Saturday, October 16, 2021
Home > চিঠিপত্র > ওহে কওমী জননী!

ওহে কওমী জননী!

মুহাম্মদ আইয়ূব : স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে হযরত ফেদায়ে মিল্লাত (রহঃ) ও ক্বাজী মু’তাসিম বিল্লাহ (রহঃ) প্রমুখ উলামায়ে কেরামের অনুরোধে এ দেশের বন্ধ মাদ্রাসাগুলো কে খুলে দিয়েছিলেন? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তবলীগের কাকরাইল মার্কাযের জন্য জমি কে দিয়েছিলেন? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।  টঙ্গীর ময়দান বিশ্ব ইজতিমার জন্য  কে যেন বরাদ্দ দিয়েছিলেন?  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
জননী! এমন পিতার কন্যা হতে পেরে আপনি যেমন ভাগ্যবান,তেমনি আমরাও খুব খুশি। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী,বাংলাদেশের প্রাণপুরুষ আমাদের প্রিয় নেতার স্বপ্ন পুরণে আপনি আপনার দিন রাত এক করে, নিজের বিশ্রামের কথা চিন্তা না করে ১৮কোটি মানুষের কথা ভাবছেন। তাদের বাসস্থান,  অন্ন,বস্ত্র যোগানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। স্যালুট আপনাকে।
জননী! আপনার বাবা  মাদ্রাসা খুলে দ্বীনী শিক্ষার উপকার যেমন করেছে তেমনি আপনি করেছেন স্বীকৃতি দিয়ে। আপনাদের এ অবদানের কথা কৃতজ্ঞ জাতী কোনদিনও ভুলবেনা।
মহীয়সী মা! করোনার এই সঙ্কটকালে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে, তহবিল গঠন করে, আওয়ামীলীগ নেতাদের তাদের  দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে,  আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে মাঠে নামিয়ে আপনি আবারো প্রমাণ করলেন আপনি বাংলাদেশের সত্যিকারের মমতাময়ী মা। আপনার যুগোপযোগী অনুদান বাংলাদেশের মানুষের কল্যান বয়ে আনবে যদি তা ভেজাল আওয়ামীলীগার রাক্ষসদের মুখে না যায়। আশা করি এ ব্যাপারে আপনি কার্যকরি পদক্ষেপ নিবেন।  ও!  যে জন্য আজ  এই লেখার অবতারণা তা-ই  তো বলা হল না!!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!  রাজধানী সহ সারা দেশে অসংখ্য  প্রাইভেট মাদ্রাসা আছে। যেখান থেকে প্রত্যেক বছর  হাজার হাজার ছেলে মেয়েরা কুরআনের হাফেজ হচ্ছে,জরূরী মাসআলা- মাসায়েল শিখছে, ধর্মীয় ও জেনারেল (স্বল্প পরিসরে হলেও) শিক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের চর্চা হয়ে আসছে। বলে রাখি, এ সকল মাদ্রাসার আয়ের মূল উৎস বলতে গেলে ছাত্র বেতন। অথচ বিদ্যমান পরিস্থিতিতে  দুই বা তিন মাস যাবত মাদ্রাসা বন্ধ থাকলে মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন,বাড়ি ভাড়া কোত্থেকে  আসবে? এ দিকে  বাড়িওয়ালারা (যাদের ভিতর মানবতা নেই,যাদের কাছে টাকা ই সব) কিন্তু এসব দেখবেনা। ওদের রাক্ষুসে পেটে ভাড়া চায়! ভাড়া!! কিন্তু ভাড়া আসবে কোত্থেকে মাদ্রাসা যে বন্ধ?!! বিষয়টি খুবই চিন্তার ও উদ্বেগের।
হে মমতাময়ী জননী!   এহেন নাযুক পরিস্থিতিতে আপনার একটি মাত্র  সিদ্ধান্তে এ সকল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও সংশ্লিষ্ট স্টাফদের মুখে হাসি ফুটবে বলে আমি আশাবাদী । তাই আপনার সমিপে আমার বিনীত অনুরোধ ওদের মুখে একটু হাসির খোরাক যুগিয়ে দিন মা! আমার দৃঢ় বিশ্বাস এ আবেদন যদি আপনার দৃষ্টিগোচর হয় তাহলে আপনি ওদের নিরাশ করবেন না ইনশাআল্লাহ।

লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক।
Facebook Comments