Wednesday, January 19, 2022
Home > বই আলোচনা > বই পর্যালোচনা | পথের দাবী | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বই পর্যালোচনা | পথের দাবী | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

Spread the love

বই পর্যালোচনা


বই : পথের দাবী
লেখক : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
রিভিউ : গালিবা ইয়াসমিন
প্রকাশনা : সুধাংশুশেখর দে, দে’জ পাবলিশিং
প্রচ্ছদ শিল্পী : দেবব্রত ঘোষ
মোট পৃষ্ঠা : ২২৪
মূল্য : ১৩০ টাকা


পাঠ্য প্রতিক্রিয়া : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬ – ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮) ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক, ও গল্পকার। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় এবং বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক।

পথের দাবী বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগের অন্যতম বাঙ্গালী কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক বিরচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। এ উপন্যাসটি ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই উপন্যাস শুরু হয়েছে অপূর্ব নামক চরিত্রের রেঙ্গুন গমন দিয়ে, শুরুটা তাকে দিয়ে হলেও উপন্যাসের মূল চরিত্র সে ছিলেন না; সব্যসাচী ব্যক্তি যাকে সবাই ‘ডাক্তার’ নামে চিনেন, তাকে ঘিরেই উপন্যাস এগিয়ে গিয়েছে। নারী চরিত্র গুলোর মধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য ছিল ‘ভারতী’ আর ‘সুমিত্রা’। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁদের দল অর্থাৎ সব্যসাচী ‘ডাক্তার’ এর নেতৃত্বে একটি সংগঠন কাজ করতো , অপূর্ব না চাইতেই সে সংগঠনের সদস্য হয়ে যায় তারপরই সে সংগঠনের উত্থান-পতন শুরু হয়।

সব্যসাচী কে ছিলেন কি করতেন সেসব মুখে বলে বোঝানো সম্ভব না, সুমিত্রা ছিলেন পাহাড়ের মতো কঠিন আর ভারতী ছিলেন পানির মতো সরল, অপর দিকে অপূর্ব ছিলেন ভীতু প্রকৃতির। তারা দেশের স্বাধীনতা অর্জনে মানুষদের সচেতন করে তুলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতেন, সেই মানুষরাই অনেক সময় তাঁদের বিরুদ্ধে চলে গেছে আর ক্ষমতার লোকরা তাঁদের দেশদ্রোহী বলে ঘোষণা করে দিয়েছে। ছোট ছোট ঘটনা জুড়েই চলতে থাকে উপন্যাসটি।

উপন্যাসে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন দেশ প্রাণের চেয়েও প্রিয় কারণ দেশ স্বাধীন করার জন্য জীবন বাজী রাখলে আগামী প্রজন্ম স্বাধীনতার স্বাদ নিয়ে মাথা উচু করে বেঁচে থাকবে আর স্বাধীনতা বলতে শুধুমাত্র দেশ স্বাধীন করা না, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তা ধরে রাখা এবং ধর্মের চেয়েও মানুষ বড়।

সব দিক থেকে আমার কাছে উপন্যাসটি ভালো লেগেছে, পর্যালোচনা পড়ে ‘পথের দাবী’ উপন্যাস এর কাহিনী বোধগম্য করতে না পারলে বইটি সংগ্রহ করুন এবং পড়ে ফেলুন।

শুভ হোক আপনার পাঠ্য কার্যক্রম।

Facebook Comments