Sunday, January 16, 2022
Home > এই ‍দিনে > শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ

শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ

Spread the love

সালমান ফার্সি : হুমায়ূন আহমেদ (১৩ নভেম্বর ১৯৪৮–১৯ জুলাই ২০১২) ছিলেন একজন বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি বিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক বলে গণ্য করা হয়। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। অন্য দিকে তিনি আধুনিক বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত।

জীবদ্দশায় হুমায়ুন আহমেদ নির্মান করেছেন উল্লেখযোগ্য অনেক চলচ্চিত্র। যার মধ্যে অন্যতম ছিলো ‘ঘেটু পুত্র কমলা’ । ২০১২ সালেই হুমায়ুন আহমেদ তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ঘেটুপুত্র কমলা নির্মান করেছেন। চলচ্চিত্রটিতে হুমায়ুন আহমেদর তুলে ধরেছেন পুরোনো সমাজের সংস্কৃতিকে। যা বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গিতে কুসংস্কারের উচ্চ পর্যায়ে স্থান পায়। মূলত সমাজ থেকে এরকম ঘৃন্য কুসংস্কার দূরীভুত করার জন্য হুমায়ুন আহমেদ এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন।

বগুড়া জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর হুমায়ুন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে অধ্যন করেন। পরবর্তীতে তিনি তার শিক্ষাঙ্গন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি গল্প, উপন্যাস ইত্যাদিতে ধারাবাহিকভাবে হাত রেখে যান। হুমায়ুন আহমেদের সর্বশেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’। যা প্রয়াত এই লেখকের মৃত্যুর একবছর পর প্রকাশিত হয়েছে। দেয়াল উপন্যাসটির গ্রন্থরুপ তিনি নিজ চোখে দেখে যাননি। ২০১১ সালে দেয়াল উপন্যাসটিতে হাত দেন তিনি। পাক্ষিক অন্যদিন পত্রিকায় দেয়াল উপন্যাসের ধারাবাহিক পাঁচটি পর্ব প্রকাশিত হয়। দেয়াল উপন্যাস চলাকালীন এই বরেণ্য লেখক ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং উন্নত জিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্টে যান। যার কারণে দেয়াল উপন্যাসের কোনো পর্ব আর প্রকাশিত হয়নি।

জীবনের শেষভাগে ঢাকা শহরের অভিজাত আবাসিক এলাকা ধানমন্ডিতে নির্মিত দখিন হাওয়া ভবনের একটি ফ্লাটে বসবাস করতেন প্রয়াত এই লেখক। খুব ভোর বেলা ওঠা অভ্যাস ছিল তার, ভোর থেকে সকাল ১০-১১ অবধি লিখতেন তিনি। মাটিতে বসে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। অবসর পেলে কখনো ছবি আঁকতেন।

দেয়াল উপন্যাস নিয়ে নানা সমস্যা হওয়ায় এর সকল তথ্য উপাত্য হাইকোর্ট বরাবর পৌছাতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়েই উপন্যাসটি রচনা করা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু ইত্যাদি কিছু ব্যাপার নিয়ে ভুল তথ্য থাকায় হাইকোর্ট খেকে উপন্যাসটির কিছু সংশোধন করে দেয়া হয়। দেয়াল উপন্যাসটি ছিলো আংশিক পূর্ণ। কারণ পুরো উপন্যাসটি শেষ পর্যউন্ত পৌছানোর পূর্বেই গুণী এই লেখক পরলোক গমন করেন।

২০১১-এর সেপ্টেম্বের মাসে সিঙ্গাপুরে ডাক্তারী চিকিৎসার সময় তার দেহে মলাশয়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে। তিনি নিউইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোয়ান-কেটরিং ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তবে টিউমার বাইরে ছড়িয়ে না-পড়ায় সহজে তার চিকিৎসা প্রাথমিকভাবে সম্ভব হলেও অল্প সময়ের মাঝেই তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ১২ দফায় তাকে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর তার কিছুটা শারীরিক উন্নতি হলেও, শেষ মুহূর্তে শরীরে অজ্ঞাত ভাইরাস আক্রমণ করায় তার অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যায়। মলাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ নয় মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। কৃত্রিমভাবে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর ১৯শে জুলাই ২০১২ তারিখে তিনি নিউ ইয়র্কের বেলেভ্যু হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে নুহাশ পল্লীতে দাফন করা হয়।

Facebook Comments