Wednesday, January 19, 2022
Home > বই আলোচনা > বই পর্যালোচনা | জননী | শওকত ওসমান

বই পর্যালোচনা | জননী | শওকত ওসমান

Spread the love

বইঃজননী
লেখকঃ শওকত ওসমান
প্রকাশনাঃ সময় প্রকাশন
প্রচ্ছদ শিল্পীঃ কাইয়ুম চৌধুরী
মোট পৃষ্ঠাঃ২০৮
মূল্যঃ১৫০
বই পর্যালোচনাঃ গালিবা ইয়াসমিন


পর্যালোচনা
শেখ আজিজুর রহমান যিনি শওকত ওসমান কলমি নামে অধিক পরিচিত, বাংলাদেশের একজন চিন্তক, লেখক ও কথাসাহিত্যিক। তিনি একাধারে নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা, রাজনৈতিক লেখা, শিশু-কিশোর সাহিত্য রচনা করতেন। মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে তিনি ছিলেন এক উচ্চকিত কণ্ঠের অধিকারী।
“জাহান্নাম হইতে বিদায়” উপন্যাসটি দ্বারা আমি তার লেখা পড়তে শুরু করেছি।
“জননী” উপন্যাসটি শুরু হয় মহেশডাঙার অতি সামান্য চাষী আলী আজহার খাঁ-এর পরিচয় দিয়ে, যার বংশের এক সময় ভীষণ জৌলুশ ছিল কিন্তু এখন সেসব কিছুই নেই শুধু নামটা বাদে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র “আজহার খাঁ-এর স্ত্রী ” দরিয়াবিবি। উপন্যাসে অনেক চরিত্রের মাঝে উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হচ্ছে – আসেকজন, চন্দ্র কোটাল, মোনাদির, হাসুবৌ, ইয়াকুব, আমিরন ।
দরিয়াবিবি পাহাড়ের মত বিশাল-অটল-কঠিন মনোবল দিয়ে তৈরি। প্রথম স্বামীর অকাল মৃত্যুর কারণে আজহার খাঁ-এর সাথে দ্বিতীয় বারের মত তাকে সংসার বাঁধতে হয়েছে কিন্তু আজহার খাঁ ছিল বেখেয়ালি মানুষ , সংসারের অভাব অনটন সংসারে থেকে দূর করার কথা না ভেবে ভাবতেন সংসার থেকে দূরে গিয়ে কীভাবে অভাব দূর করা যায় তাই তিনি এক দুই মাস পর পরই কাউকে কিছু না বলেই নিরুদ্দেশ হয়ে যেতেন, কিন্তু দরিয়াবিবি স্বামীর অনুপস্থিতিতে ঠিকই সন্তান সামলে নীরবে সংসার করতে থাকত। একজন মমতাময়ী মা,পাক্কা গৃহিণী, নারী বলতে যা বোঝায় দরিয়াবিবি ছিল সে সব কিছুই। আজহার খাঁ-এর এত বেখেয়ালিপনায় দরিয়াবিবি কখনও হাল ছেড়ে দেয়নি, কখনও জবাবও চায়নি তার কর্মকাণ্ডের। সে অনবরত প্রতিটি মুহূর্তে লড়াই করতে থাকে অভাব-অনটন-সমাজ ব্যবস্থা-নিরাপত্তাহীনতার সাথে ; আজহার খাঁ-এর মৃত্যুর পর তার লড়াই যেন শুরু হয় একাকীত্বতার সাথেও। এত লড়াই করেও সে হার মানেনি, হার মানেনি নিজ ঘরে ধর্ষিত হয়েও। উপন্যাসের শেষে তার আত্মার দেহ ত্যাগ করাটা ছিল খুব নিচু কিন্তু দরিয়াবিবি ছিল সব কিছুর ঊর্ধ্বে। একজন প্রকৃত সংগ্রামী মায়ের উদাহরণ হচ্ছে জননী উপন্যাসের দরিয়াবিবি।
আমার কাছে দরিয়াবিবি’র পাশাপাশি চন্দ্র কোটালের চরিত্রও খুব চমৎকার লেগেছে! আজহার খাঁ-এর বন্ধু চন্দ্র কোটাল যে নাচ-গান করে আবার চাষ-বাসও করে। চন্দ্রের মন যেন সমুদ্রের মত বিশাল, আজহার খাঁ-এর অনুপস্থিতিতে চন্দ্রই তার পরিবারের আর জায়গা-জমির খোঁজ খবর রাখত। যদিও গ্রামের হিন্দু – মুসলিম নেতাদের মাঝের দুশমনির কারণে তাদের নিজেদের মধ্যেও মনমালিন্য হয়েছিল, কিন্তু ভুল বুঝতে পেরে দুজনই স্বাভাবিক বন্ধুত্বে ফিরে যায় , এমনকি আজহারের সন্তানগুলোর শেষ আশ্রয় হয় এই চন্দ্র কোটাল। চন্দ্র কোটাল চরিত্রটি প্রকৃত বন্ধুর প্রতিচ্ছবি।
লেখক এই উপন্যাসে তুলে ধরতে চেয়েছেন, এ সমাজ সংসারে প্রকৃত মায়ের ভূমিকা, বন্ধুত্ব , গ্রামের মুগ্ধ করা প্রকৃতি, ধর্মের নামে অকারণে মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ সমাজ ধ্বংসের কারণ।
সব দিক থেকে আমার কাছে “জননী” উপন্যাস অসম্ভব সুন্দর লেগেছে। লেখক “শওকত ওসমান” যেন কোন কিছুর খুঁত রাখেননি উপন্যাসে , নিখুঁত সাবলীল একটা উপন্যাস “জননী”। এখনও যারা “শওকত ওসমান”-এর লেখা “জননী” উপন্যাস পড়েননি, তারা দ্রুত বইটি সংগ্রহ করুন এবং পড়ে ফেলুন।
শুভ হোক আপনার পাঠ্য কার্যক্রম!

Facebook Comments