Sunday, January 16, 2022
Home > গল্প > খবর | রাহাত ইবনে মাহবুব

খবর | রাহাত ইবনে মাহবুব

Spread the love

বিকেল হয়ে গেছে।সূর্য তার তেজহীন আলো নিয়ে তর তর করে পশ্চিমে ঢলে পড়ছে।শান্ত প্রকৃতি।শীত শীত আবহাওয়া।শান্তিনগর ক্লিনিকের পশ্চিম বারান্দার ভাঙা মেঝেতে শুয়ে কাৎরাচ্ছেন আলী মিয়াঁ।তার পিঠে বিরাট এক জখম।গল গল করে রক্ত ঝরছে সেখান থেকে।কাপড়ের ছেঁড়া টুকরো দিয়ে রক্ত মুছে পট্টি বেঁধে দিয়েছে নার্স।কিন্তু কাজ হয়নি কিছুই।রক্ত ঝরেই চলেছে।গ্রিলের ফাঁক গলে রোদ চুয়ে পড়ছে ক্লিনিকের পশ্চিম বারান্দায়,আলী মিয়াঁর গায়ে।বিকেলের সূর্যের হালকা লালাভ আলো আর আলী মিয়াঁর লাল রক্ত মিলে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। তার পাশে বসে নীরবে অশ্রু ঝরাচ্ছেন তার স্ত্রী নূর জাহান বেগম।

আলী মিয়াঁর নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।তার মুখে এই মুহূর্তে অক্সিজেন মাস্ক শোভা পাওয়া উচিৎ।কিন্তু ব্যবস্থা না থাকায় সম্ভব হচ্ছে না।সময় দেখার জন্য হাত ঘড়ির দিকে তাকালেন তিনি। ঘড়ির কাঁচে রক্ত লেগে আছে।সময় বোঝা যাচ্ছে না।তাই স্ত্রীকে বললেন রক্ত মুছে দিতে।নূর জাহান বেগম বিনা বাক্যালাপে শাড়ির আঁচল দিয়ে রক্ত মুছে দিলেন।আলী মিয়াঁ ঘড়ি দেখলেন।ঘড়ির কাটা পাঁচটা ছুঁই ছুঁই।তিনি চোখ বুজে ফেললেন।কাঁপা কাঁপা গলায় স্ত্রীকে বললেন,’নূরু,দুলাল কই?কই তোমার ছেলে?’
নূর জাহান বেগম উত্তর দিলেন না।চুপ করে থাকলেন।

অল্প কিছুক্ষণ পর।হাঁপাতে হাঁপাতে ক্লিনিকের পশ্চিম বারান্দায় এসে পিতার সামনে দাঁড়ালো পুত্র দুলাল।তার চোখে পানি,মুখে হাসি।হাঁপাতে হাঁপাতেই বললো সে,’খবর শুনছো আব্বা?আমরা তো যুদ্ধে জিইত্যা গেছি।পাকিস্তানীরা হার মানছে।দ্যাশ স্বাধীন হইয়া গ্যাছে আব্বা।’
ছেলের কথা শুনে চোখ খুললেন আলী মিয়াঁ।তারও চোখে পানি,মুখে হাসি।দুলাল লক্ষ করলো তার বাবার অশ্রু সজল চোখের মনিতে একটা মানচিত্র ভাসছে।স্বাধীন বাংলার মানচিত্র।

Facebook Comments