রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২২
Home > বই আলোচনা > বুক রিভিউ | পিঞ্জর | ইমদাদুল হক মিলন

বুক রিভিউ | পিঞ্জর | ইমদাদুল হক মিলন

Spread the love

রিভিউ ঃ সাদিয়া সিদ্দিকা
লেখকঃ ইমদাদুল হক মিলন
গায়ের মুল্যঃ ৫০ টাকা


গল্পটা সোনা এবং মানিকের। আট বছরের মেয়ে সোনার মা, তার ভাই আর সে এক বস্তিতে থাকতো। অতি দরিদ্র পরিবারে মা ছাড়া আর কেউ রোজগারের ছিলো না। একদিন হুট করেই মারা যায় সোনার মা। মায়ের কষ্টে তৈরি করা বস্তির ঘরে থাকে সোনা আর তার একমাত্র ভাই মানিক। তাদের প্রতিবেশি রমজান ভাইয়ের মায়ের অসুস্থতায় সোনা যায় তার কাজ করার বাসা মিনুর বাসায়। মিনু একটি ফ্ল্যাটে স্বামী এবং তার ছোট মেয়ে মম থাকেন। তাদের বাসায়ই রমজানের মা কাজ করতেন। রমজানের মা অসুস্থ হওয়ায় সোনা সেই বাসায় যায় কাজ করতে। অনেক চাপাচাপি করার পর মিনু তার বাসায় কাজে রাখে সোনাকে।

সারাদিন হেসেখেলে দিন কাটে, কাজ করে রাতে বস্তিতে ফেরে সোনা। ভাই মানিকের গলা জরিয়ে দু’দণ্ড শান্তিতে ঘুমায় তারা।
কিন্তু এই একলা শহরে দুইটা বাচ্চাদের কোন ঠাঁই মেলে না আর! একদিন রাতে জোর করে তাড়িয়ে দেয় বস্তি থেকে রমজান। তার দাবি, সে এখন থেকে এই ঘরে বিয়ে করে থাকবে। এবং হুমকি দেয়, তারা যেনো আর ভুলেও এই দিকে না আসে।
উপায় না পেয়ে সোনা আর মানিক রাস্তায় ঘুরতে থাকে যাযাবরের মতো। কিন্তু এই জীবনটাই কি তারা চেয়েছিলো?
শেষ পর্যন্ত ঠিক হলো ওরা থাকবে মিনুদের বাসায়। সোনা মিনুদের ঘরে জায়গা পেলেও মানিকের জায়গা হয় মিনুদের বাইরের বারান্দায়। এক সময় উপায় না পেয়ে কাজে নেমে পড়ে মানিক। উদ্দেশ্য একটাই, যে করেই হোক একটা ঘর ভাড়া করবে সে।
রিকশা টানার কাজে যে কয়টা টাকা উপার্জন হতো তার বেশিই চলে যেতো খাওয়া দাওয়া করে। কিভাবে কি হবে তাদের? এই নিষ্ঠুর শহরে কি তাদের একটা জায়গা হবে না??

ইমদাদুল হক সাহেবের পড়া ২য় বই ছিলো আমার। আগের বারের মতই হতাশ আমি! কোনরকম ভালো লাগেনি আমার। কাহিনি একেবারেই সাদামাটা লেগেছে। তার চেয়ে বড় কথা লেখক কাজের মানুষদের খুব ছোট করে দেখেছেন এই বইয়ে যা আমার কাছে খুবই খারাপ লেগেছে। ইচ্ছে করলে পড়তে পারেন, না পড়লে ক্ষতি নাই। তবে আমার মেজাজ খারাপ হবে প্রত্যেক পেইজে এইটা আমি আগে থেকেই টের পেয়েছিলাম। লেখক সম্ভবত অতিরিক্ত আবেগ মেশাতে গিয়ে একদম বাজে লিখে ফেলেছেন!

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৬/১০
হ্যাপি রিডিং 

Facebook Comments