Sunday, January 16, 2022
Home > বই আলোচনা > বুক রিভিউ “পথের পাঁচালী” ১ম পর্ব

বুক রিভিউ “পথের পাঁচালী” ১ম পর্ব

Spread the love

১ম পর্ব:


জীগল মণ্ডল

লেখক


বইয়ের নাম :  পথের পাঁচালী
শেষ লাইন থেকে শুরু করব….
 
” সে পথের বিচিত্র আনন্দ রঙের অদৃশ্য তিলক তোমার ললাটে পরিয়েই তো তোমায় ঘরছাড়া করে এনেছি, চল এগিয়ে যাই।”
 
উপন্যাসটা বিভূতিভূষণের আত্মজৈবনিক। বইটার ছাপা হলে এক বন্ধুকে যখন বিভূতিভূষণ বইটা উপহার দেন তখন ” অপু” নামে সাক্ষর করেন।
 
এ উপন্যাসে সবচেয়ে বাস্তবগন্ধী চরিত্র সর্বজয়া। বিভূতিভূষনের মায়ের সাথে তার অনেক মিল। অপুর বাবা হরিহরের পেশা আর প্রকৃতির সাথেও বিভূতির বাবার পেশার মিল ছিল।
 
বইয়ের তিনটা অংশ। নামেও বিশেষত্ব আছে। বল্লালী বালাই, আম আঁটির ভেপু এবং অক্রুর সংবাদ।
 
রাজা বল্লাল বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে বহু বিবাহের এক প্রচলন করেন। অনেকেই এভাবে বিভিন্ন গায়ে বিয়ে করত। আর সারা বছর এ শ্বশুরবাড়ি হতে সে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে অর্থকড়ি নিত। অপুর পিসি ইন্দির ঠাকুরুন এরূপ এক হতাভাগিনী নারী ছিলেন। বাবার বাড়িতে তার গঞ্জনা সইতে হতো। প্রাচীন ভারতের অনেক কিছু ছিল ইন্দির ঠাকুরুনের বর্ণনার সময়।
 
আমের আঁটি মাটিতে ফেলে রাখলে চারা হয়। এই চারাটা ছিড়ে দুটো বীজপত্র নিয়ে মাঝখানে আমের কচি পাতা রেখে মুখে পুরে ফু দিলে বাশি বা ভেপু বাজে। গ্রামের ছেলেরা এভাবে বাজায়। তাই নাম আম আঁটির ভেপু। এই পর্বটাই পথের পাচালীর প্রাণ। অপুর বেড়ে ওঠা, দিদির সাথে জঙ্গলে মাঠে ঘুরে বেড়ানো, দিদি যখন চুরি করে মার খায় তখন তার জন্য মায়া লাগে। রেলগাড়ি দেখতে যাওয়া। মায়ের রান্না মিষ্টান্ন কে অমৃত মনে করা। মন খরাপ হলে বাকা কঞ্চি নিয়ে অপুর ঘুরে বেড়ানো,। এভাবে অপু আর তার দিদি দূর্গার অনেক সুন্দর বর্ণনা আছে।
 
দূর্গার চরিত্রটা পথের পাচালীতে প্রথমে ছিল না। লেখা শেষ করে দূর্গার চরিত্রটা আবার নির্মানে করতে ১ বছর বাড়তি সময় লেগেছিল।
 
দূর্গার যখন পূজা দিত, তখন বলত-
 
“পুণ্যিপুকুর পুষ্পমালা কে পূজে রে দুপুরবেলা,
আমি সতী লীলাবতী, ভায়ের বোন ভাগ্যবতী।”
Facebook Comments