শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Home > ছড়া/কবিতা > কাউসার মাহমুদের একগুচ্ছ কবিতা

কাউসার মাহমুদের একগুচ্ছ কবিতা

একগুচ্ছ কবিতা
Spread the love

কাউসার মাহমুদের একগুচ্ছ কবিতা

১.

আমার এই সন্ত-জীবনের কাছে তুমি ছিলে
কোন এক অনন্য বিকেলে একবার ছুঁয়েছি তোমায়।
কোমলতম সেই অস্ফুট বিকেলটি হারিয়ে গেলে-
কোথায় খুঁজিনি হায়!
যে পথে হেঁটেছ, যেখানে বসেছ।
যেখানে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হাঁটু মুড়ে কেঁদেছ।
সবখানেই তো খুঁজেছি।

ঘুম গিলে খেয়ে কতকাল ধরে শুনছি তোমার ডাক-
তুমি জানো না।
কতকাল এই কল্পনায় হেঁটে হেঁটে অন্ধকারে ডুবেছি-
তুমি জানো না।
মনে হয়, এখনও ডাকছো,
মনে হয়, এখনও হাঁটছো।

সবুজ ঘাসের ছড়ানো পিঠের মতোই, কোথাও-
সমস্ত হাহাকার মেলে দিয়ে, ঠায় দাঁড়িয়ে আছো।


২.
নিহত আলোর মুখে যা ছিলো ভীষণ আক্ষেপ আমাদের
দূর থেকে শুধু ঘ্রাণ-
শুষ্ক ফুলের মতো দিনেদিনে মরে যাওয়া।
 
কাছেকাছে কত সৌরভ ঝরে পড়ে, কত বার নিহত হয় চোখ।
সেখানে আমাদের দ্রাঘিমান্তরজুড়ে শুধুই শুন্যতা।
প্রবল নীরবতা।
কখনোকখনো বয়স্ক আয়ুর মতোই নুয়ে পড়ে চোখের পলক।
 
যতদূর হাঁটি,যতদূর যাই-
পিছে পিছে হেঁটে অনন্তকাল মাড়াই।
কোথাও হয় না যাওয়া – কোথাও হয় না বসা
কেবলই এক ফিরিঙ্গি পাখির ফিরে আসা।
 
তবুও মনে হয় আমাদের দূরত্ব যাপনই ঠিক
উলোট হাওয়ার মতো শুধু কোনদিন মুখোমুখি হওয়া হলে-
বিপরীতে চলে যাওয়া যাবে।
পৃথিবীর সমস্ত রহস্য উন্মেষ করে বলে দেয়া হবে-

আমাদের যাতনা ছিলো সমান সঠিক।


৩. সে এক গভীর বিষন্নতা আমার
 
সে-এক গভীর বিষন্নতা আমার, জন্মের মতো আপন
সমতল মরুভূমিজুড়ে আহরিত অস্থির অস্ফুটে
মৃগনাভ ধুয়েমুছে কোথায় যে হারালো অপজাত-
আমি তার ঠিকানা জানি না।
 
যেন এক দূরূহ সকাল-
খঞ্জরে বাঁধা কুসুমিত রোদ বেয়ে যায়।
ইহুদি বণিকের পাছে-
সারে সারে বাঁধা কোন গণিকার দল!
 
এখানের কারো মুখ আমি চিনি
বর্ষার ভিজে যাওয়া কদম ফুলের মতো-
সহসাই নিস্তেজ গড়িয়ে পড়েছে আমার উপরে
আমি তারে দিয়েছি কামনার ‘সন্ধ্যা আরতি।’
 
সে এক গণিকা ছিলো- ভীষণ মদের মতো বৈভব তার
আমি তারে দিয়াছি সকাল, সমূহ আকাল-
তবুও সে কাঁদেনি, কোনদিন দুঃখ করেনি
শুধু এক; জীবনের দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেছিল-
৪. পরাভূত বিষাদ
 
এই রাত- যার চার কোণাজুড়ে বিমর্ষ সংগীত বয়ে চলছে। নিয়ত প্রবাহমান জলের মতোই গম্ভীর ও সশব্দে ভরপুর এই দূরবর্তী রাতে; আমাদের জীবনকে মিথ্যে মনে হয়। গোধূলির দুঃখের মতো এমন নত, নির্যাতিত জীবনে কোথাও কোন জন্মের গন্ধ নেই৷ যেন সুদূর পরাহত সুখ-স্মৃতি বারবার আমাদের ধোঁকা দেয়। আর তমসার ভৌতিক জালে ধীরেধীরে ক্ষয়ে পড়ে আমাদের সমস্ত রাগ ও অনুরাগ।
 
আমাদের মনে হয় কোনদিন এই মাটি মুক্ত হবে না।
 
তবুও বিক্ষুব্ধ জনজীবন কখনো গর্জে ওঠে। ইতিহাস বলে, ছোটছোট অগ্নিচূর্ণ ভোরের পা বেয়ে বিস্তৃত অগ্নিপাত ঘটিয়ে তোলে। যেখানে অসুর ও সমস্ত অপদেবতা পুড়ে যায়। ক্ষয় ও লীন তো মহাসত্যের মতোই ফুটে থাকবে সমস্ত সৃষ্টি ও জন্মের নাভিপাত্রে।
 
তখন, রাক্ষস বিদায়ের পর বেঁচে থাকা সমস্ত নাগরিক শান্ত হবে। ভোরের স্নিগ্ধ গন্ধ মাড়িয়ে ছুটে যাবে সুধীর জোৎস্নার দিকে। আর সমুদ্রমন্থনে উৎপন্ন পারিজাত ছড়িয়ে পড়বে আমাদের এই মৃত মাটির উপরে।
Facebook Comments