Saturday, October 16, 2021
Home > বই আলোচনা > মাধুকরী | বুদ্ধদেব গুহ

মাধুকরী | বুদ্ধদেব গুহ

বইঃ মাধুকরী
লেখকঃ বুদ্ধদেব গুহ
মোট পৃষ্ঠাঃ৬৩৬
মূল্যঃ ৯০০ টাকা
রিভিউঃ গালিবা ইয়াসমিন

পাঠ্য প্রতিক্রিয়াঃ
“বুদ্ধদেব গুহ”-একজন ভারতীয় বাঙালী লেখক। তিনি মূলত বন, অরণ্য এবং প্রকৃতি বিষয়ক লেখার জন্য পরিচিত। বহু বিচিত্রতায় ভরপুর এবং অভিজ্ঞতাময় তার জীবন। ইংল্যান্ড, ইউরোপের প্রায় সমস্ত দেশ, কানাডা, আমেরিকা, হাওয়াই, জাপান, থাইল্যান্ড ও পূর্বআফ্রিকা তার দেখা। পূর্বভারতের বন-জঙ্গল, পশুপাখি ও বনের মানুষের সঙ্গেও তার সুদীর্ঘকালের নিবিড় ও অন্তরংগ পরিচয়। সাহিত্য-রচনায় মস্তিষ্কের তুলনায় হৃদয়ের ভূমিকা বড়- এই মতে তিনি বিশ্বাসী।
মাধুকরী উপন্যাসে কেন্দ্রীয় চরিত্র পৃথু ঘোষকে সবাই আড়ালে ‘পাগলা ঘোষসা’ বলে কারণ তিনি কি করেন কি করেন না কার সাথে চলেন কার সাথে চলেন না এসব কিছুই তার ঠিক ছিল না , বিলেত ফেরত ইঞ্জিনিয়ার ভালোবাসতো কবিতা লিখতে আর জঙ্গলে ঘুরতে, পরিপূর্ণ পরিবার থাকা সত্ত্বেও তিনি ছুটতেন প্রাক্তন প্রেমিকের কাছে একটু ভালবাসা পাওয়ার আশায় এবং বাঁচতে চেয়েছিল বড় বাঘের মতো। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে অঙ্গ হারানোর পর তিনি বুঝতে পারলেন ভালবাসা এবং নিজের সুখের পিছনে ছুটতে ছুটতে তিনি কতো দূর চলে গেছেন যেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব না এবং তার স্ত্রীও একই ভুল করে তার থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। সুখের পিছে ছুটে ঘরের সুখকে পা দিয়ে পিষে ফেলেছে। এছারাও অন্যান চরিত্র কুর্চি, বিজলী, ভুচু, শামীম, সাবির, দিগা পাড়ে, ঠুঠা বাইগা, গিরিসদা তাদের নিয়েও অনেক ছোট-বড় ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে উপন্যাসে।

উপন্যাসটি পড়ার শুরু করার পর থেকেই ভাল লাগছিল কারণ প্রত্যেকটা চরিত্র খুব আকর্ষণীয়, তার সাথে জঙ্গলের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার বর্ণনা, নানান রকম পাখি – গাছ – পশুর বর্ণনা, দল নিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে শিকার করা, ডাকাত দলের সাথে লড়াই সব কিছুই যেনো চোখের সামনে ভাসছিল। চরিত্র গুলো যেনো আমার চোখের সামনেই কথা বলছে, খাচ্ছে ,হাঁটছে, হাসছে , অভিমান করছে এমন অনুভব হচ্ছিল কারণ লেখক ততটুকু পরিশ্রম করেই লিখেছেন তা আপনারা বইটি পড়ার সময় বুঝবেন। আর একটা বিষয় হচ্ছে এই উপন্যাসে অনেক লেখক-কবিদের নিয়ে এবং বাংলা সাহিত্য নিয়ে ‘বুদ্ধদেব গুহ’ অনেক আলোচনা করেছেন। বইটি পড়ে প্রায় মাঝামাঝি আসার পর থেকে খারাপ লাগছিল কারণ উত্থানের পর এমন নির্মম পতন মেনে নেয়া যায় না। পড়তে পড়তে চরিত্রের অনুভূতি গুলো অনুভব করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছিলাম বুঝতে পারছিলাম কেনো অনেকে বলেছিল- তারা মাধুকরী পড়া শুরু করেছে কিন্তু শেষ করতে পারেনি।

লেখক এই উপন্যাসে বোঝাতে চেয়েছেন- মানুষ মাত্রই প্রকৃতির অংশ, মানুষ সামাজিক জীব তাই একা বেঁচে থাকা কখনোই সম্ভব না, জীব জন্তু পাখি তাদেরও অনুভূতি আছে, মানুষ হয়ে আমরা শুধু প্রকৃতির ক্ষতিই করছি, নিজের সুখকে বড় করে দেখলে বা নিজের সুখ খোঁজার জন্য দ্রুত বেগে ছুটে চললে জীবনে সব কিছু হারাতে হয়, পরিবার- সংসারের-সন্তানের মধ্যেই আসল সুখ লুকানো থাকে শুধু একটু সময় দিয়ে খুঁজে নিতে হয়, যাই হোক না কেন! স্বামী স্ত্রীর মাঝে সুন্দর সম্পর্ক ধরে রাখা উচিৎ। এক কথায় বলতে গেলে – মাধুকরী হচ্ছে সামাজিক মানুষের জীবনধারার অভিধান সরূপ। বইটা পড়া শুরু করার পর মনে হচ্ছিল খুব জমপেশ একটা পর্যালোচনা লিখতে পারবো কিন্তু পড়া শেষ অরতে করতে উপন্যাসের অনুভূতি গুলো এমন ভাবে মনে দাগ কেটেছে যে এখন এতো গুলো ঘটনা মিলিয়ে গুছিয়ে পর্যালোচনা লিখতে পারছি না, ভাষা পাচ্ছি না, তল পাচ্ছি না। আমার কথা শুনে আপনাদের মনে হতে পারে একটা বই সম্পর্কে বেশি বেশি বলছি তাই আবারও বলছি আপনারা একটু কষ্ট করে ‘বুদ্ধদেব গুহ’ এর লিখা “মাধুকরী” উপন্যাসের বই সংগ্রহ করুণ এবং দ্রুত পড়ে ফেলুন।
শুভ হোক আপনার পাঠ্য কার্যক্রম

Facebook Comments