Saturday, January 22, 2022
Home > গল্প > শৈশবের গল্প | তামিম আব্দুল্লাহ

শৈশবের গল্প | তামিম আব্দুল্লাহ

Spread the love
শহরের আবদ্ধ দেয়ালের মাঝে আমাদের বেড়ে ওঠা। আবদ্ধ এই দেয়ালের মাঝে নিজেকে অনেক একলা মনে হত। আমার বাবা শহরের ব্যবসায়ী ব্যক্তি হওয়াতে আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা সবকিছুই এই শহরের রাস্তার প্রতিটি পিচের সাথে মিশে আছে। ছোটবেলায় মা সবসময় দরজা বন্ধ করে রাখতো যাতে বাসা থেকে বেরুতে না পারি। মনে মনে খুব রাগ হত। কান্না আসত। কান্না করতাম। কান্না করতে করতে এক সময় ঘুমিয়ে যেতাম। তখন মা মাথার কাছে এসে মাথায় তার হাতের পরম মমতার স্পর্শ দিয়ে হাত বুলিয়ে দিত।আর বলতো, বিকেলে তোমাকে বাইরে নিয়ে যাবো। তখন বুকের ভেতর যে একটা খুশির শিহরণ বয়ে যেত তা বলে বোঝানো যাবে না। বয়স কিছুটা বাড়ার সাথে সাথে আমার সুযোগ-সুবিধাও বেড়ে যেতে লাগল। আমাদের কলোনির যে গার্ড ছিল তাকে মা বলে দিল যে, আমাকে যেন কলোনির বাইরে যেতে না দেয়। সেজন্য তাকে প্রতি মাসে একশ করে টাকাও দিত। কিন্তু আমি এতেই খুশি। চার দেয়ালের আবদ্ধ জীবনটাতে দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। এখন কিছুটা শ্বাস নিতে পারছি। বিকেল হলে একাই দরজা খুলে বেরিয়ে যেতাম।বাবুদের বাড়ীর দেয়াল ছিল আমাদের ক্রিকেট খেলার ষ্ট্যাম্প। রাস্তার ইটের লাল রংয়ের পাটকেল দিয়ে একে দিয়েছিলাম সেই ষ্ট্যাম্প। সাথে থাকত বাবু, রাজু, ছোটু আর মকবুল। মাঝে মাঝে যখন স্কুল বন্ধ থাকত সেদিন সকালেই বেলা বাড়া অবধি খেলতাম। এজন্য মায়ের কাছে কম পিটুনি খাইনি। তবুও মায়ের বাঁধা, বিপদ-আপদ সব ভুলে যেতাম।

আপনার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ইউনিভার্সিটি, অফিসের আধুনিক মানের

আই কার্ড (ID CARD) তৈরী করুন সুলভ মূল্যে

যোগাযোগ করুন : ০১৫১৫৬১৬৭২৮


আর যখন বর্ষাকাল আসত তখন সেই সময়ের বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলার আনন্দের কথা কি বলবো! সব আনন্দেরা যেন বৃষ্টির সাথে মিশে যেত। মাঝেমাঝে আম্মু আলসেমি করে ভর-দুপুরে ঘুমিয়ে থাকত আর তখন যদি বৃষ্টি হত ব্যাস টুক করে দরজা খুলে বৃষ্টিতে বেরিয়ে যেতাম। প্রথমে বের হওয়ার জন্য সাহস পেতাম না কিন্তু বাবু আর ছোটুর ডাকাডাকিতে বন্ধুত্বের শক্তি বেড়ে যেত। তখন বুক ফুলিয়ে বেড়ালের মতো বেরিয়ে যেতাম। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটার টুপটাপ শব্দ শুনতাম। শব্দ শুনতাম বিল্ডিংয়ের ফাঁক-ফোকড় দিয়ে আছড়ে পড়া শোঁ শোঁ শব্দ। দু’হাত উঁচু করে, মাথা উঁচু করে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকতাম। হা করে বৃষ্টির পানি খেতাম। নিজেকে তখন মুক্ত পাখি মনে হত। কিন্তু যখন বাসায় ফিরতাম তখন একদম ভেজা বেড়ালের মতো হয়ে যেতাম। ঢুকেই দেখতাম এক অসহায় বেড়ালের সামনে খুনতি হাতে এক বাঘ দাঁড়িয়ে আছে আর বসাত পিঠের উপর উত্তম-মাধ্যম তবুও ভালোলাগতো। যখন সন্ধ্যার পরে বই খাতা নিয়ে পড়তে বসার পর যদি  কারেন্ট চলে যেত তাহলে সেই খুশির অন্ত কোথায় গিয়ে শেষ হতো তা খুশির অন্তের শেষ মাথায় না যাওয়ার আগ পর্যন্ত বোঝা যাবে না। আম্মুর সাথে বেরিয়ে যেতাম রাস্তায় হাঁটতে। আম্মু পাড়ার আন্টিদের সাথে হাঁটতো আর আমরা বিচ্ছুর দল এই অন্ধকারে লুকোচুরি খেলতাম। যখন কারেন্ট চলে আসতো তখন সবাই বাসায় ফিরতো আর আমরা যেকোনো এক বাসা লক্ষ্য করে সেই বাসার কলিংবেল টিপে দিয়ে পালানোর পরিকল্পনা করতাম। সবসময় ছোটুকেই জোর করে এই কাজের জন্য পাঠান হত আর আমরা থাকতাম ওর পিছু পিছু। কলিংবেলের উপর টিপ দেয়ার পর যখন বাড়ির দারোয়ান লাঠি নিয়ে মারার জন্য তেড়ে আসত তখন চোখ বুজে এক দৌড় দিতাম আর বলতে থাকতাম বাবু রাজু ছোটু তোরা পালা! দারোয়ান বেটা লাঠি নিয়ে তেড়ে আসছে রে!!
Facebook Comments