শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Home > মনীষী > আমার বঙ্গবন্ধু | নাঈম ইসলাম

আমার বঙ্গবন্ধু | নাঈম ইসলাম

Spread the love
খুব ছোটবেলায় আমার কাছে আমার বাবার চেহারা বঙ্গবন্ধুর মত মনে হতো। একবার মনে আছে অফিসে টাঙ্গানোর জন্য বঙ্গবন্ধুর ছবি আনার দায়িত্ব পড়েছিলো আমার বাবার উপর, তিনি বেশ বড় একটা বঙ্গবন্ধুর ছবি নিয়ে আসলেন, আমি প্রথমে দেখে আব্বু আব্বু বলে চিৎকার দিয়ে উঠলে পরিবারের সবাই হেসে উঠেছিলো। এটা হয়তো আমার বাবার নাম, গোফ, চুল তার সাথে মিলতো বলে শৈশব মনের একান্ত ভাবনা তবে সেই ছোট বেলায় আমাদের সবার মনে বঙ্গবন্ধুর প্রতি এক অসীম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার জন্ম দিয়েছিলেন আমার বাবা। বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতে আমাদের ঘরে বাজতো দেশের গান, তার মধ্যে আমার অন্যতম প্রিয় একটি গান ” যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই ” আমার মামাও অসম্ভব সুরেলা কণ্ঠে আবেগ নিয়ে গাইতো এই গানটি। সেই শৈশব থেকে আজ অবধি এই গানটি শুনলে আমার অন্যরকম একটা ভাবাবেগ সৃষ্টি হয়, গায়ের পশম দাঁড়িয়ে যায়, আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি কেন যেন।
 
আমি মনে করি এই চেতনা আমাদের সব ভাইবোনের মনে সেই শৈশবেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার যে বীজ আমার বাবা বপন করেছিলেন তার ফল। আজও যখন বঙ্গবন্ধুর প্রসঙ্গে তিনি কথা বলেন তার চেহারায় অদ্ভুত এক আভা ঝিলিক দিয়ে উঠে। এইতো মাস দুয়েক আগে বাগেরহাটে রিকশায় যাওয়ার সময় তিনি আমাকে দেখাচ্ছিলেন, এইখানে বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন আমি সেই জনসভায় ছিলাম, আমি লক্ষ্য করলাম বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণের সময় তার চেহারায় শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার আবেগে মেশানো অদ্ভুত এক আভা।
 
এটা শুধু আমার বাবার ক্ষেত্রে না ঐ সময়ের বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষেরই বঙ্গবন্ধুর প্রতি এই একই আবেগ কাজ করে। বঙ্গবন্ধুর শক্তিই হচ্ছে তার সময়ের এই কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা পাওয়া এবং সময়ে এটাই তার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 
কোন দেশের মানুষের এত ভালোবাসা পাওয়া একজন নেতা থাকলে সেখানে সাম্রাজ্যবাদ এবং স্বাধীনতার দোষরদের যায়গা হয় না। তাই দেখা যায় পঁচাত্তর পরবর্তী সময় থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত দেশীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে সবার লক্ষবস্তু বঙ্গবন্ধু। তাকে নিয়ে যত প্রোপাগাণ্ডা হয়েছে তা আর কাউকে নিয়ে হয় নি। খুব সুক্ষ্ণভাবে ক্ষেয়াল করলে দেখা যায় এই প্রোপাগাণ্ডাগুলো এমনভাবে সাজানো যাতে করে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্ব খর্ব করা যায় এবং তার প্রতি সাধারণ মানুষের যেই আবেগ যেই ভালোবাসা সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। কারণ বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বতে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারলে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। যে যাই বলুক না কেন বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যে একটি সমার্থক শব্দ তা বাংলাদেশ ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির থেকে ভালো আর কেউ জানে না এবং বিশ্বাস করে না।
 
এ ক্ষেত্রেও অন্য অনেক বিষয়ের সাথে ধর্মকেও প্রোপাগাণ্ডার একটি শক্ত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় আজও। যারা ধর্মীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সংস্লিষ্ট তারা জানেন দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর প্রতি কি জঘন্য মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডার চর্চা হতো।
 
এদের একটা যোগসূত্র আছে এরা তারাই যারা সাতচল্লিশে রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার করেছে এবং একাত্তরে ধর্মের দোহাই দিয়ে গণহত্যা, ধর্ষণের মত মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে যুক্ত বা সেইসব প্রেতাত্মার চেতনার উত্তরসূরী।
 
আমার মনে হয় এই প্রোপাগাণ্ডাগুলো বোঝার জন্য, বঙ্গবন্ধুকে চেনার জন্য জানার জন্য, তার প্রতি জনসাধারণের ভালোবাসা আবেগ এগুলো বোঝার জন্য আমাদের বাবা কিংবা দাদা যারা সেই সময়ের সেই কালের সাক্ষী তাদের সাথে আলোচনা করার কোন বিকল্প নাই । বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাদের ভাবনা, মূল্যায়নগুলো অনেকাংশে বর্তমান প্রজন্মের কাছে না পৌছানোর ফলে বিশেষ করে মাদরাসা ছাত্রদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর সঠিক মূল্যায়ন হয় নি। যে কারণে এই সময় এসেও এই প্রজন্মের মাঝেও আমরা অসংখ্য ধর্ম অপব্যাবহারকারী পাকী প্রেতাত্মার চিন্তানৈতিক উত্তরসূরী দেখতে পাই।
এরা জানে না ‘সবচেয়ে বিশাল ও ভারি যে লাশটি বাংলাদেশ নিজের বুকের কবরে বয়ে চলেছে, সেটি মুজিবের লাশ।
Facebook Comments