Monday, January 17, 2022
Home > বিজ্ঞান প্রযুক্তি > এবার অ্যাপেল হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলার পাবলিক কোম্পানি

এবার অ্যাপেল হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলার পাবলিক কোম্পানি

Spread the love

নিয়াজ মাহমুদ : মঙ্গলবার দিনের দ্বিতীয় ভাগে দ্বিতীয় প্রান্তিকের উপার্জন আয়ের হিসেবে, উপার্জিত আয়ের যে প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে, তাতে অ্যাপেলের প্রত্যাশার চেয়ে অধিকতর শক্তিশালী অবস্থান লক্ষ্যণীয়। আর অ্যাপেল ই আমেরিকার সর্বপ্রথম কোম্পানি যাদের দাম তথা মূল্যমান এখন এক ট্রিলিয়ন ইউ এস ডলারের ও বেশি। আই ফোন নির্মাতাদের শেয়ার একই দিনে না হলেও বৃহস্পতিবারে $২০৭.৩৯ ইউ এস ডলারে গিয়ে ক্লোজড হয়, যা কোম্পানির মার্কেট ক্যাপ (বাজার দর) ১.০০১ ট্রিলিয়ন ইউ এস ডলারে উঠিয়ে নিয়ে যায়।
কোম্পানির শেয়ার বৃহস্পতিবার 3% বেড়েছে, এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় 31% বেড়ে দাঁড়িয়েছে এর মূল্যমান।

অন্য কারিগরি বা অ্যাপেলের টেক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ও মার্কেট ক্যাপ প্রায় $ 1 ট্রিলিয়ন এসেছিল, কিন্তু তবুও অ্যাপেলের পেছনেই রয়ে গেছে।
অ্যামাজন এর মূল্যমান এসে দাঁড়িয়েছে $৮৭৭ মিলিয়ন এ, আর ঠিক একই সময়ে অ্যালফ্যাবেট এর ৮৫১ মিলিয়ন এবং মাইক্রোসফটের ৮২২ মিলিয়ন। আর ১ ট্রিলিয়ন ইউ এস ডলার মার্কেট ক্যাপ এর প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে ছিলনা ফেসবুক ও। তবে গত সপ্তাহে নাটকীয়ভাবে শেয়ারের দরপতন ঘটলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শেয়ার দর বাণিজ্যের সংবাদ অনুযায়ী কোম্পানিটির মার্কেট ক্যাপ প্রায় ৫০৪ মিলিয়ন ইউ এস ডলার পর্যন্ত কমে গিয়েছে।
১ ট্রিলিয়ন ইউ এস ডলার মূল্যমানের সর্বপ্রথম কোম্পানি ছিল পেট্রোচায়না। আর ব্যবসায়ের প্রথম দিনেই সংক্ষিপ্ত ব্রিফ থেকে জানা যায় তাদের এ অর্জনের কথা, যা তাদের ২০০৭ আই পি ও থেকে জানা যায়। আর তাদের এই সাফল্য অনেকটা চীনা শেয়ার বাজারের অস্বচ্ছ বুদবুদের সাথেই মিলিয়ে যায়। এবং ধারণা করা হচ্ছে যে, এই পেট্রোচায়না আগামী দশ বছরে প্রায় ৮০০ ইউ এস ডলারের মতো মূল্যমান হারাবে।
কিন্তু বিপরীতে অ্যাপেলের ভবিষ্যৎ অনেকটাই উজ্জ্বল। কিছু বাজার পর্যবেক্ষক মনে করেন যে, মার্কিন টেক কোম্পানির শেয়ারগুলোকে একটু বাড়তি সুবিধাই দেয়া হয়, কিন্তু আবার বেশ কিছু পর্যবেক্ষক এ ও মনে করেন যে, মার্কিন এই টেক কোম্পানিগুলোও এক রকম বুদবুদের মতো আছে।
একটি কোম্পানির মার্কেট ক্যাপ হিসেব করা হয় তার স্টক এর শেয়ার মূল্য দ্বারা নির্ধারিত শেয়ার সংখ্যার গুণিতক সংখ্যা্কে গুণ করে গণনা করে। বুধবার এসইসির সাথে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের আপিল বিভাগের এক ত্রৈমাসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, কোম্পানির ৪,৮২৯,৯২৬,০০০ টি শেয়ার ২0 জুলাই পর্যন্ত অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। সেই নম্বরের উপর ভিত্তি করে, অ্যাপল এর স্টককে $ 1 ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের $ ২০৭.০৫ মূল্যমান ডলারে পৌঁছাতে হবে, যা অ্যাপল এই মঙ্গলবারে অতিক্রম করে ফেলেছে।
আর ব্লুমবারগ বলছে যে, আপেল তার শেয়ারগুলি ফেরত নিয়ে ক্রয়ের প্রায় অর্ধেকের শুরুর দিকে 1.3 শতাংশ কমেছে। কোম্পানিগুলি যখন তাদের স্টককে অপ্রচলিত বলে বিবেচনা করে- অথবা বিনিয়োগকারীদের অর্থায়ন ফিরিয়ে দেয় তখন সাধারণত সেগুলি করে। এর মানে হল যে ২0 শে জুলাই থেকে অ্যাপলের শেয়ারের প্রকৃত সংখ্যা আরও কমে গিয়েছে, তবে বেশিরভাগ বাজার পর্যবেক্ষক যারা এসইসির সাথে নিবন্ধিত তারা ১০ তম ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদনের রিপোর্টে এস ই সি এর মতামত সমর্থন করে বলছে অন্য কথা।
এছাড়াও উল্লেখযোগ্য, অ্যাপল এর $ 1 ট্রিলিয়ন মূল্যমানের দৌড়ে এগিয়ে থাকার পেছনে অ্যাপল স্টক এর বাই ব্যাক( পুনরায় ক্রয়) এর মাধ্যমে তাদের নিজেদের তৈরি অনেক প্রোডাক্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ব্লুমবার্গের ড্যাভ উইলসন বলেন, ……………

অ্যাপল এর উপার্জন দেখায় কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই ভালো অবস্থানে আছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজস্বের ১৭% বেড়ে ৫৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যখন নেট আয়ের ৪০% বেড়ে শেয়ার প্রতি ২.৩৪ ডলারে বেড়ে তালিকার উপরের দিকে উঠে যায়। বিশ্লেষকরা আশা করছিলেন যে, অ্যাপল তাদের প্রতিবেদনে বিক্রি করা $ ৫২.৪ বিলিয়ন এবং ইপিএস এ $ ২.১৮ বিলিয়ন এর কথা উল্লেখ করবে।

Facebook Comments