শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Home > ফিচার > হুমায়ূন আহমেদের ‘কুসুম’ চরিত্র যখন মারজান চৌধুরী নিজেকে তুলে ধরেন আলোকচিত্রের ফ্রেমে…

হুমায়ূন আহমেদের ‘কুসুম’ চরিত্র যখন মারজান চৌধুরী নিজেকে তুলে ধরেন আলোকচিত্রের ফ্রেমে…

Spread the love
প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমদে’র  “শ্রাবণ মেঘের দিন” বইটি হাতে নিলেই প্রতিবার কুসুম চরিত্রের মধ্যে ঢুকে যাই আমি। এবং শেষ পর্যন্ত অসহায়বোধ করি। কুসুমের ভালবাসা,প্রিয়জন,পরিণতির মতো হয়তো আমারও কোথাও না কোথাও দূর্বলতা আছে। তাই নিজেকে কুসুমের দাঁড় করালাম। অবশেষে এই আমি কুসুম হলাম। জানি না কতটা পারলাম, তবে চেষ্টা করেছি।
 
চিত্র ধারণাঃ মারজান চৌধুরী।
ছবিঃ সুমাইয়া।
কুসুমের বয়স কুড়ি হয়েছে।এই বয়সে গ্রামের মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়-কুসুমের হচ্ছেনা।সমন্ধই আসছেনা। কেন আসে না,সেও এক রহস্য।তার গায়ের রঙ শ্যামলা। কুসুম দেখতে সুন্দর চেহারার অতি কোমল ভাব অবিশ্যি তার স্বভাবে নেই। তার জন্য কোন মেয়ের বিয়ে আটকে থাকেনা। কুসুমের আটকে আছে।
কুসুম কলসি নিয়ে পানি আনতে বের হবে এমন সময় মতি উপস্থিত হল। কুসুমের বুক ধ্বক করে উঠল। এই ধ্বক ধ্বক অনেকক্ষণ ধরে করবে তারপর আস্তে আস্তে কমবে। ‘যাও কোথায় কুসুম?’ ‘দড়ি কলসি লইয়া বাইর হইছি। কই যাই বুঝেন না?’
মেয়ে হয়ে জন্মানোর অনেক যন্ত্রণার একটা হল-মনের কথা বলা যায় না। মনের কথা বলার নিয়ম থাকলে অনেক আগেই কোন এক চান্নি পসর রাতে কুসুম উপস্থিত হত মতির বাড়িতে।মতি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থাকত।কুসুম বলত,কি সুন্দর চান্নি পসর দেখছেন? মতি আমতা আমতা করে বলতো,তুমি এতো রাইতে, বিষয় কি?
কুসুম বলত,আফনের ঐ গানটা শুননের খুবব ইচ্ছা হইল চইলা আসলাম
‘কোন গান?’
কুসুম তখন গুণ গুণ করে গাইত-
‘তুই যদি আমার হইতি
আমি হইতাম তোর।
কোলেতে বসাইয়া তোরে করিতাম আদর।’
মোবারক হাসিমুখে বললেন,সুরুজ এই দুইটা আমার পাগলা মাইয়া।বড়টার নাম কুসুম ছোটটা পুষ্প।
সুরুজ চোখ নামিয়ে ফেলল,অস্বস্তি নিয়ে কাশল। কুসুমের বুক ধ্বক করে উঠল।সুরুজ নামের এই যুবক এমন ভঙ্গিতে চোখ নামিয়ে নেবে কেন? এমন ভঙ্গিতে কাশবে কেন? বাপজান এই ছেলেকে কেন নিয়ে এসেছে?
কুসুম জলচৌকি থেকে উঠল। তার ভেতর সামান্য অস্থিরতা দেখা গেল। সে চোখের পানি মুছে ফেলল কেউ তাকে লক্ষ্য করছেনা। এই ফাঁকে চট করে মতি ভাইকে দু’টা কথা বলে আসা যায়।
বাড়ির উঠোন জ্যোৎস্নায় ভরা কুসুম বলল, ‘কি চান্নিপসর দেখছেন মতি ভাই। মাইনষে যেমন বৃষ্টির মইধ্যে গোসল করে আমার জোছনার মইধ্যে গোসল করনের ইচ্ছা করতেছে।গোসল করবেন মতি ভাই?’ ‘তুমি যে কি পাগলের মতো কথা কও’ কুসুম ধরা গলায় বলল,‘আর কোনদিন আফনেরে বিরক্ত করব না মতি ভাই। আইজ আমার কথা শুনেন আইয়েন উঠানে দাড়াইয়া দুইজনে শইল্যে চান্নি পসর মাখি’ ‘বাড়িত যাও কুসুম’

 

কুসুম হাসছে।সে হাসি পুষ্পের ভাল লাগছে না। সে ভীত গলায় বলল,বিষ খাইবা না তো? ‘ ‘আরে দূর বোকা। বিয়ার কইন্যা বিষ খাইলে বিয়া ক্যামতে হইব?’ কুসুম খিল খিল করে হাসছে।কুসুমের মুখ দিয়ে ফেনা বেরুচ্ছে।কুসুম ভাঙ্গা গলায় বলল,’মাগো আমারে মাফ কইরা দিও। আমি বিষ খাইছি। ধান খেতে যে বিষ দেয় হেই বিষ।’
Facebook Comments