Friday, January 28, 2022
Home > বই আলোচনা > বুকরিভিউ “কবি”

বুকরিভিউ “কবি”

Spread the love

বই : কবি
লেখক : তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
রিভিউ : তাহমিনা তানি

‘কবি’ তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত সামাজিক উপন্যাস। কবিয়াল এবং ঝুমুরদল অন্ত্যজ শ্রেণীর সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে রচিত উপন্যাসটি পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

নিতাই কবিয়ালদের দোহার হিসেবে কাজ করতো। দলের একজন কবিয়ালের অনুপস্থিতিতে নিতাইয়ের কবিমন প্রকাশ পায়। এটি রীতিমতো একটা বিস্ময়কর ব্যাপার ছিল, কেননা নিতাই ছিল ডোমের ছেলে, খুনীর দৌহিত্র, ডাকাতের ভাগিনা। তবে নিতাইয়ের চোখে একটা সকরুন বিনয় আছে। গাঁয়ের বাবুরা নিতাইয়ের এ কবিপনায় আশ্চর্য। নিতাইয়ের সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেছে। বন্ধু পয়েন্টসম্যান রাজালালও সেদিন নিতাইয়ের কবিয়াল হওয়ায় বিস্মিত। রাজার শালিকা ঠাকুরঝি সেদিন অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। রাজা নিতাইকে ওস্তাদ বলে ডাকতো। ঠাকুরঝিরর গায়ের রং কালো বলে সকলে তাকে নিন্দা করতো, এমনকি রাজা নিজেও ঠাকুরঝিকে কথা শোনাতো। কিন্তু নিতাই ঠাকুরঝির গায়ের কালো রং কে ভালোবেসেছিল। তাইতো নিতাই গানের কলি বেঁদেছিল, ” কালো যদি মন্দ তবে চুল পাকিলে কাঁদ কেনে?” কেন কাঁদ”
নিতাই আর ঠাকুরঝির মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। কিন্তু জানাজানি হয়ে যায় তাদের সম্পর্কের কথা। পরে নিতাই গ্রাম ছেড়ে,দল ঠাকুরঝিকে ছেড়ে চলে যায়।

নিতাই ঝুমুর দলে কবিগানে যুক্ত হলো। এখানে গানের সাথে নারীরা নাচ করতো। তারা মূলত দেহোপজীবিনী। লোকে তাদের বেশ্যা বলতো। সেখানকার মোহন্ত নিতাইকে তার কন্ঠের প্রশংসা করে পদাবলী জানে কিনা জিজ্ঞেস করায় নিতাই জানালো, নীচ কুলে জন্ম তার, সে কি করে এসব জানবে। তখন মোহন্ত বললেন, “জন্ম তো বড় নয় বাবা, কর্মই বড়”
নিতাই সেখানকার মেয়েগুলোকে এমনি খাতির করলেও মনে মনে ঘৃনা করতো, কিন্তু বসন্ত নামের এক নারীর মধ্যে নিতাই তার ঠাকুরঝিকে ভাবতে থাকে। একসময় তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। এখানে উল্লেখ্য, ঝুমুর দলে অশ্লীল গান বাজনা হতো, অশ্লীল রসের গালিগালাজ হতো। নিতাই চেষ্টা করতো তা এড়িয়ে চলতে।

নিতাই আর বসন্তের প্রেম বহুদূর গড়ায়। এদিকে বসন্ত উচ্ছৃংখল জীবন, বহুগামিতার কারণে এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়, যা ঐখানকার প্রায় মেয়েদেরই হয়। বসন্ত মারা যায়। বসন্তের মৃত্যুর পর নিতাইয়ো আর এখানে মন বসে নি। সে আবার চলে নিজ গাঁয়ের দিকে। গাঁয়ে গিয়ে নিতাই রাজার কাছে ঠাকুরঝির কথা জানতে চায়। রাজা জানায়,নিতাই চলে যাবার পর ঠাকুরঝি উন্মাদ হয়ে মারা যায়। নিতাই প্রচণ্ডরকম কষ্ট পায়। তার বুকের ভেতর ঝড় বয়ে গেল, চোখ ফেটে জল এলো। সে মনে মনে বলল, “জীবন এত ছোট কেনে?” সে রাজাকে গান শুনতে বলল, আর গুনগুন করে গলা ছেড়ে গাইলো –
“এই খেদ আমার মনে-
ভালবেসে মিটল না সাধ, কুলাল না এ জীবনে। হায়- জীবন এত ছোট কেনে?
এ ভুবনে?”

রিভিউ টি হবহু বইয়ের গ্রুপ  গ্রন্থ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেয়া।

আপনিও যোগদিনগ্রন্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে  ।

Facebook Comments