শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Home > নতুন বই > প্রসঙ্গটা “অধ্যায়” – এর

প্রসঙ্গটা “অধ্যায়” – এর

Spread the love

প্রসঙ্গকথাঃ অধ্যায় 
লেখকঃ তকিব তৌফিক
প্রচ্ছদঃ হিমেল হক
প্রকাশকঃ জুয়েল রেদওয়ানুর
প্রকাশনীঃ নালন্দা
রিভিউঃ মারজান চৌধুরী


আমি বই রিভিউ কখনোই লিখতাম না। কখনো যদি সাহস করে যা লিখতাম সব হযবরল-ই মনে হতো। রিভিউ লেখতে বসলে খেয়াল করি বইতে কী কী পড়লাম সব ভুলে বসে আছি ৷ রিভিউ লেখা তখন ব্যর্থতায় পতিত হয়।

‘অধ্যায়’ পড়েছি গতকাল রাতে। শেষ করেই মনে হয়েছে এই বই নিয়ে কিছু না কিছু লিখে রাখতেই হবে! হোক বাজে। তবু লিখতেই হবে!

জাদুকর যেমন জাদুমন্ত্রে বিভিন্ন জাদু দেখায় তেমনিই জাদুকরের মতন লেখক সাহেব আজিমপুরের এই ছোট্ট ঘর থেকে এক টান দিয়ে আমাকে নিয়ে গিয়েছিলো গোফরানের ছোট্ট পানের দোকানে যেখানে আকাশের পূর্ণিমার দিকে তাকিয়ে আনসারী নামের এক যুবক কবিতা আওড়ে যাচ্ছে, ‘আমি সহস্র বছর ধরে দুঃখ ফেরী করছি,আমি দুঃখের ফেরীওয়ালা..’। এই আবার একসময় দেখতে পাই সেই আনসারী আমেরিকায় দিশেহারা ঘুরে বেড়ায়।
আমার তখন অসম্ভব মন খারাপ এক অনিশ্চিত ভালবাসার কঠিন অপেক্ষার জালে জড়িয়ে যাওয়া মেয়েটাকে নিয়ে। এই মন খারাপ নিয়ে পড়তে পড়তে আমি পল্লবীর কবিতা এবং চিঠি পর্বে এলাম ! পল্লবীর জন্য তার প্রিয় একজনের লেখা। চিঠির কয়েকটি লাইন এখানে লিখছি-
‘আমার কবিতা তোমাকে ঘিরে।আমার কবিতার প্রতিটা লাইন,প্রতিটা শব্দ,প্রতিটা বর্ণ শুধু তোমার জন্য।এই কবিতা তুমি যখন পড়বে আমাকে খুব মনে পড়বে,জানি। তুমি আমার কথা রেখো। আমি তো আছি। আমি রব অন্ততকাল তোমার হয়ে।’
এরপর আমি বই বন্ধ করে পল্লবীর সাথে কেঁদেছি। স্তব্ধ হয়েছি। আবার ভেজা চোখে বই খুলেছি।
হঠাৎ এই কথাগুলো পড়ে মনে হবে ‘এখানে চোখ ভিজে যাবার মত কিছু নেই,কান্নার কিছু নেই।অনর্থক চোখ ভেজার কথা কেন বললাম!’
পুরো বই না পড়লে এই ব্যাপারটা বোঝানো বোধহয় সম্ভব না…

মারজান চৌধুরী

বইটার দুঃখজনক ব্যাপার হল- প্রচন্ড ভালোবাসা সত্ত্বেও পাওয়ার আকাঙ্খা সামলে রেখে পাগল হয়ে বেঁচে থাকা। দুজন মানুষ জীবনের শেষ লগ্ন পর্যন্ত বেঁচে থাকে একজন নিঃসঙ্গ চাঁদ হয়ে।
আমার মনে হয়েছে পুরো বইতে সব চরিত্রের একটা করে সেটেলমেন্ট আছে। শুধু একজন ভালবাসায় কেবল একা পড়ে থাকে। হয়তো তারও সেটেলমেন্ট হয়েছে কিন্তু তাকে আমি একা পড়ে থাকতে দেখেছি। গল্পের এই দৃশ্য আমার ভালো লাগে নি। এও জানি এটা আমার অতিরিক্ত আবেগের কারণে ঘটেছে।

কষ্টের উপন্যাস পড়লে আমার ভেতরে হাহাকার বিরাজ করতে শুরু করে। আজ সকাল থেকে চেষ্টা করছি অন্য বইতে মন বসাতে। হচ্ছে না। সময় লাগবে।
‘অধ্যায়’ আমাকে যেই হাহাকার নামক ব্যাধি ধরিয়েছে, তা শেষ করার কি কোনো রাস্তা আছে? আমি কি শেষটা নিজের মতো ভেবে নিতে পারি না?
লেখক সাহেব, পারি না?

বইটা মুখের সামনে ধরে কখনো ভুরু কুঁচকিয়ে, কখনো মুচকি হেসে কিংবা মুখ বেজার করে,চোখে পানি নিয়ে পড়া শেষে হয়তো এখনো ঘোরের মধ্যেই আছি, কিংবা নাই, হয়তো থাকবো আরো কয়েকদিন। সেজন্য প্রিয় তকিব তৌফিক আপনাকে বলতেই হয়
আপনি সেরা।

এবং বইটির প্রচ্ছদের কথা না বলে পারছি না। কিছু কিছু বই আছে শুধুমাত্র প্রচ্ছদ দেখলেই মনে হয়, বাহ্ দারুন তো। প্রচ্ছদের জন্যই বইটি সংগ্রহে রাখতে ইচ্ছে করে। সেখান থেকে হিমেল হক ভাইয়া দারুন কাজ করেছেন।

Facebook Comments