রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২২
Home > ফিচার > বইমেলা আমার চৈতন্য | মুরশিদুল আমীন উমায়ের সিরাজি

বইমেলা আমার চৈতন্য | মুরশিদুল আমীন উমায়ের সিরাজি

Spread the love
বছর ঘুরে আবার ফেব্রুয়ারি মাস ফিরে এলো। ভাষার মাস,বাংলা ভাষা।এই বাংলা আমার মায়ের ভাষা। ৫২- এর ভাষা আন্দোলনে রাজপথে অবলীলায় প্রাণ দিয়েছিলেন – রফিক,জব্বার, সালাম, বরকতেরা, রাজপথ লাল রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, আমরা অর্জন করেছিলাম বাংলা ভাষায় কথা অধিকার। বাংলা ভাষা এখন বিশ্ব নন্দিত। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৭২ সালে ছোট পরিসরে এ মাসে বইমেলার সূচনা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও বইমেলা শুরু হয়েছে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে। চলবে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে। বইমেলা হলো প্রাণের মেলা,এই প্রাণের মেলার জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে বই প্রেমীরা, তাদের পাশাপাশি লেখকরাও অপেক্ষা করতে থাকে তাদের লেখা বইগুলো বই প্রেমীদের হাতে তুলে দেবার জন্য। বইমেলায় গিয়েছিলাম ১৮’ সালে। ক্লাস শেষ করে দুপুরের কড়া রোদে সবার অজান্তে বাসে চেপে গিয়েছিলাম বইমেলায়, তাও মেলার শেষ দিকে। চৈতন্য প্রকাশনীর স্টল থেকে এই প্রজন্মের জনপ্রিয় লেখক ‘কাউসার মাহমুদের’ কবিতার বই সংগ্রহ করলাম। বইটার নাম ছিল ‘একফোঁটা রোদ একফোঁটা জল’। প্রথমবার গিয়েছিলাম তাই একরকম ভালোলাগা কাজ করছিল, যেই বইমেলা আমি ছোটবেলা থেকে টিভি পর্দায় দেখে এসেছি সেই বইমেলার বাস্তব অবয়ব আমাকে দারুণভাবে আলোড়িত করেছিল। হেঁটে হেঁটে চৈতন্যের স্টল খুঁজছিলাম। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো যেখান থেকে খোঁজা শুরু করছিলাম, ঘুরেফিরে ওখানেই বারবার ফিরে আসছিলাম। এরকম কয়েকবার হলো,মনে মনে খুব রাগ হচ্ছিলো আবার হাসিও পাচ্ছিলো, তারপর অপরিচিত একজন লোককে জিজ্ঞেস করতেই উনি আমাকে চৈতন্যের স্টল দেখিয়ে দিলেন। বইটাও সংগ্রহ করা হলো, যে বইটার এতদিন অপেক্ষা করছিলাম তা হাতে পেয়ে আমার মন আনন্দে ভরে উঠলো, বইয়ের নামটা পড়ে আমি যতটা না মুগ্ধ হয়েছি তার চেয়ে বেশী মুগ্ধ হয়েছি কবির সৌকর্যময় উপস্থাপনায়। তারপর বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন বই দেখেছি। সাজানো – গোছানো বই, একেকটা বইয়ের প্রচ্ছদ নজরকাড়া, স্টলগুলোর সাজ-সজ্জাও দেখার মত ছিল। সেই যে ভালোলাগা কাজ করেছিল, এরপর থেকে মনে মনে ঠিক করে ফেলেছি – প্রতিবছর বইমেলা শুরু হলে অবশ্যি যাবো। এ যেন আমার চেতনার মেলা। বই পড়া এখন আমার নেশা। যা ভিতরে আস্তে আস্তে তৈরি হয়েছে। আদিল মাহমুদ, কাউসার মাহমুদ ( এ দু’জন মানুষের কাছে আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো) বিশেষ করে আমার মা – বাবার লেখাগুলো আমার চৈতন্যের জোনাকীর মতো। মা খুব ভালো কবিতা লিখতে পারেন, তাঁর কবিতা লেখা পুরনো ডায়েরিগুলো খুলে মাঝেমধ্যেই পাঠ করি। আমি তাঁর কবিতায় ডুব দেই। খুব ভালো লাগে। ভাষা ও কল্পনার অসীম সাজুয্য আমাকে মোহিত করে। আমি কখনো তন্ময় হয়ে তাকিয়ে থাকি মায়ের চেহারার দিকে। আমার বাবাও বাংলার সাহিত্য অঙ্গনের একজন সুপরিচিত লেখক ও সাহিত্যিক। যিনি তাঁর লেখা দিয়ে প্রচুর পাঠকদের হৃদয় কেড়েছেন। এ মানুষগুলোর লেখা পড়ে ভিতরেও লেখক স্বপ্ন দানা বেঁধেছে, আমার বাবার বুক শেলফে থাকা অগণিত বই এখন আমার নিত্য দিনের সঙ্গী। সত্য ও সুন্দরের পথে আমার যাত্রা এখন অবিরাম। পৃথিবীর মহৎ মানুষগুলোর মতো নিজের চেষ্টা – সাধনায় আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি এগিয়ে চলছি। মাতৃভাষা আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। ভাষার মর্যাদা রক্ষায় আমাদের ত্যাগ তাই অনিঃশেষ, অতুলনীয়। 
Facebook Comments