Sunday, January 16, 2022
Home > ছড়া/কবিতা > লাবীব শাহেল‘র তিনটি কবিতা

লাবীব শাহেল‘র তিনটি কবিতা

Spread the love
চিহ্ন
বৃষ্টিস্নাত অলস দুপুর
জলের ফোটায় উড়ে আয়েশী বাতাস
অপেক্ষারত কদম ফুল;
হিজল বনের শ্বাস, এককাপ চা।
লাল সুরকির পথ,
দুইটি পদচিহ্নের পাশে
দাঁড়িয়ে থাকে কেউ
বুকে
আজন্ম লালিত দীর্ঘশ্বাস!


কুড়িয়ে পাওয়া মেঘ 
মানুষের শ্বাসের মতোন হারায়া যায় সময়
এক আঁজলা প্রেম, মোহমায়া স্মৃতি; রেখে যায় শুধু
যেনবা, সমুদ্দুর ছুঁয়ে আসা ডাহুকির
নীড়ে ফেরার তাড়া,
সন্ধ্যে ঘনিয়ে এলো বলে
আমরা আবার,
সময়ের রেশগুলো বেধে রাখি;
লাল নীল শাদা স্মৃতির খামে।
রাত্রি হলে গুমোট আঁধার
বালিশের পাশে মেলে ধরি__
স্মৃতিভরাট জাম্বিল।মনে হয়
সবকিছু জমে গেছে মেঘের বাতাসে_ লেপ্টে আছে
ধূসর বৃষ্টি ;লাল শাদা নীল!
তারপর?
উড়ে যাওয়া এককাপ চা,
বিমর্ষ পেন্ডুলামের টংটং গর্জন এবং
আমরাও ফিরি নীড়ে,
সন্ধ্যে
ঘনিয়ে এলো বলে !


অনাবৃষ্টির কাল 
আকাশে কোনো মেঘের আনাগোনা নেই; অতচ
এখানে দেখো,
একখণ্ড মেঘের সরব উপস্থিতি
সবকিছু আন্দোলিত করে এখনি
আসবে ঝড়, বৃষ্টির ধ্রুপদী গর্জন মতোন রাগিয়ে দেবে তোমাকে; তারপর
 মানুষ্য বৃষ্টির সয়লাবে প্লাবিত হবে আমার শহর
কখনো মনে পড়ে?
একসময় আমরা, প্রচুর
বৃষ্টি কামনা করতাম। খুব করে চাইতাম এক পশলা বৃষ্টি আসুক গুড়িগুড়ি, তখন সহসা
তোমার নির্জন হাত ছুঁয়ে দিতো পরম শীতল  বৃষ্টি;
তাপদাহে পুড়া শহরে ছড়িয়ে যেতো, শীতল
উষ্ণতা!
সেবার বাড়ি ফেরার কথাই ধরো;
হুইশেলের কর্কশ স্বর মিলিয়ে গেলো মেঘের গর্জনে; আর
আকাশ তখন বিষন্ন চোখে বরফ মেশানো জল_
ছড়িয়ে দিলো তোমার,
স্পর্শে, তুমি ভিজলে এবং
আমাকেও ভেজালে তোমার শীতল অবগাহনে! তারপর
আম্মার ফোনকল; উৎকণ্ঠিত সুরে ধমক, তোদের বাড়ি না এলেও চলবে, ফিরে যা আবার,
খানিকপর
কালো রাস্তায় অপেক্ষা জমাতে জমাতে আমরা
বাড়ি ফিরি, রাত তিনটা ছত্রিশ মিনিট।
আমার জ্বর তখন বিরুধী দলের মতোন মিছিল করছে, যেনবা। হঠাৎ
নিরেট উষ্ণতায় উবে গেলো সব! আম্মার  করুণ মায়াবী সুর!
সেই যে বৃষ্টিফোঁটা থামলো! আমার শহরে বৃষ্টি আসেনা আর!বাড়ি ফেরা’ই হয়না কতকাল!
Facebook Comments