Friday, January 28, 2022
Home > ইসলাম > করােনা মোকাবেলায় আমাদের করণীয় | মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ

করােনা মোকাবেলায় আমাদের করণীয় | মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ

Spread the love

অক্ষর বিডি : করােনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন রাজধানী ঢাকার কাকরাইল সার্কিট হাউজ জামে মসজিদের খতিব, জামিআ ইকরা বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ।

তিনি বলেন, প্রিয় ভাই ও বােনেরা! মহামারি ও বালা-মুছিবত গােনাহেরই ফসল করােনা ভাইরাস আমাদের গােনাহ ও অন্যায়ের ফসল। বান্দা যখন বেপরােয়াভাবে গুনাহ করে আল্লাহ তাআলা তাকে সতর্ক করতে বিভিন্ন পরীক্ষায় ফেলেন। যেন সে গুনাহ থেকে নিবৃত্ত হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের ফলে স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে: যার ফলে তাদের কৃতকর্মের কোনাে কোনাে কর্মের শান্তি তাদেরকে তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে। (সূরা রুম : ৪১)।

নবি কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন কোনাে সম্প্রদায়ের মাঝে অশ্লীলতার প্রসার ঘটে তখন তাদের মাঝে মহামারি এবং এমন দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় যার নমুনা তারা পূর্বপুরুষদের মাঝে দেখেনি। (ইবনে মাজাহ: ৪০১৯)।


আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই মুমিনের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সে সর্বদা আল্লাহর ফায়সালা ও সিদ্ধান্তের উপর সমর্পিত থাকে। বিশেষ করে বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার হুকুম মেনে চলে তবে তার যিন্দেগী হয় চিন্তামুক্ত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,  জেনে রাখো, আল্লাহর বন্ধুদের কোনাে ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। (সূরা ইউনূস : ৬২)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন কোনাে ব্যক্তি মহামারিতে পতিত হয় এবং নেকির আশায় সে ধৈর্যসহকরে সেখানে অবস্থান করে এবং এ বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ তাআলার হুকুম ব্যতিত কিছুই হয় না, তাহলে সে শহীদের সওয়াব পায়। (বুখারি শরীফ : ৫৪০২)।

okkhorbd

আমাদের করণীয়।


আল্লাহর স্মরণ ও যিকির বাড়িয়ে দেয়া। বেশি বেশি তওবা ইস্তেগফার করা। হাদিসে বর্ণিত দু’আর আমল করা। যেমন :

ক, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল বারাসে ওয়াল জুনুনি ওয়াল জুযামী ওয়া মিন সায়্যিইল আসকামি। (আবু দাউদঃ ১৫৫৪)।

খ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘর থেকে বের হতেন তখন এ দুআ পড়তেন, বিমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। (আবু দাউদঃ ৫০৯৫)।

তিনি বলেন, তখন ফিরিশতারা তার জন্য এ বলে দুআ করতে থাকে, তােমাকে সঠিক পথ পরিচালিত করা হোক। তোমকে সব ধরণের মসিবত ও মন্দতা থেকে রক্ষা করা হােক।

গ, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল-সন্ধায় তিনবার এই দুআটি পড়বে, “বিসমিল্লাহিল্লাযি লা ইয়াদুরুর মাআ ইমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস্ সামা-ই ওয়া হুওয়া সামিউল আলীম”  তাহলে সে আকশিক বিপদ-আপদ মহামারি থেকে রক্ষা পাবে। (তিরমিযীঃ ৩৩৮৮)।

ঘ, “লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যালিমীন” দুআটি বেশি বেশি পাঠ করা।

ঙ, এই দুআটি পাঠ করা- আত্মাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়াতা ফিদ দুনয়া ওয়াল আখিরাহ- হে আল্লাহ! আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে আফিয়ত চাই।

চ, বেশি বেশি দান-সাদকা ও মাতা-পিতার সেবা করা, পরিবারের লােকদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা। নবী সা. বলেন, দান-সাদকা ও সৎ কর্ম অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করে।

ছ, তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করে দুআ করা। নবী সা. বলেন, তাহাজ্জুদের সালাত শরীরের যাবতীয় রােগ বালাই দূর করে।

নিজের ঘর ও অঞ্চল থেকে অতীব প্রয়ােজন ছাড়া বের না হওয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তােমরা কোথাও মহামারির সংবাদ পাবে তখন সেদিকে যেও না। আর যদি তােমরা মহামারিতে আক্রান্ত ভূমিতে পূর্ব থেকেই অবস্থান করাে তাহলে সেখান থেকে পালিয়াে না। (বুখারীঃ ৫৭৩৯, মুসলিমঃ ২২১৯)।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং ঘর-বাড়ি ও আঙ্গিনা পরিচ্ছন্ন রাখা। যত্রতত্র কফ, থুথু এবং নাকের ময়লা না ফেলা।  এবং সব সময় অযু অবস্থায় থাকা। কেননা হাদীস শরীফে পবিত্রতাকে ঈমানের অঙ্গ বলা হয়েছে।

সুতরাং আসুন, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক ও সাবধান হই, বেশি বেশি আল্লাহর স্মরণ ও যিকির করি, তাওবা ইস্তিগফার করি এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে দুআ, রােনাযারি ও কান্নাকাটি করা । ওগাে মাবুদ! পৃথিবীর সকল মানুষকে, আমাদের দেশের সকলকে এবং বিশেষ করে আমাদের বিবি-বাচ্চা, মাতা-পিতা এবং আত্মীয়-স্বজনকে করােনা ভাইরাসসহ সবধরণের রােগ ও বালা-মছিবত থেকে হেফাযত করুন। আমিন।

Facebook Comments