বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২
Home > ছড়া/কবিতা > জোহান কুতুবী’র ১২টি কবিতা

জোহান কুতুবী’র ১২টি কবিতা

Spread the love

স্ত্রী

তবু সে ব্যাকটেরিয়া, তাকে ভালবাসি—
সমস্ত ইনকাম দিনশেষে তার হাতে তুলে দিই—
ঝনঝন করে ফেলি, তার পায়ের কাছে
কাঁদতে কাঁদতে কতবার, আহা—
নিজেকে চুবিয়ে রেখেছি বাথটাবে— লজ্জায়, সহমরণে
তার সাথে একখাটে শুতে হচ্ছে ভেবে,—
বহুবার চলন্ত ট্রেন হতে লাফ দিতে চেয়েছি;
রেলের চাকার তলে, ফাটাতে চেয়েছি এই ঘুমবাহী মাথা—
লাল টমেটোর ঢঙে, কিম্বা নারকেল ফাটার শব্দে— হুবুহু যেমন ফাটে
তবু সে আসে বারবার— আমাকে ধরে রাখে— ছিটকে যাবো ভেবে, জগৎ সংসার হতে
পুনশ্চ সে তবু ব্যাকটেরিয়া, তাকে ভালোবাসি— স্ত্রীর মত
স্তন চেপে ধরে— গভীরভাবে— যেনবা ঘুমিয়ে পড়ছি আমি এক পোষাকেই


হ্রদ

উৎকৃষ্ট হ্রদের কথা মনে পড়ে
আহরিত যত মুক্তা-প্রবাল সুপেয় পানি
পর্বতচূড়া হতে দাঁড়িয়ে মনে হত—
শীতঘুম শেষে সূর্যঋষি জাগে স্নানে
জলে পাথর ছুড়ে মূলত দেখতাম—
হ্রদের পানিতে অবয়ব ঢেউ
আমাদের লুপ্তপ্রায় গান
ছিল হেঁয়ালির ঘোরে ফেরা চোখ
উড়ে যেতো ঝাঁকবদ্ধ পতঙগ ও শিস্
—”ওঁ-তৎ-সৎ”
বলে, প্রাচীন পুরুষ হ্রদে যজ্ঞ দিচ্ছে
আর মুঠি-মুঠি ছুড়ছে অহম-দানা
খসে পড়া ক্লান্তির এইসব অবিশ্রান্ত পর্বত
মনে আসে কোনো প্রাক্তন শরীর
বহুবিদ ধারাপাত খুলে ফেলে একপাশে
অনাবিল চিত্তে নেমে পড়ি হ্রদে
আর ভেবে বসি—
‘হ্রদ হল হূদয়ের আদিপিতা’
.
মুছে ফেলে—
সমস্ত বেদনা আর উপচানো মুখের বাক্য, ক্লেদ
আহা হ্রদ— মাতৃযোনি— পবিত্র উজ্জল বীর্য
আজ জনতার ভিড়ে উঠে আসে,
একেকটা আহামা ঢেউ— আহা হ্রদ


আজ্ঞাবাহী

প্রতিটি সকালবেলা—
অবনত দেহে দাঁড়াবে— মুখোমুখি সূর্যের—
শয়তান ডানা মেলে আড়াল করবে তেজোময়ী আলো
জন্মদাতা পিতার চে শয়তান কিছুকিছু মন্দের ভালো
বাদুড়ের ডানামেলার ঢঙে—
ছড়িয়ে দিবে উত্তপ্ত পশমের কালো তাঁবু,
মেলে দিবে দুহাত, ডানে-বামে
আবহমান দাস, তবু মুক্তির মত—
প্রতিটি সকালবেলা, তুমি সূর্যের মুখোমুখি
শ্বাসযতি দিবে—
য্যানো তুমি আজ্ঞাবাহী মিকাঈল
ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিতেছ,
মানুষের ইতিহাসের প্রথম সকালবেলা


নিহিলিস্ট

জঙগল থেকে পালিয়ে এসেছি বাঘের ভয়ে
মানুষের প্রান্তরে
আমি এক ভীত হরিণ
এসে দেখি মানুষ
তাদের অন্তরকে বানিয়েছে উঁচু-উঁচু স্তম্ভে
গুনে-গুনে সংখ্যা জমায় তারা
মূলত সিস্টেমে মারছে একে অন্যকে
.
ভেবে দেখি শেষমেশ
জানোয়ার মাত্রই পালিয়ে বেড়ানো কেবল নিজের কাছ থেকে একাএকা


ধ্যান

সারস—
ক্রমাগত ডুব দিও মাছের আশায়
হৃদয়ের সরোবরপূর্ণ করে, জমিয়ে রেখে প্রচুর মাছ
আরো আরো মাছের বেদনায়
.
প্রার্থনায় রত থাকো পেটের, জোটাও ক্ষুধার আহার
নিজের সামনে; নিমজ্জিত থাকো কেবল নিজের ধ্যানে
.
মৃত্তিকা খুটে—
তোমাকে মাংশ ভেবেছে যারা;
তাদেরও রক্তে রয়ে গেছে ভীষণ ফ্যাসাদ; মতিভ্রম তারা
দ্রোহের ভেতর দ্রোহের সম্প্রদায়
তারা মূলত আগুন বহনকারী—
.
এসব ভেবে— কাজ নাই তোমার;
কেবল ক্ষুধার আহারে নত থাকো চুপচাপ
জলের বিবরে স্বীকৃতি দিয়ে, জ্বালাও সন্ধ্যাদীপ


সংহিতা

রতিকাম শেষে—
তোমারও কি মাথা মুচড়ে উঠে আসে চরম খিদে
আকাশের দিকে
আগুনের পাশ কেটে যেতে চায় শরীর—
অথচ পৃথিবীর কাছে তোমার হা করা মুখ
এখন তা মাংশবৃক্ষ কেবল
দিনশেষে যে কিনা অপারগ শামুক—
বেদম আহত মগজ নিয়ে ঘুমায় যেমন কুকুর


কাকাতুয়া

পঙগপাল ঝাঁক, উড়ে যাচ্ছে শস্যক্ষেতের
উপর— সূর্যকে বিনয়ে পাশ কেটে চলে
যাচ্ছে সাকিনে
কাকাতুয়া!— আসন্ন বিপদ, কাথা মুড়িয়ে
সারবান চঞ্চুতে সারিন্দা বাজাতে বাজাতে
তুমি চলে যাও— সূরম্য প্রসাদে
সেখানে তোমাকে, তোমার যত আত্মীয় হেন
আবেগের সুর দিয়ে ডাকে— যেখানে থাকো
হৃদয়ের টান তুমি অনুভব কর
থাকো আরো যতদূরে আভাস পাবে ভেবে,
সমস্ত মায়াও ধারণার পাশাপাশি
দূরপাল্লার দিকে ডানা খুলে— ঘুমিয়ে
রেখে, মগযে মহাত্রাস। আয়ত বিভ্রম
যত ছুড়ে দিয়ে বাতাসের দিকে— এই
রাষ্ট্রের পাওনা আধেক বুঝিয়ে রেখে—
শিস্ কেটে কেটে তুমি চলে যাও—
সূরম্য প্রসাদে
স্তোত্রপাঠের একময়দান মারহাবা নিও!
আরো নিও বিস্তর উড়ন্ত চুম্বন
.
আহূত মহামতি কাকাতুয়া—
সম্ভাষণ তোমায়, আঙুর দানায় তৈরীকৃত
মুক্তার শরাবে, মুখ ডুবিয়ে, তুমি ভুলে
যাও— ‘মৃত্যু- আত্মা- জীবন’


ঢেকে রাখা সম্ভব যতটা, আপনা হাস্তি—

নিখিল পাহাড়ের ধারনার চে, নিবেদিত করে রাখে মদের ঘ্রাণ; সম্ভব মত বিভ্রম টেনেটেনে। বারুদের সমাহার যত্র ফাটে, পিঁপড়ের মুখে তপ্ত বার্তা বয়ে চলে, তৃতীয় যুদ্ধের দিকে— বিশ্বব্যাপী আরোহ তালে। এখানে যদিও কিছু ঘুম হয়, না হবার মত করে। ধরে রেখে, বুনো কেশে আশ্চর্য প্রবাহ; উজ্জ্বল বিভায়— আপনা হাস্তি। যদি-বা শৃগাল হয়ে, বাড়ায় শরীর; পুড়ে যাবে— কিছু লোমশ-কেশর। তথাপি মানুষের আদর, কী ভীষণ আগুন করেছে তাদের; কদাপি পাপবোধ নিয়ে, কিছু ক্রুদ্ধ লেলিহান দাবে উত্তর দিকে— পর্বতমুখে। দেখেছি তোমার শরীর— সূর্যাস্থ বরাবর, সোনালি আকাশের পটে; দ্রাক্ষালতার পাতায় উঠছে পাকিয়ে পাকিয়ে। আরো দেখেছি— সেই দৃশ্যের ভেতর, কিছু অনাহুত আমাদের প্রাণ; প্রচেষ্টারত। তবুও তোমার শরীর ঘেষে বসেছি, ভেবেছি— নির্ভতার এক বিশাল খিলান


অবকাশ, ঝিমিয়ে আসে দিকে দিকে—

অবশ হয়ে এলে— সন্ধ্যার মত, বেদনায় এলিয়ে দিও ক্লান্ত বিনোদন তোমার
আরো কিছু পথ পুষে দেহে— বিশাল মহিষের দৌড়ের উপর বজায় রাখা শিঙে
এখানে ফৌজি নাচের আসর হলে— পুরাতন সন্তানেরা উলঙগ চলে এসে পড়ে
ঝাঁক বেঁধে এখনও আসছে তারা, শত বছরের তোমার দিকে— ঘাড়ত্যাড়া
অথচ তাদের মত আরো অনেকেই এসেছিল বহুআগে— যূথচারী ভেঙে ভেঙে
মাছির মত উড়ে এসে কেবল ছাই হয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে শেষে, আগুনের দিকে


আলিফ, কিছুটা রকেটলঞ্চার—

তোমারও বেদনা ছিল এইসব জানা না-জানার
এইসব মেহফিল ছিল কিছু আঁধারে লোপাট—
আরো ছিল তীক্ষ্ণ আবেগ, ছিল বেদনার নামাজ
ঐপাড়ে বসেছে মদের বার, কাটা শুয়র ক্লেদপাথর
একটা সিগারেট আমি উঁচিয়ে ধরি সূর্যের দিকে
এদিকে ছাদ উত্তপ্ত তবু বরফ ঢুকছে হৃদয়ে—
ক্লিভেজ খুলেছে এক কিশোরী জানালার কার্নিশে
তাকে দেখে দেখে, আর তাকে দেখে দেখে—
অন্য কোথায় তাবু খাটছে আমার অন্য বিড়ি
এক আলিফ যতটুকু, ঠিক ততটাই মারো টান
ডেডমেটালের শিঙে চেপে বসে অন্য কোথাও
তোমার প্রেমিকা বোধয় নাচাচ্ছে ঈষদুষ্ণ ওলান
তবু গাভীন দেহ, ফোটে আছে সূর্যমুখীর শব্দে
এরচে ভালো তুমি মসি কেটে যাও অসীমে—
য্যানো তীব্র বুলেট উড়ে যাচ্ছে— দূর আসমানে


ব্যঞ্জনাময় শীত, এথিক্যালি ও তার আগুনঝরা বক্তব্যের ধারণা সমগ্র—


যখন দাড়িয়ে থাকি ষোলশহর ধরে একটানা— যেভাবে ঝিমিয়ে আসে মুখরিত চেতনা আমাদের হতোদ্যম
নুয়ে আসা আগ্রাসী মর্গের দিকে— বিশাল বগির ট্রেন, ঘাড়ত্যাড়া গণ্ডার রূপে আসে— নাকউঁচা হিটলার সে
য্যানো ক্ষমা চাওয়া উচিৎ তার কাছে, অনাবিল চিত্তে— তার সেইসব যাওয়া-আসা দেখি শৈতপ্রবাহে
বিন্যাসে পাক খেয়ে, উত্থিত হবার প্রস্তাবনা নিয়ে; শিকড় হতে ধারণ করি সূর্যের প্রভা— বিকিরণ যাত্রা
তবু তাক করে থাকা তেজস্বী আলোর সাথে বাইনচোদ হয়ে বসে থাকে— একাকী পিতামহ, মহীরুহ
প্রভাবিত বুভুক্ষার দল আক্রমণাত্মক শৈতবাতাস উড়ে আসে, কোথা হতে— জাম্পার খুলে ফেলে—
কুয়াশায় প্রবাহিত যীশুর সন্তানেরা গেয়ে উঠে—
‘খুলে দ্যাখো, প্রণয়ীরা কেমন কাঁপছে ঠাণ্ডায়— জিন্দানে রাখা বন্দী অথবা কিঞ্চিত বিয়াদবের মত।’
বুদবুদ জলপতনের ভেতর যতটা হাইব্রিড ধরে— চলে যাবার রাস্তা তৈরী করে একটা শামুক,
প্রসারিত রেলবিট ধরে— ফরেস্টগেটের আরো গহীনে— বহুদূরে গিয়ে অন্ধকারে ডুব দিবে— সে একাএকা
সিনার ভেতর তখন স্বজনপ্রীতির গন্ধ, ভারবাহী আদর্শের মত লাগে
ষোলশহরের খাঁজে, আলোরও দূরে— পতঙ্গেরও আছে কিছু উজ্জ্বল দেহ মোবারক
পুর্বপুরুষের ঢাকনায় চেপে রাখে তারা, দোজখের আগুন— যদৃচ্ছার দাগ; লব্ধ মাখা ক্রোধ, উৎকৃষ্ট নসিব সহকারে।
তাদেরও ধারণা, আলো হল গাঢ় তেড়ে আসা এক জুঁইফুল— বলপয়েন্ট হয়ে ইগোর পেনিসে এসে তীব্র খোঁচা মারে শুধু

আমরা তখন পালিয়ে আসি তুমুল নার্সারি হতে ফরেস্ট গেইট ধরে—
ঝেঁপে আসা সন্ধ্যার মত করে— অনায়াস ভঙ্গিমায়
বিদ্ঘুটে শ্যামলিমায় ছড়িয়ে থাকা বিশাল বিল্ডিঙের সামনে,
য্যানো কেউ তাড়িয়ে এনেছে এখানে—
নীলাভ হৃৎপিন্ডপূর্ণ মদের সরোবর নিয়ে তাকিয়ে থাকি তার দিকে—
ভাবি সিগারেট জ্বালিয়ে আমি সন্ধ্যার টেবিলে পা তুলে বসে আছি— বিপুল হর্ষে
ক্রোধে ফেটে পড়া শান-শওকত কেঁপে উঠে আমার আতংকে, তারাবী নামাজ সহ
কিছুকাল আগেও একপাল হরিণ এভাবে কেঁপেছিল শীতের শংকায়— বিস্তৃত রাতে,
দুঃখবাহী থালার সাথে— মিশিয়ে রেখে পরমকাষ্ঠায় ডুবে থাকা, অপাংক্তেয় ঘ্রাণে

প্রতিসন্ধ্যায় আমরা রেলবিট ধরে দাড়িয়ে থাকি—
দূর বিশ্বপাঠশালা হতে সিস্টেমের শীত ক্রমশ ঘন হয়ে নামে— আমাদের দিকে
পুনরায় ফরেস্টগেটের ভেতর উড়িয়ে নিয়ে আসার মত করে
দিনশেষে তবু নরম হাত পুড়েছি শীতের এথিক্যালি ধারণায়—
যেখানে প্রখর আগুন লুকিয়েছি দেয়াল ঘেষে, সিগারেট অথবা মাইলস্টোন ঘনকুয়াশায়
এমন ভাবে গুজেছি নিজেকে—
য্যানো তুমি দেখে যেতেছ কেবল আমাকেই, ঋতোপনিষদের জ্বলসানো কাবাবে


আঈনুন, আমাকে টেনে রাখা চুম্বক। মিশরের দিকে—

তার সেই চলে যাওয়া আমাকে আজ কাঁদায় না বহুদিন—
ভুলে গেছি বহুদিন তাকে— আরো ভুলে যাবো ভেবে, নিজেকে রাখি নির্জীব করে—
সেইসব স্মৃতিগত শোকতাপ মগযে জমা রেখে— প্রতিদিন ভুলে যেতে থাকি তাকে
.
ভুলে যেতে হবে ভেবে আরো দূর রাস্তা মাপি— যেতে-যেতে পুরাতন টার্মিনালে ঢুকে পড়ি;
য্যানো তার এইভাবে চলে যাবার প্রয়োজন ছিল দিনরাত;
আরো অতীব কঠিন করে ধরে রেখে আমাকে, চলে গেছে সে বহুদূরব্যাপী, গ্লানির পথে—
ক্যানো জানি মনে হয় ভোজপাত্র হাতে— সে হেটে আসে অযথা আমার শহরের দিকে
না জানি তার দীনহীন ইমোশন ক্যানো পড়ে আছে— আমার শরীরের কোন ভাগাড়ে
তারচে ভালো হতো সিগারেট টেনেটেনে; সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে চলে যাওয়া— মিশরের পথে
.
আমারও আছে দারাপরিবার—
পেছন হতে কদমের মাঙশ-হাঁড় কামড়ে ধরে ঝুলে আছে তারা,
আর গর্ভপূর্ণ করে ঢেলে নিয়ে গেছে যত ম্লান আর মায়াময় ঘোর—
.
এখন তার চলে যাওয়া দেখেদেখে ফুরায়ে যাচ্ছে চোখের আলো
অথচ তার ক্লান্ত মাথা ছুঁয়ে চলে গেছে আমার শরীর—
চাপা পড়ে আরো দিনের তাপে, অতি শীর্ণকায় হয়ে আসে এই দেহ
একাএকা ঘুরে বাংলার ফুটপাতে—
বিচলিত প্রতিদিন জন্মের তাপে ডানামেলে সূর্য, পেছনে হেলে গেলে
দেখেছি,— আসলে মানুষ নিভৃতে ঘুরেফিরে নিজের ছায়ার পিছে-পিছে
.
এদিকে তবু আঈনুন—
চলে গিয়েও ক্যানো সে চলে যাচ্ছেনা আমার থেকে দৃষ্টির আড়ালে
পৃথিবীর কেন্দ্রস্থ হতে— আরো দূর অন্যকোথাও
আসার ভান করে, না এসেও ক্যানো তার এভাবে রয়ে যাওয়া দরকার— আমার সূত্র ধরে


Facebook Comments