বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২
Home > গল্প > গিফট ফ্রম অ্যা প্রসটিটিউট | জীগল মণ্ডল

গিফট ফ্রম অ্যা প্রসটিটিউট | জীগল মণ্ডল

Spread the love

– লোকটা ‘আসল পুরুষ’ কি’না জানিনা, তবে তাকে আমার ভাল লাগে। সঙ্গম শুরুর দিকের আচরণ আর বীর্যপাতের পরের আচরণে কোন তফাৎ নেই। নকল কোন আদর নেই, ভিডিও থেকে দেখা কোনকিছুর প্রয়োগ নেই। সে শুধু নিজের মত।

– লোকটা তো নারীখেকো ! !
– কোন পুরুষটা নয়??
– আমরা শতভাগ প্রফেশনাল। নিজেদের দিক থেকে সাধারণত কোন মুখোশ পরিনা, সমাজ মাঝেমাঝে পরতে বাধ্য করে। খদ্দের তো অনেকেই আসে। কত ধরনের, কত ঘাটের লোক। আর অভিজ্ঞতা , তা তো বিচিত্র। এখন কল গার্লদের সাইট ও রমরমা। বাইরেও দাঁড়াতে হয়না খুব একটা। ফোনেই অর্ডার নিতে পারি। আর জানাশোনার কথা যদি বল, তাহলে ছলাকলা তো শিখতেই হয়। উপমহাদেশে এই লাইনে আলাদা কিছু ব্যাপার আছে। তবে এখন ইউরোপের মত স্বাস্থ্য, কিছু জ্ঞান নেয়া, ডাক্তারী টেস্ট করা, টিউটরিয়্যাল ভিডিও দেখা , যদিও ইউটিউবে যৌনতা আর পতিতাবৃত্তি নিয়ে প্রচুর ফালতু ভিডিও আছে। এগুলো দেখি। মানুষের মন আচার আচরণ সহ এসব বিষয়ে কিছু বই ও নিয়েছি অনলাইনে অর্ডার করে। এভাবেই চলছে আরকি।

– আর শুরুর দিকের ঘটনা বা খদ্দের?
– তাহলে শোন, আসলে খদ্দের বলব কি জানি না। বছর তিনেক আগে তখন ঢাকাতে কেবল শুরু করেছি। এক ছেলে আসল। সুন্দর ছেলে। সন্ধ্যা সন্ধ্যা সময়। বলল যে, আপা একটা কথা বলব। আমি ঝাড়ি দিলাম। সাথের দুইজনেও মজা নিল। ছেলে বলে কি আপা আমি সেক্স করতে আসিনি তবে একটা কাজের অফার নিয়ে এসেছি। বললাম কি অফার? সে জানালো চটি পড়তে হবে এগুলো রেকর্ড করে ইউটিউবে আপলোড করবে। সে ইউটিউবার হতে চায়। আমাকে টাকাও দেবে। আমি বললাম আমার তো উচ্চারণ ভালো না। তখন সে জানাল এগুলো কোন সমস্যা না। ওরা উচ্চারনের কোর্স করায়ে নেবে। কাজটা আমার কাছে অন্যরকম মনে হলো। আমাদের লাইনের অনেক বই আর পেপারে দেখেছি যে, ভাল ভাবে কথা বলতে পারা, আচরণ, ব্যবহার এগুলো দরকারী। তাই রাজী হলাম। বললাম এক বছর কাজ করব সর্বোচ্চ। ছেলেটা রাজী হলো।
তারপর টিএসসিতে বসে এমন এক আবৃত্তি সংগঠনে ভর্তি করাল ভুল পরিচয়ে। ক্লাস করতে আনইজি লাগত প্রথমে। তারপর ঠিক হয়ে যায়। তিন মাসে উচ্চারণ শিখলাম। তারপর ওরা বেশ গোপনে রেকর্ড করত। গীটার ফিটার নিয়ে ঘুরত। সবাই ভাবত গানের রেকর্ড। আসলে ছিল চটির রেকর্ড। ওরা বেশ ভাল গান করত। তবে গানের ভিউজ পেত না। এ নিয়ে ওদের রাগ, অভিমান, ক্ষোভ ছিল। তাই ভিউ বাড়ানোর জন্যই এগুলো করল। বাঙালি শ্রোতা ভাল গানের চেয়ে চটি বেশি শোনে। ওরা কেউ কেউ চটি লিখত। ওগুলো পড়তাম। কিংবা রসময় গুপ্তের লেখা পড়েছি সিরিজের মত করে। ওরা টোটাল গল্পটা বলত আর কখনো আমি নিজের মত কিৎসা ঢংয়ে বলতাম। ওরা আমাকে বেশ সম্মান করত। খারাপ ব্যবহার করেনি কখনো।

শোন, আজ তো অনেক কথাই বললাম। কি করবে এত সব শুনে? এতবার কেন আস? কি কাজ তোমার?

– আপু, থিসিসটা ভালভাবে করতে হবে। একেবারে ফিল্ড থেকে ডাটা নিতে হবে। আপনাদের কাছে কেমন লোক আসে তাদের আচরণ কেমন এসব নিয়ে। ডাটা ভাল হলে কাজ ভাল হবে আর আমার CGPA টা ও হায়েস্ট হবে।
– আরে বোকাচোদারা পতিতাদের কাছে এসেও তোরা সিজি সন্ধান করিস। আমি তোকে কোন কোর্স পড়িয়েছি? না কি একসাথে শুয়ে কোন কোর্স পড়তে চাস?
– না মানে আপু আমি আপনাকে বোনের মত দেখি।
– ওরে আতেল। আবাল একটা। স্যারদের তেল দিতে দিতে অভ্যাস হয়ে গেছে তাই না?
– আপু এই ডাটাগুলো পেলে কিছু ফান্ড পাব আর টিউশনিও নেই এখন। যদি একটু সাহয্য করতেন!
_ আচ্ছা বল।
– আপু বাংলাদেশে এই পেশাতে থেকেও আপনি এত কিছু কিভাবে জানেন? এত স্মার্ট কেন আপনি? আপনার বাসা কোথায়?
– কিরে কি পাইছিস তুই? আমি কি তোকে চাইল্ডহুড মেমরিজ বলব? শালা গর্দভ। দূর হ! তুই তো থিসিস লিখবি। যা টপিক সেই মত প্রশ্ন করবি। এর বেশি না।
– পতিতাদের জীবন কিভাবে শুরু হয়, শেষ হয়, কি ঘটনা ঘটে এসব নিয়ে প্রচুর গবেষনা, সাহিত্যকর্ম, নাটক, সিনেমা হইছে। ওগুলো ওল্ড টপিক।
– তোর যে রিসার্চ দরকার সেটা কইরা সিজি বাড়া, বাড়া একটা। দেখ, সাকিব সেঞ্চুরী করে কি সাংবাদিকদের সব বলে? বলেনা। কম কথা বলে। আমিও তোকে কম কথা বলব। ও যেমন নাম্বার ওয়ান ওর ফিল্ডে, আমিও নাম্বার ওয়ান এই ফিল্ডে। যা আজ যা পরে আবার আসিস।

-দুইদিন পরে এলাম। এবার কিছু শুনতে চাই।
– এখন যা। মুড নেই। ঘন্টাখানেক পরে আয়।
-আচ্ছা আপু।
– এখন তো মুড আসলো, তাহলে বলেন আপনার স্পেশালিটি কি?
– শোন তুই না আমার ভাই, আমাকে আপনি বলতে হবে না, তুমি করে বল।
– আচ্ছা আপু তোমাকে সবাই আলাদা কেন বলে।
– আরে তুই এই লাইনের আরো লোকের সাথেও কথা বলছিস। যা, শালা পাকনা হইছিস দেখা যায়।
– হু গিয়েছিলাম। ওরা তোমাকে আলাদা বলে কেন?
– আরে আলাদা ফালাদা কিছু নাই। আজ যা কাল কথা হবে।
– আপু কাল বলেছিলে আজ সময় দেবে। – হ্যা বল কি?
– দেখ তোমার অতীত বলতে হবে না। বল এই পেশার বাইরে স্পেশাল আলাদা কি কর?
– আরে ধুর এইটাই তো ঠিকমত পারিনা। শিখছি এখনো। মিয়া খলিফা আর সানি লিয়নকে খদ্দেররা আমাদের প্রতিযোগী বানায়। মানুষ ওদের মত সেবা চায়। অদ্ভুত বাঙালি। ভাঙ্গাচোরা বেরঙ্গা জিনিস নিয়া ইউরোপ আমেরিকার ফিল চায়।
– তবুও বল অন্যেরা যা করেনা এমন কি তুমি কর?
– শোন, তুই কাউকে ভালবাসিস।
– ইয়ে হ্যা বাসি।
– তাকে তো কাছে পেতে চাস? মানে সেক্স টেক্স করতে চাস তো ওর সাথে? ইচ্ছে হয় তো নাকি?
– না আপু, না মানে।
– আরে অভিনয় করতে হবে না। স্যারদের সামনে অভিনয় করতে করতে পাক্কা হয়ে গেছিস।
– হু আপু মন তো চায় ই কিছুটা।
– প্রেমিকার সাথে ওসব করেছিস কখনো? – না।
– কেন?
– ও ই তো বাধা দেয়। না করে। বলে বিয়ের পরে।
– জোর করে করতে চাস? যদি সুযোগ পাস?
– মানে? বুঝিনি।
– মানে জোড় করেই ওর সাথে সেক্স করবি, আমি ব্যবস্থা করে দেব। রুম সহ। কোন কিছু একটা বলে নিয়ে চলে আসবি। তারপর করবি।
– না আপু, জোর করে করলে এটা হয়না, ওকে তো ভালবাসি।
– তাও ঠিক, তবুও দেখ। ও তো রাজী হতেও পারে।
– কি দেখবি রুমটা। চল আজ দেখাব তোকে। পরে মন চাইলে চলে আসিস।
– হুম রুম তো সুন্দরই আছে, সিম্পল পরিপাটি। আচ্ছা ঐ কর্নারের কার্টনে কি?
– গিফট। অনেককেই দেই। তোকেও দেব কি না ভাবছি।
– কি গিফট?
– থাম নির্লজ্জ! গিফটের কথা কি কেউ জিজ্ঞেস করে? মার্কস চাইতে চাইতে গিফট ও চাস।
– শোন, ওকে কি নিয়ে আসবি?
– দেখ আপু ব্যাপার জেনে ও আসতে চাইলে আনব।
– আর যদি না আসতে চায়?
– উফ ভাবছি। এটা অন্যায় হবে, আনব না।
– আরে জোর করে করলেও তো কিছু বলবে না। তোর প্রেমিকাই তো।
– না আপু থাক, আগে বলব করতে চাই, এটা শুনে ও রাজী হলে নিয়ে আসব। না হলে না।
– ও আচ্ছা। ঠিক আছে। বলে দেখিস। না আসলে নাই। প্যারা নিসনা। প্রয়োজন হলে বলিস। প্রয়োজন হলে লাগানোর মত মেয়ে ও পাবি, ব্যবস্থা করে দেব।
– না আপু তা লাগবে না।
– ওরে সাধু ঐ কার্টনের দিকে তাকায়ে লাভ নেই। গিফট তোকে দেয়া হবেনা। এটা পাবার যোগ্য তুই না।
– কেন আপু কি আছে এর ভেতর।
– সেক্স টয়েজ, লুব্রিকেন্ট, কনডম। বুঝলি। অনেক কাস্টমারই তো আসে। ধর্ষক বা ধর্ষণ করবে করতে চায় কারোকে এমন লোকও আসে। এগুলো জানার চেষ্টা করি, আমাদের পক্ষে এসব জানা সহজ অন্য যে কারো তুলনায়। যদি দেখি যে লোকটা সামনে হয়ত কারোকে ধর্ষণ করতে পারে তাহলে তার থেকে টাকা নেই না। লোকটাকে বলি যে যতবার প্রয়োজন হয় আমার কাছে এসো, অন্য আরো আছে তাদেরকেও লাগাতে পারবে। কিন্তু রেপ করো না। আর বাসায় ও যদি মন চায় তাহলে এগুলো নাও। তোমার গিফট। বাসায় ব্যবহার করো। তবুও নারী আর শিশুদের নিস্তার দাও। ওরা তোমাদের নির্মমতা নিতে পারেনা। তোমাদের এগুলো দেখে আমারই লজ্জা হয়, ঘৃণা হয়। আমার একজন বড়লোক ক্লায়েন্ট এগুলোর অর্থায়ন করে। কোন ধার্মিক বা সুশীল এর কথা এরা শুনে না। আজকাল তো ধর্ষকরাই ধার্মিক সুশীল সেজে থাকে সমাজে। তাই নীতিবাক্যের বদলে আমাদের লাইনের অপমানজনক বাক্য দিয়ে এদের আঘাত করলে এরা অনেকেই পরিবর্তন হয়। আমাদের কথা শুনেও। যখন বলি ধর্ষণ তুমি একবার মাত্র করবে, আমাদেরকে পাবে বারবার। তাও বিনামূল্যে। নিরাপদে। ভেবে দেখ কি করবে? তখন এরা ধর্ষণের বদলে আমাদের কাছে আসার অপশনটাই নিয়ে নেয়। তাই ওসব করে না। ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে ধর্ষকের শিক্ষক পতিতা। এরা লজ্জায় এসব থেকে কেউ কেউ দূরে থাকে। এভাবে হয়ত সবাইকে বিরত রাখা সম্ভব নয়, তবে এসবে একটা ধর্ষণও যদি কম হয় তাহলে আমার শান্তি লাগবে। বুঝলি। আমরা কয়েকজন পতিতা মিলে একটা সার্ভিস চালু করতে চেয়েছিলাম। যে ধর্ষকরা যেন আমাদের কাছে ফ্রিতে আসে তবুও যেন শিশুদের রেহাই দেয়। আর নারীদের যেন নিরাপদে চলতে দেয়। চেয়েছিলাম ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রচারণা করতে। যে সব পতিতারা এ পেশায় আসার আগেই ধর্ষণের শিকার হয়েছিল তারা ধর্ষকের পরিচয় প্রকাশ করে করে প্রচার করবে। এসব অনেক প্লান করেছিলাম কজন মিলে। কিন্তু সমাজ কি বলবে এই ভেবে প্রচারে নামি নাই। বলবে ভাইরাল হতে আর নিজেদের ক্লায়েন্ট, রেট বাড়াতে এসব করছি। অথচ ভেজাল খাবারের প্রচার হয়। ধর্ষণের প্রতিবাদের প্রচার করতে পারিনা। আমরা তো দূরের কথা সমাজে অনেক সুশীলই তো এই ব্যাপারে চুপ। তাই আমরাও চুপ। শরীর বেঁচি, আয় করি। এই তো।

– আপু তুমি আসলেই স্পেশাল, কত কিছু ভাব তুমি। আমাদের সমাজের সব সম্মান না পেয়েও তুমি সমাজের নারী শিশুদের জন্য এত ভাব। আমাদের নারীরাও যদি তোমাদের ভাল হবে মুক্তি হবে এমন কিছু চিন্তা নিয়ে ভাবত।
– শোনরে ভাই অত আহামরি কিছুনা। আর এত কাল ধরে চলে আসা এই ব্যাপার সহজে শেষ হবেনা। আমাদের ভাগ্যও এমনই বুঝলি। আরেকটা কথা, কখনো নিজেকে বা অন্যকে এই গিফটের উপযোগী যদি মনে হয় তাহলে আমার কাছে পাঠিয়ে দিস। বিনামূল্যে শরীর ও যৌনতা পাবে। গোপনীয়তাও থাকবে। শুধু এর বিনিময়ে অপকর্মটা করা যাবেনা। আর তোর প্রেমিকাটা লাকিরে, তুই ওকে খুব ভালবাসিস। ওকে নিরাপদে রাখিস, ভাল রাখিস। কখনো মনে হলে খোঁজ নিস বোনের।

সবশেষে থিসিস ভালমত লিখিস, সিজি তো বাড়াইতে হবে। ( আপুর মুখে চোখে হাসি ছিল। ওটা তাদের পেশাদারীর নকল হাসিটি ছিল না।)

Facebook Comments