Sunday, January 16, 2022
Home > গল্প > প্রেম অথবা অপ্রেমের গল্প | শেখ নাঈম ইসলাম

প্রেম অথবা অপ্রেমের গল্প | শেখ নাঈম ইসলাম

Spread the love
কয়দিন হলো একটা ফেক আইডি খুলেছে মিশুক। খোলার পর থেকেই যত এডাল্ট কনটেন্ট আশা শুরু করেছে। সালা একে সিঙ্গেল লাইফ কোন প্রেম নাই যৌনতা নাই সাবু দানা সেদ্ধর মত পাইনসা একটা লাইফ তার উপর যদি চোখের সামনে এইসব ঘোরে কেমন লাগে? একেই বলে কাটা ঘায়ে লবন ছিটা। এভাবে দেখতে দেখতে কয়দিন পর কৌতুহল বসত একটা এডাল্ট গ্রুপে জয়েন করেছে মিশুক। মিশুকের চোখ ছানাবড়া। এ কি! এ এক অন্য দুনিয়া। অনেকেই চ্যাট করছে, পিকচার, ভিডিও আপলোড করছে আবার সেগুলো নিয়েও বিচার বিশ্লেষণও চলছে। অবশ্য বলে রাখা ভালো এর সবই এডাল্ট তাও এমন এডাল্ট যা হঠাৎ প্রাপ্তবয়স্করা দেখলেও মূর্ছা যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। অনেক নারী নামের আইডিও দেখা যাচ্ছে আলোচনায় উৎসাহের সঙ্গে অংশ নিচ্ছে, এরকম একজন নারী আইডি নাম দুষ্টু মেয়ে তার একটি কমেন্টের রিপ্লাই দেয় মিশুক, দুয়েক কথা বলার পর মিশুক তাকে ইনবক্সে আসার জন্য বলে। তাকে ইনবক্সে নক দেয় মিশুক। সাথে সাথে তার রিপ্লাই
কোন মেয়ে দেখলেই কি করতে ইচ্ছা হয়?  টু ব্যাড। মাইন্ড চেঞ্জ করো। থাকো, বাই।
একটু ভেবাচেকা খেয়ে যায় মিশুক, এইভাবে কষে ভার্চুয়াল চড় মিশুক কোনদিন খায় নি, আসলে এতকিছুর সাতপাঁচ ভেবে সে নক দেয় নি। কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। ভাবল যেহেতু এডাল্ট গ্রুপ থেকেই পরিচয় তাই এডাল্ট রসিকতা দিয়েই শুরু করুক।
বললো, কেউ একজন থাকলে ত আর তোমাকে নক করতাম না।
না থাক ভালো, হাত আছে না?
শুনে মিশুক ভিমরি খায়। কি বলবে ভেবে পায় না, পরে বলে এমন করে বলছো কেন?
সে বলে, বাদ দেও আমি এইসব সেক্স চ্যাট করি না।
মিশুক আবারও ভিমরি খেয়ে বলে, সমস্যা কি তুমিও এনজয় করতে আসছো আমিও।
মেয়েটি বলে, জ্বি না আমি এখানের ভিডিও গুলা দেখি ভালো লাগে ব্যস, এনজয় করার মানুষ আছে। ওকে?
তাই! সমস্যা কি আমার সাথেও একটু করে দেখো।
আর ইউ সিক?  কেমন থিংক তোমার? ছি! যাও ভাগো, প্লিজ, এইসব করা করিতে আমি নাই, যাও অন্য কাউকে দেখো মেয়েটি বলে।
মিশুক, আরে নাহ আমি কি তাই বলছি না কি? ফ্রেন্ড হিসেবে মজা করলাম আর কি, জাস্ট ফ্রেন্ড ত হতে পারি আমরা তাই না?
মেয়ে: ফ্রেন্ড হলে চ্যাট করতে পারো ব্যস, ফ্রেন্ডরা করে না, জাস্ট কথা শেয়ার করে ওকে?
মিশুক: ওকে, তুমি কি করো কই থাকো?
মেয়ে: এসব জেনে কি করবা?  তুমি ত হট হয়ে আছো, হিহিহিহি
মিশুক:  হুম আছি ত কিন্তু তুমি ত ঠান্ডা করতেছ না।
মেয়ে:  ন্যুড হয়ে ফ্রিজের দরজা খুলে সামনে দাঁড়ায় থাকো এমনিতেই ঠান্ডা হয়ে যাবা,হিহিহিহি
আবারও একটা অদৃশ্য চড় খায় মিশুক, যাই হোক এদিক উদিক প্রচণ্ড কিছু খোলামেলা অথবা প্রাপ্তবয়স্ক অথবা ভালগার কথা হয়ে এক পর্যায়ে মেয়েটি জানায় তার একজন কাজিন আছে সেই যথেষ্ট মিশুক যেন ভুলেও করার কথা চিন্তা না করে।
মেয়ে: যদি ফ্রেন্ড ভাবো তাইলে কথা বলো আর অন্যকিছু চিন্তা থাকলে বইলো না।
মিশুক: ও আচ্ছা। তা কাজিনের সাথে কি তোমার প্রেম?
মেয়ে:  নাহ! পাগল না কি, এমনিই..
মিশুক: শুধু সেক্সুয়াল রিলেশন?
মেয়ে: হুম, ত? কোন সমস্যা তোমার?
মিশুক:  না, সমস্যা কিসের আসলে এমন ত হতেই পারে। যদিও মনে মনে মিশুক অনেক অবাক হচ্ছে। মিশুক হলো নব্বই এবং একুশ শতকের হাত ধরে বেড়ে ওঠা সেই প্রজন্ম যারা উটপাখির মত বেড়ে উঠেছে, তারা না হতে পেরেছে পুরোপুরি এনালগ না হতে পেরেছে পুরো ডিজিটাল, বর্তমানে এই প্রজন্মই সবথেকে বেশি পরিচয়হীনতায় ভুগছে।
মেয়ে: ও অনেক উদার আর ফ্রেন্ডলি।
মিশুক: ও তাই, ভালই ত, তা কি করে হলো?
মেয়ে:  কেন এসব শুনলে খাড়া হয়ে যায়?
মিশুক: ( অদৃশ্য আরেকটি চড় অনুভব করে)  আরে নাহ, এমনিই শুনতে ভালো লাগছে তাই, গল্প কার না ভালো লাগে।
মেয়ে: ও! তোমার গল্প মনে হইতাছে?  তাইলে থাক, ঘুমাও।
মিশুক: আরে আমি কি তাই বুঝাইছি না কি? এটা ত লাইফেরই গল্প তাই না?
মেয়ে: থাক বাদ দেও।
মিশুক:  আরে ধুর বোকা, বলোনা শুনি ভালো লাগছে শুনতে। সম্পর্কের গল্প শুনতে কার না ভালো লাগে।
মেয়ে:  হুম বোকাই ত, অনেক বোকা, বোকা না হলে কি আর একসাথে দুজনকে করে?  হাহাহাহাহা
মিশুক:  মানে?
মেয়ে: রিপ্লাই না দিয়ে একটা কাপলের ছবি দেয়, বলে সে আর তার কাজিন।
মিশুক ছবিটা দেখে বুঝতে পারে এটা তার না নেট থাকে নামিয়ে দেওয়া তাও কিছু না বলে বললো হুম অনেক সুন্দর। রিপ্লাই দিলা না যে,
মেয়ে: ওয়েট, স্মোক করবো
মিশুক: প্লিজ এই কথা বলো না
মেয়ে: কেন কেন
মিশুক:  আমার কাছে বিড়ি নাই, এত রাতে স্মোকের কথা শুনলে নেশা উঠে যাবে।
মেয়ে: হিহিহিহি ত আমি কি করবো, ওয়েট করো।
মিশুক:  নাহ, তোমার কথা শুনে আর পারলাম না, যাই বাইরে দেখি পাই কি না, এত রাতে দোকান খোলা পাব কি না জানি না।
মেয়ে:  গুড।
মিশুক বাইরে যায়, রাত দেড়টার উপরে বাজে রাস্তা একদম শুনশান, মিশুককে দেখে পাড়ার কুকুরগুলো একটু চঞ্চল হয়ে ওঠে, কার্তিকের রাতের একটা আলাদা মাদকতা আছে হিমহিম ভাব, কোন বাড়িতে যেন একটা মাধবীলতা গাছ আছে মিষ্টি গন্ধ আসছে, রাতের আকাশ আমাবস্যায় ঢাকা,  অন্ধকার ভেদ করে মিশুক বড় বড় পায়ে এগিয়ে চলে আর ভাবে বর্তমান প্রজন্ম কত অবলীলায় নিজেদের প্রেমহীন যৌন সম্পর্ক নিয়ে কথা বলে যা ঠিক এই দশক আগের প্রজন্ম কোনদিন কল্পনাও করতে পারে নি, এগুলোকে কি এগিয়ে যাওয়া বলে? মিশুক জানে না, তবে সমাজে যৌনতা নিয়ে যে ট্যাবু বা  বাড়াবাড়ি আছে তা ত অস্বীকার করা যায় না তবে তা থেকে বের হওয়ার জন্য এই অবাধ যৌনতাই কি সঠিক পথ না কি মানুষের আদিম মন অবাধ যৌনতা চায় এরও কোন হিসাব মিলাতে পারে না মিশুক। দোকান খোলা না পেয়ে বাজারে গিয়ে একটা দোকান খোলা পায় তারপর সিগারেট কিনে বাসায় এসে ছাদে যায়। জোরে হাটার কারনে ঘামায় গেছে মিশুক, জামা খুলে ছাদে গেল যাতে রাতের হাওয়ায় সিগারেটের ধোঁয়াটা ভালো জমে।
গিয়ে মিশুক মেসেজ করে, কি ব্র‍্যান্ড খাও?
মেয়ে: মাল ব্রো, হিহিহিহিহি
মিশুক: মাল ব্রো ত হালকা, স্মোক করো কোথায় বসে?
মেয়ে: রুমে
মিশুক: গন্ধ পায় না?
মেয়ে: ত?  একমাত্র মেয়ে আমি বুঝলা, সব ফ্রিডম আছে আমার।
মিশুক: থাকো কই? তা ড্রিংকও কর না কি?
মেয়ে: উত্তরায়, আব্বু যখন করে তখন মাঝে মাঝে লুকায়ে একটু করে ফেলি, হিহিহিহি।
মিশুক: ছাদে বাতাসে বসে সিগারেট খাওয়ার মজাই আলাদা।
মেয়ে: ওর না কি আমার স্মোক করার স্টাইল ভালো লাগে।
মিশুক: তাই! আচ্ছা তোমার কাজিনের সাথে হলো কি করে?
মেয়ে: এত প্রশ্ন কেন করো বাল।
মিশুক: ওমা! তুমি বলবে বলেই ত আমি এত কষ্ট করে সিগারেট নিয়ে এসে ছাদে আয়েশ করে বসলাম। মধ্য রাতে ছাদের হাওয়া সাথে সিগারেটের ধোঁয়া এবং তোমার জীবনের গল্প মিলেমিশে একটা জম্পেশ রাত উপভোগ করবো বলেই ত এত আয়োজন।
মেয়ে: আমি কি বলছি কষ্ট করতে? আমি ফোর্স করা পছন্দ করি না, আমার কাজিনও আমাকে ফোর্স করে না।
মিশুক: স্যরি, আসলে আমি ফোর্স করতেছি না রিকুয়েষ্ট করতেছি।
মেয়ে:  তুমি কি ছাদে?
মিশুক: হ্যা
মেয়ে: কি পরে আছো?
মিশুক: উপরে খালি নিচে শর্ট
মেয়ে: খুলে ফেল
মিশুক: মানে?  কেন?
মেয়ে: আমি বলছি তাই, নইলে কথা বলবো না।
মিশুক: ওকে তাইলে রুমে যাই।
মেয়ে: না ছাদেই খুলো।
মানুষের মন পড়া বা বোঝা মিষুকের অভ্যাস, কারো সাথে কিছুক্ষণ কথা হলেই মিশুক তার ব্যাপারে মোটামুটি একটা ধারণা করতে পারে কিন্তু এই মেয়ের মনের কোন আগামাথা মিশুক খুজে পাচ্ছে না। যাক পানি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় দেখা যাক।  অগত্যা মিশুক না খুলেও বলে ওকে খুলছি
মেয়ে: কেমন লাগে?
মিশুক:  ওয়াও, নিজেকে আদম আদম মনে হচ্ছে।
মিশুক: তুমিও কি ন্যুড হয়ে আছো?
মেয়ে : নাহ
মেয়ে: তোমার বাসায় কে কে আছে?
মিশুক: এই বাবা মা ভাই বোন।
কে কি করে মেয়েটি জানতে চায়, মিশুকও বলে বিস্তারিত। মিশুকও জানতে চায় তার ফ্যামিলি সম্পর্কে যাতে সে জানতে পায় মেয়েটি বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্প দাড় হওয়ার সাথে সাথে যে নব্য ধনী শ্রেণীর জন্ম হয়েছে মেয়েটি তেমনই একটি ধণী গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর মেয়ে তবে তার বাবার সঠিক পরিচয় মেয়েটি দেয় না।
এরপর মেয়েটি এক এক করে কিছু আবেদনময়ী ছবি দেয় ফেস ছাড়া। জিজ্ঞেস করে কোনটা কেমন, কোনটার গলা বড়,  ক্লিভেজ কেমন লাগছে দেখতে, মিশুক বুঝতে পারে ছবিগুলা তার না তাও বলে অনেক সুন্দর, হট।
সেও তাড়িয়ে তাড়িয়ে জানতে চায় দেহের বর্ণনা মিশুকও বলে যায় ননস্টপ। মেয়েটি বলে তার শো অফ করতে ভালো লাগে।  মিশুক বলে ফেস না দিয়ে শুধু পিক দিয়ে কি লাভ, মেয়েটি বলে লাভ দিয়ে কি করবা যা দিসি দেখলে দেখো নইলে আর দেব না, অগত্যা মিশুক বলে ওকে ঠিকাছে দেও তুমি। এর মধ্যে মেয়েটি জানায় তার বাবার সাথে সে অনেক ফ্রি, সবকিছু শেয়ার করে বাবাও তার কাছে সবকিছু শেয়ার করে। বলতে বলতে মেয়েটি বলে, জানো!  একবার কি হয়েছে, আমি শপিং থেকে সন্ধ্যার পরে বাবার অফিসে গেছি গিয়ে দেখি তেমন কেউ নাই, বাবার রুমে গিয়ে দেখি তার পিএসের সাথে সে…। কি দেখেছে মিশুক খুটিয়ে জানতে চায় পরে রগরগে কিছু বর্ণনা দেয় মেয়েটি, বাবাও দেখে লজ্জায় পরে যায়, মেয়েটি  পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য রসিকতা করে এবং বলে নো প্রবলেম মা কে বলবো না এই বলে চলে আসে।
এরকম না না বিষয়ে কথা হয়, মেয়েটি তার নিজের ইচ্ছামত কথার আকাশে বিচরণ করে নাটাই ছাড়া ঘুড়ীর মত যে বিষয়ে বলতে মন চায় মিশুকও কথার নাটাই ছেড়ে দিয়ে মেয়েটিকে শুধু সঙ্গ দিয়ে যায়, এক পর্যায়ে মিশুক আবারও তার আর কাজিনের সম্পর্কের প্রসঙ্গটা তোলে।
মিশুক:  কত বছর ধরে কাজিনের সাথে চলে তোমার?
মেয়ে: তিন বছরের একটু বেশি হবে
মিশুক: হলো কীভাবে?
মেয়ে: দি প্যালেসে গেছো?
মিশুক:  মানে বুঝলাম না,
মেয়ে: সিলেটের একটা রিসোর্ট, গেছো?
মিশুক: ও, না যাওয়া হয় নাই।
মেয়ে: আমরা একবার তিন ফ্যামিলি মিলে ওখানে যাই বেড়াতে, সেখানে আমি কাজিন আর দুই পুচ্চু কাজিন সবাই মিলে এক রুমে ছিলাম। ও ভদকা নিয়ে গেছিলো, ট্রাই করলাম, কেমন ঝিম ঝিম লাগতেছিলো, তারপর বসে এমকেভিয়াইই দেখতেছিলাম
মিশুক: এটা আবার কি?  পর্ণ?
মেয়ে:  হুম
মিশুক: মানে কি, তোমরা কি আগে থেকেই একসাথে এগুলা দেখতা?
মেয়ে: না ডাইরেক্ট পর্ণ দেখি নাই তবে হট হট ভিডিও দেখতাম, ও আমাকে হট হট পিক পাঠাতো এবং অনেক ফ্রী ছিলাম।
মিশুক:  তারপর?
মেয়ে: তারপর ও আমার হাত নিয়ে পেনিসে দিলো, ফার্স্টে ভয় পাইছিলাম পরে আস্তে আস্তে ভালো লাগতেছিলো। আমি ওকে বললন এটা কি তর প্লান করা ছিলো এমন কিছু? ও বললো না, ভাবছি খাবো দেখবো হাত মারবো এই কিন্তু তোকে এইভাবে পাবো ভাবি নাই আর এমন অবস্থা হবে তাও ভাবি নাই, ভাবলে কনডম নিয়ে আসতাম। আমি বললাম ম্যানেজ কর, হোটেল দিয়ে যেভাবে হোক, ঐ কুত্তা কোন রুম থেকে যেন চেয়ে ঠিকই ম্যানেজ করে নিয়ে আসলো, তারপর করলাম..
মিশুক: প্রথম অভিজ্ঞতা কেমন?  পেইনফুল?
মেয়ে:  মিক্সড, টাল ছিলাম ত হিহিহিহি।
মিশুক এর মাঝে বেলকনিতে এসে বসেছে। পাশের বাসার মেয়েটিও বেলকনিতে এসে মোবাইলে কথা বলছে, লাম্প পোষ্টের আলো আধারিতে মেয়েটির নড়চড়া এবং অঙ্গভঙ্গিই বলে দিচ্ছে সে তার প্রেমিকের সাথে রাত জেগে মোবাইলে প্রেমালাপে মত্ত, এই যে মেয়টি রাত জেগে একজন মানুষের সাথে প্রেম করছে দুজনে মিলে কত স্বপ্ন কত আবেগ কত আশার কথা তারা বলে যাচ্ছে এরও একটা পর্যায়ে গিয়ে যৌনতা থাকবে আর অপরদিকে মিশুক এই মুহুর্তে যে মেয়েটির সাথে কথা বলছে সেও ত তার যৌনতার কথা বলছে তাহলে এই দুইটার মধ্যে ফারাক কোথায়? এই যে মানুষ প্রেমে এত আবেগ ব্যবহার করে, প্রিয়ার রূপ গুণের বর্ণনায় যে গদ্য রচিত করে তা বিশ্বসাহিত্যের অনেক অমূল্য সম্পদকেও হার মানাবে নিশ্চিত, এই যে এত মিষ্টিমধুর সংলাপের মালা বুনে যায় নিরন্তর এর অনেকগুলোই যে মিথ্যা বা প্রেমিকাকে খুশি করার জন্য বলা এটা উভয়েই জানে তারপরও তারা এই সুন্দর মিথ্যার উপর ভর করেই প্রেম নামক সম্পর্কে মিলিত হয় আবার দশরথ মাঝির মত প্রিয়ার ভালোবাসার বেদনা ও শক্তিতে পাহাড় চিড়ে ফেলে এই মানুষই, এর কোনটা সঠিক সেই সমিকরণ মেলে না মিশুকের কাছে, প্রেমহীন বা ভালোবাসাহীন কি যৌনতা হতে পারে? মিশুক কোন ঠাওর খুজে পায় না। মেসেজ দেখছে আর অবাক হচ্ছে একটা মেয়ে কীভাবে নিজের যৌন সম্পর্কের কথা এইভাবে অবলীলায় একজন অপরিচিত মানুষের সাথে শেয়ার করছে, কি করে পারছে?
মিশুক:  এরপর থেকে কি শুরু হয়ে গেল?
মেয়ে: না এরপর মাসখানেক পরে বাবা আঙ্কেল সবাইকে পাটায়ে কক্সবাজার ট্যুরে রাজি করালাম, পরে সেখানে গিয়ে আম্মুর কাছে ধরাও খাইলাম।
মিশুক:  মানে?  কেমনে?
মেয়ে:  আরে রুমে ছিলাম আম্মু এসে নক করলো পরে খুলতে দেরি হইছে ওদিকে পর্ণ চলতেছিলো শব্দও পাইছে আর মা ত তাই না  বুঝতে পারে।
মিশুক:  কিছু বলে নাই?
মেয়ে: পরের দিন জিজ্ঞাস করলো সত্যি করে বল কি করতেছিলি আমি সত্যি বলে দিলাম পরে ত এক চড়, আমি বললাম আমি যদি বাইরের কারো সাথে করতাম তুমি ত জানতাও না, একসাথে থাকি হয়ে গেছে কি করবো, আম্মু বললো সাবধান আর যেন কোনদিন এমন না হয়, বড় হইছিস ভালো মন্দ বোঝার বয়স হইছে যা করবি বুঝে শুনে কর নইলে পস্তাতে হবে আর যেন কোনদিন না হয় তাইলে আমি মেরেই ফেলবো।
মিশুক:  তারপর দিয়ে কি চলছে?
মেয়ে: হুম
মিশুক: মিট করো কোথায়?
মেয়ে: ঠিক নাই, ওর বাসায়, আমার বাসায়, ট্যুরে যাই।
মিশুক:  বাসায় প্রবলেম হয় না?
মেয়ে: আমাদের ছাদে একটা রুম আছে ঐখানে চলে যাই। আব্বুও জানে।
মিশুক: সে কিভবে জানলো
মেয়ে: আমি বলছি
মিশুক:  আচ্ছা তোমরা যে এই সেক্সুয়াল রিলেশনে আছো তোমাদের মধ্যে কি প্রেম আছে? বিয়ে করবা?
মেয়ে: নাহ.. আমাদের এমন কোন কথা হয় নাই কোনদিন যে আমরা একে অপরকে ছাড়া থাকবো না বা বাচবো না বা আমরা বিয়ে করবো বা আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি এমন কোন কিছুই হয় নাই আমরা একে অপরকে তুই বলে ডাকি, ফ্রেন্ডশিপ যেমন আমাদেরও তেমন আমরা অনেক ভালো বন্ধু একে অপরের সাথে সবকিছু শেয়ার করি এই..
মিশুক, কোন ভালোবাসা কাজ করে না?
মেয়ে: (কিছুক্ষণ পরে রিপ্লাই আসে) জানি না
মিশুক: আচ্ছা তুমি একটা কথা বলছিলা যে তুমি বোকা বলেই ত একসাথে দুজনকে করে এর মানে কি?
বেশকিছু সময় পার হয়ে যায় কোন রিপ্লাই আসে না, মিশুক বার বার বলেই যায় কি হলো চুপ কেন, রিপ্লাই দেও চুপ কেন এক পর্যায়ে মিশুক অডিও কল দেয় কয়েকবার রিং হওয়ার পরে সে রিসিভ করে, রাগের স্বরে বলে কি? এতবার কল দেও কেন? আমি কি তোমাকে কল দিতে বলছি?  মিশুক বুঝতে পারে মেয়েটি কাদছে, মিশুক অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করে তুমি কানতেছ কেন?  মেয়েটির কান্নার বেগ আরও বেড়ে যায়, মিশুক বার বার জিজ্ঞাসা করে কেন কানতেছ? বার বার জিজ্ঞাস করার পরে মেয়েটি জানায় এখন তার কাজিন তার এক ফ্রেন্ড যাকে সে গার্লফ্রেন্ড বানাইছে তার সাথেও করে এবং মেয়েটির সাথেও করে। মেয়েটি যখন এই কথা বলছে তখন মিশুক শুনতে পায় মেয়েটি হাউমাউ করে কানতেছে। আর কোন কথা হয় না, মেয়েটি কাদতেই থাকে এক পর্যায়ে ফোন কেটে দেয়।
আমাবস্যার রত চিড়ে চারিদিকে শুভ্র আভা ফুটে উঠেছে, বাসার সামনের বুড়ো কৃষ্ণচুড়ায় পাখিরা কিচিরমিচির শুরু করেছে, ফজরের আজান হবে হবে ভাব। মিশুক ভাবে বিধাতা এই পৃথিবীতে সবথেকে জটিল কি মানুষের মন বানিয়েছে? মেয়েটি ত বললো তাদের মধ্যে কোন প্রেম নাই ভালোবাসি বলে কেউ কাউকে কোনদিন বুকে আগলে ধরে নাই, একসাথে সারাজীবন থাকবো এমন কোন প্রতিজ্ঞাও তারা করে নাই তাহলে এই কান্না কিসের জন্য, এই কান্নাকেই কি প্রেম বলে?   না কি দীর্ঘদিন ধরে একসাথে যৌন সম্পর্ক করতে করতেই অজান্তে একটা গভীর ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে তার কাজিনের প্রতি, না কি অন্য কিছু না কি এটা একটি অপ্রেমের গল্প?
আচ্ছা!  মেয়েটির নামই তো জানা হলো না…
Facebook Comments