Monday, January 17, 2022
Home > গল্প > গল্প হলেও সত্যি ~ ঝুমাইয়া আফরোজ কবিতা

গল্প হলেও সত্যি ~ ঝুমাইয়া আফরোজ কবিতা

Spread the love

আমার একটা ফুফাত ভাই ছিল।নাম রাশেদ। প্রতিদিন আমরা সবাই মিলে তাকে ঘিরে ধরতাম গল্প বলার জন্য।রাশেদ ভাই আমাদেরকে নানা রকম মজার মজার গল্প শুনাতেন।কখনো ভূতের গল্প, কখনো বা কোন রাজা রানীর গল্প।আমি ছিলাম সবার মধ্যে সবচেয়ে ভীতু। রাশেদ ভাইয়ার কাছ থেকে ভূতের গল্প শুনতাম তারপর ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে ভাইয়াকে আকড়ে ধরে বসে থাকতাম।বুকটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যেত।

একদিন রাশেদ ভাইয়া বলল আজ আমি তোদের একটা সত্যি গল্প শুনাব।আমরা সবাই উৎকণ্ঠা হয়ে বসে রইলাম রাশেদ ভাইয়ার কাছ থেকে সত্যি গল্প শুনার জন্য।

রাশেদ ভাইয়া আমাদেরকে তার কাছে নিয়ে বসালেন।আমি ভাইয়া গা ঘেষে বসলাম। রাশেদ ভাইয়া বলতে লাগলেন” আমি যখন খুব ছোট তখন দাদা ইয়া বড় একটা ভূত মেরেছিলেন।আমরা সবাই অবাক হয়ে জানতে চাইলাম কিভাবে মারলেন? ভূত তাও কি কখনো মানুষে মারতে পারে।ভাইয়া বললেন হ্যা, দাদা সত্যি সত্যি একটা বড় রকমের ভূত মেরেছিলেন।তারপর ভাইয়া আমাদের শুনালেন সেই ভংঙ্কর ভূত মারার গল্প।আমি শুনে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।আসলে সত্যি সত্যি দাদা ভূত মারতে পেরেছিল কিনা।দাদাজানের মাছ ধরার খুব শখ ছিল।

তিনি প্রায় রাতে মাছ ধরার জন্য দূর দূরান্তে বরশি নিয়ে চলে যেতেন।সকালে ফিরে আসতেন বস্তা ভর্তি বড় বড় মাছ নিয়ে।এসব মাছ নাকি বড় বড় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে কাটতেন।মাছের একটা পিছ দুই আড়াই কেজি ওজনের হতো।একদিন রাতে দাদা মাছ ধরতে গেলেন আড়িয়াল খা নদীর শাখা নদীতে। এটাকে আমরা গাঙ্গ বলে থাকি।গাঙ্গের একপাশে ছিল হিন্দু পুড়ানোর চিতাশালা।দাদা চিতাশালার কাছেই তার তাবু খাটালেন।দাদা আর তার সাথে ছিল এক বন্ধু।দুই বন্ধু দুই তাবুতে বসে মাছ ধরছে।বরশিতে খাবার দিয়ে দাদা আর তার বন্ধু শুয়ে আছে।

একটু পরেই শুনতে পেল বরশিতে কোন মাছ লেগেছে।মাছ আনতে দাদার বন্ধু বরশি টান দিল কিন্তু বরশি কিছুতেই পাড়ে উঠাতে পারছেনা।মনে হচ্ছে বড় কোন মাছ লেগেছে বরশিতে।কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আর সেই নড়াচড়া নেই মাছের। তিনি মনে করলেন মনে হয় মাছটি বড়শি ছিড়ে চলে গেছে।তিনি তাবুতে ফিরে এলেন।তখন রাত সাড়ে বাড়োটা বাজে।এই পর্যন্ত দুজন মিলে মোট তিনটি মাছ ধরেছে।দুইটি বড় সড় আর একটি ছোট মাছ।ওগুলো তাবুতেই ছিল। একটু পর আবার শুরু হল সেই মাছের আওড়ানি।তুলপাড় করে তুলেছে মাছটি।দাদা দৌড়ে গেলেন মাছ উঠাতে।এবার ও একি অবস্থা।এমন সময় দাদা টর্চ লাইট অন করে পানির দিকে ধরলেন।

Facebook Comments