Friday, January 28, 2022
Home > গল্প > অভিমানের এপিঠ-ওপিঠ ~ শাহরিয়ার জামান তনয়

অভিমানের এপিঠ-ওপিঠ ~ শাহরিয়ার জামান তনয়

Spread the love
ইরার মুড কিছুটা খারাপ। নকীব ফোন ধরছে না। সে আবার ফোন হাতে নিলো। নাড়াচাড়া করতেই নকীবের কল বেজে উঠল। ইরা উৎফুল্ল হয়ে রিসিভ করল।
 
– হ্যালো!
– এই সময় হল তোমার?
– স্যরি!
– আজ কী বার মনে আছে তোমার?
– মনে না থাকলে কল দিয়েছি? তুমি তো ঘুমিয়েই চলেছ!
– আচ্ছা গেট রেডি! আমি তোমাদের বাসার সামনে আছি!
– কী, তুমি?
ইরা আনন্দে আর কিছু বলতে পারছে না। ফোন নিয়েই দৌড়ে বেলকুনিতে চলে আসল। তার একবার ইচ্ছা হল নকীবকে বাসার মধ্যে আসতে বলতে। কিন্তু মুহূর্তেই মনে হলো, নাহ্! একটা বিষয় সে মন থেকে চাইছে না, শুধু শুধু আজকের মুডটা নষ্ট করা হবে। গোলাপি রংয়ের থ্রি পিস গায়ে ইরার। চুলগুলো আঁচড়ানো তবে খোলা বেশ ভালো লাগছে। সকালের স্নিগ্ধতা ইরাকে আরো সুন্দর করে তুলছে।
– তুমি গাড়ীতে বসো আমি দশ মিনিটেই আসছি ।
– আমার মনে হয় দশ মিনিট লাগবে না তোমার!
– কেন?
– যে অবস্থায় আছ, খুব ভাল লাগছে! একদম ন্যাচারাল বিউটি! সত্যি বলছি! অবশ্য চাইলে চেঞ্জ করে নিতে পারো! আমি আছি! আসো!
 
ফোন রেখে নকীব প্লে লিস্টে থাকা গান প্লে করলো- ‘আমারও পরান যাহা চায়, তুমি তাই, তুমি তাই গো…’ রবীন্দ্র সংগীত। এখনো কতো জীবন্ত।
 
নকীব বাড়ীর দিকে উঁকিঝুঁকি দিয়ে গাড়ীটা একটু সরিয়ে রাখল। ইরাকে কী বলার জন্য নকীব আবার কল দিল। ইরার ফোন রিং তার কানের কাছেই শুনা যাচ্ছে।
– ওহ্ তুমি এসে গেছ? সে কী, হোয়াই নট ইউ চেঞ্জ?
ইরা গাড়ীতে উঠতে উঠতেই কথার জবাব দিল, -বিকজ ইটস্ লুক নাইস দ্যান আদারস!
নকীব মিষ্টি করে হাসল। ইরাও হাসল। তবে ইরা কিছুটা জড়তা ফিল করছে। ভাবছে কিছু একটা।
– গান শুনবে ?
– কার ? তোমার! নাকি অন্য কোনও শিল্পীর?
আপাতত শিল্পীরটাই শোনো! আমি গাইতে গেলে ড্রাইভিং কেন বি প্রবলেম!
সুন্দর করে কথা বলে নকীব। ইরার ভাল লাগে বিষয়টা। নকীব গান প্লে করে গাড়ী ড্রাইভ করা শুরু করল, ‘এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হত তুমি বল তো ?’
 
ভাললাগার সবগুলো গানই আছে। গাড়ী ছুটে চলছে। ইরা নকীবের দিকে তাকিয়ে আছে । নকীবও ইরার দিকে তাকিয়ে আছে।
কী ব্যাপার ? কী দেখছ এভাবে ? অন্য দিকে তাকাও। বলেই ইরা নকীবের মুখটা বিপরীত দিকে ঘুরিয়ে দিল। নকীব মিষ্টি হাসি দিয়ে গাড়ী সামনের দিকে মুভ করল। গাড়ী কিছুদূর এলেই ইরা নকীবের হাতের উপর হাত রাখে। দুজনারই দৃষ্টি সামনের দিকে। ইরা মুখ খুলল।
– নকীব!
– নকীব ঘুরে তাকাল।
– ইরা!
– আই এম স্যরি….!
নকীব কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে ইরার দিকে। ইরা লজ্জায় মাথা নিচু করে।
– ইটস অল রাইট মাই এন্জেল!
ইরা নকীবের দিকে তাকাল আবার।
– ইয়েস মাই এন্জেল! ইটস অল রাইট!
নকীবের গাড়ী সামনের দিকে ছুটে চলছে…….
Facebook Comments