২৫০ রানও খুব নগন্য। আর রেকর্ডই বা এমন কী? বাংলাদেশের জার্সিতে প্রথম ১০০ উইকেট নেয়া বলার। হ্যাঁ!! পরিসংখ্যান বলছে খুব বেশি ক্রিকেটিয় অর্জন নেই তার। কিন্তু রফিককে পরিসংখ্যান দিয়েই মাপা যায় না। লাল সবুজের চিহ্ন বুকে নিয়ে যখন রফিকরা বল করতেন তখন একেবারে শিশু, বাংলাদেশের ক্রিকেট। অধিকাংশ টেস্টেই দ্বিতীয় ইনিংসে বল করতে পারতেন না তিনি। অনেক সময় তো তাকে খুব হাস্যকর সিদ্ধান্তে বসিয়েও রাখা হত টেস্টে। আর খেলতে পারলেই বা কী হত? হয়ত ১০০ এর যায়গায় ২০০ কিংবা ১৫০ টেস্ট উইকেট থাকতো তার। কিন্তু তাতেও কি বোঝা যায় রফিককে? না যায় না। খেলা শেষে ম্যাচ সেরার পুরস্কারে রফিক যখন কথা বলতেন, তখনি বোঝা যেত স্কুল-কলেজের গণ্ডির সাথে তার ছিল আজন্ম দূরত্ব। কিন্তু কিংবদন্তি হতে যে, স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরুতে হয় না। সেটাও সরল হাসিতে বুঝিয়ে দিতেন মোহাম্মদ রফিক। ছোটবেলায় বুড়িগঙ্গার পাড়ে গরু চড়াতে এসে মাঝিকে বলে কয়ে পালিয়ে আসতেন ঢাকার এই পাড়ে, সিনেমা কিংবা বন্ধুদের টানে নয়, ক্রিকেটের টানে। ঢাকায় আসলে ক্রিকেট টা ভালো খেলা যেত। আর যদি সংসারের টানে না-ই আসতে পারতেন তাহলে জিঞ্জিরার অলিতে গলিতেই চলতো তার ক্রিকেটিও আরাধনা।
তারকা হয়ে উঠার পরও সেই নাড়ির টান ভোলেন নি রফিক। মাঠ কিংবা মাঠের বাহিরে, সবখানে থাকতেন মাটির মানুষের মত। আইসিসি ট্রফি জয়ের পর ততকালীন প্রধানমন্ত্রী তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন “কী চান?” জবাবে রফিক বলেছিলেন, “বাবু বাজারে একটা ব্রিজ হলে খুব ভালো হতো। বহুত কষ্ট হয় দু’পাড়ের মানুষের আসা যাওয়া করতে।
স্কুলে পড়তে পারেননি বলেই হয়তো স্কুলের প্রতি তার দরদ হার মানায় তথাকথিত ভদ্র সমাজের কৃত্রিম শিক্ষানুরাগকে। ওই সময়ে পাওয়া রফিকের সরকারি জমির উপরেই গড়ে উঠেছিল স্কুল। গাড়ি বিক্রির টাকাও দান করেছিলেন সেই স্কুলের জন্যই। বলেছিলেন, “ভাই আমরা তো পড়ালেখা করতে পারি নাই, খুব গরীব ঘরের পোলা, পোলাপাইনগুলা যেন পারে।”

কী আসে-যায় পরিসংখ্যানে? রান আর উইকেট দিয়ে কিংবদন্তি হওয়া যায়। কিন্তু রফিকরা তার চেয়েও বেশি কিছু।


 
লিখেছেন : শেখ মাহমুদ ইসলাম মিজু
সম্পাদক অক্ষর বিডি ডটকম
সোর্স : ইন্টারনেট, রোয়ার মিডিয়া, ইউ টিউব।
Facebook Comments