রবিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২২
Home > বই আলোচনা > বই পর্যালোচনা | প্রদোষে প্রাকৃতজন | শওকত আলী

বই পর্যালোচনা | প্রদোষে প্রাকৃতজন | শওকত আলী

Spread the love

বই : প্রদোষে প্রাকৃতজন
লেখক : শওকত আলী
প্রচ্ছদশিল্পী : সমর মজুমদার
মোট পৃষ্ঠা : ১৯৭
মূল্য : ২৩৪
বই পর্যালোচনা : গালিবা ইয়াসমিন


পাঠ্য প্রতিক্রিয়া : প্রথমে লেখক সম্পর্কে বলি- শওকত আলী ছিলেন একজন বাঙালি কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক। তিনি বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে গল্প ও উপন্যাস লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৯০ সালে সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

এই প্রথম তার লিখা পড়লাম, পড়ার শুরুতে সাধু ভাষা বুঝতে একটু সমস্যা হচ্ছিলো কিন্তু কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পর সমস্যা কেটে গিয়েছে। বাংলাদেশী সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উপন্যাস হিসেবে ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’সমাদৃত। ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাস এর নামই উপন্যাসের প্রতিচ্ছবি। প্রদোষ অর্থ দুঃসময়, প্রাকৃতজন অর্থ অন্ত্যজ সাধারণ মানুষ অর্থাৎ সাধারণ মানুষ এর দুঃসময়। বাংলায় মুসলমানের আগমন ঘটে আরও প্রায় ৮০০ বছর পূর্বে। তৎকালীন বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের সাধারণ মানুষদের জন্য সময়টা ছিল প্রদোষকালের মতোই দ্বিধা-দ্বন্দ্বময়।

সেন রাজাদের শাসনের অবসানকালে জনজীবনে একটা অচলাবস্থা নেমে এসেছিল। সমাজের সবকিছু বর্ণপ্রথার কট্টোর আর অমানবিক নিয়মে পরিচালিত ছিল, অব্রাহ্মণ শ্রেণির জীবনে সম্মান আর মূল্য, উন্নতির অথবা সুসম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কোনোটাই ছিল না। এর ওপর জীবনের নিত্যসঙ্গি ছিল সামন্তপ্রভুদের স্বেচ্ছাচার আর লুঠ। সনাতন ধর্ম আর সন্সকারের আবদ্ধে বিজ্ঞান, বুদ্ধিচর্চা, স্বাধীনচিন্তা, শিল্প, সব কিছুই স্তব্ধ হয়ে গেছিল, এই অবস্থায় আরেকটি নতুন বিপদের উদয় হয়, তুর্কি সেনাদের বাংলায় আবির্ভাব আর তাদের প্রায়সই লুঠ আর রক্তপাতের অভিজান।

উপন্যাসটি বাংলার ইতিহাসের এই চরম সংকটজনক মুহূর্তের, যখন মানুষ, বিশেষত প্রাকৃতজনেরা নিজেদের খুবই আকস্মিক একটা অসীম অনিশ্চয়তার মধ্যে পেয়েছিল। সেন রাজত্বের প্রভুত্ব আর সনাতন রীতি মেনে তার ওপর আস্থা রাখা; অথবা তার থেকে মুক্তি পেতে তুর্কিদের হিংস্রতার সামনে নতিস্বিকার করে তাদের আশ্রয় প্রার্থনা; অথবা ভ্রাম্যমান বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সাথে সহযোগিতা করে কোনো গণ অভ্যুত্থানের চেষ্টা; এই তিনটির মধ্যে বেছে নিতে হতো মানুষকে।

উপন্যাসের উল্লেখ্য যোগ্য চরিত্রগুলো হচ্ছে, শ্যামাঙ্গ, মায়াবতী, লীলাবতী এবং বসন্তদাস। চরিত্রগুলো ছিলো চমৎকার , অসময়ে সাধারণ মানুষ গুলো কেমন করে জীবন পার করে সেসব চরিত্র গুলোতে প্রকাশ পেয়েছে।

লেখক এই উপন্যাসের মাধ্যমে ইতিহাসটি আমাদের কাছে পৌছাতে চেয়েছেন এবং বোঝাতে চেয়েছেন এতো এতো দ্বিধা-দণ্ডের মাঝে মানুষের বাঁচার আকুতি। যতই খারাপ সময় হোক না কেন ! পাখির মতো সুন্দর একটা পরিবার তৈরি করার স্বপ্ন মানুষ দেখতে ভুলে যায় না। যারা বাংলার পুরাতন ইতিহাস জানতে চান তারা অতিদ্রুত বইটি সংগ্রহ করে পড়ে ফেলুন।

শুভ হোক আপনার পাঠ্য কার্যক্রম।

Facebook Comments