Sunday, January 16, 2022
Home > বই আলোচনা > বুক রিভিউ “পথের পাঁচালী” ৩য় পর্ব

বুক রিভিউ “পথের পাঁচালী” ৩য় পর্ব

Spread the love

৩য় পর্ব ( শেষপর্ব)


জীগল মণ্ডল

লেখক


অপুর জীবনে প্রথমে নারী লীলা। তখনো বয়সে ছোট। স্কুলে যেত। লীলার সাথে দেখার হবার আগের সময়টা অপুর চরম দুখের। দেখা হলেও অবশ্য দুঃখ শেষ হয়নি।
 
অপুর বাবা হরিহর মারা গেল। তার মা সর্বজয়া এক ধনী বাড়িতে ঝি এর কাজ নিল। সারাদিন অসংখ্য মানুষের রান্নাবান্না। রান্নাঘরেই থাকতে হয়। তবুও ছেলেটাকে একটু আধটু ভাল খাওয়ানোতে সর্বজয়ার অনেক আনন্দ হয়। সে বাড়িতেই লীলার সাথে অপুর দেখা।
 
লীলা অপুকে ফাউন্টেনপেন দেয়। একই গ্লাসে দুধ খায়। অপুর রুমে আসে। অপুর তার জীর্ণ অবস্থার কারনে লীলার সামনে লজ্জা পায়। অথচ দুজন ই ছোট।
 
অপুকে অপমানিত ও হতে হয় একদিন। সে শখ করে বাকিদের মত করে বার্ডসাই সিগারেট কিনে খেয়েছিল। বাবুদের মত টানতে তার ইচ্ছে হয়েছিল। কিন্তু সেটা বাড়ির কর্তাবাবু দেখে ফেলে এবং বাড়িতে এলে বেত্রাঘাত করে।
 
এমন নির্মম বাস্তব জীবনে অপু অসহায়। সর্বজয়া সব জয় করতে হিমসিম খায়।
 
আড়াল থেকে দেবতা অপুকে অনুপ্রেরণা দেন-
 
” পথের প্রসন্ন দেবতা হাসিয়া কহিলেন মূর্খ বালক, তোমার পথ এখনো শেষ হয়নি, ( নিশ্চিন্তপুর, পথ ঘাট, ঘেটুফুলে ফিরতে অপুর প্রতি আহবান ছিল।)
 
অপুরও ঠাকুরের কাছে ইচ্ছে ছিল একটিবারের জন্যে হলেও পিতৃভূমি স্মৃতিময় নিশ্চিন্তপুরে ফিরে যাওয়া।
 
অবশেষে-
 
পথের প্রসন্ন দেবতাই বললেন –
 
” সে পথের বিচিত্র আনন্দ রঙের অদৃশ্য তিলক তোমার ললাটে পরিয়েই তো তোমায় ঘরছাড়া করে এনেছি, চল এগিয়ে যাই। “
 
অনেকবছর আগে পড়া। জীবনের প্রথম উপন্যাস হিসেবে পথের পাঁচালী পড়েছিলাম। তারপর অসংখ্যবার পড়েছি স্কুল কলেজে থাকতে।
 
আমার মতন অনেকের ই প্রিয় উপন্যাস এটি।
 
আগেও বিচ্ছিন্নভাবে এই বই নিয়ে লিখেছি। তখন অনেকেই বলেছেন একত্রে লিখতে। তার একটা প্রয়াস।
 
একটা অনলাইন রিভিউ এ পুরো উপন্যাস বা বিভূতিভূষণ কে ধারন করা সম্ভব নয়। তা স্বীকার করি। আরো বেশি ভাল লিখতে চাইলে অফলাইনে লিখব।
Facebook Comments