শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Home > ছড়া/কবিতা > অাবদুল কাইউমের ৩টি কবিতা

অাবদুল কাইউমের ৩টি কবিতা

Spread the love
ফাঁকা ফানুস
 
অযথা’ই জীবনের জ্বালানী করে ক্ষয়,
হারিকেন জ্বালিয়ে খুঁজি ভোরের সুর্যোদয়!
 
অাটলান্টিক সেচতে গিয়ে ঝিনুকের শেলে,
ফিরে অাসি ব্যর্থ মনোরতে…
সাগরতল যোজন দূরের পথ, নুড়ি পাথরও কী মেলে?
 
তুলি ভেজাতে গিয়ে অাকাশের নীলে,
খর্ব হস্ত কী অার পৌছাতে পারে সেথায়?
যা ছূঁতে পারেনি অাজও বাজ অার চিলে—
 
মিছামিছি চাঁদ ছূঁয়ে বলি অামিতো নভোচারী মানুষ,
অাসলে অহংকারের বুদবুদে ভরা ফাঁকা এক ফানুস!

লোক দেখানো সময়
 
অামি হাঁটি অার অমাবস্যা অাগে অাগে হাঁটে
সামনে ঝুলে থাকে বকরা ঈদ, বুকের জমিনে
প্রতি বার কোরবানী দেই শান্তি সুখের নিদ ৷
 
কুকুরের গলায় জরিদার গলাবন্ধ দেখি; তখন-
চোখে ভাসে অনাহারী লাখো বস্ত্রহীন শিশুর মুখ,
দুঃখীর ঘরে ঈদ দেখি না দেখি ধনীর ঘরে সুখ ৷
 
অাটাশ লক্ষ টাকার কোরবাণী! শুনে চমকে উঠি!
লোক দেখানো কেন? রুপকথার গল্প হবে কী তাই?
অথচ; কালো সামিয়ানায় ঢাকা গরীবের সেমাই ৷
 
অাকাশে উড়ে অাসে গরু,বাতাসে ভাসে রক্তের ঘ্রাণ,
ফ্রিজে বন্ধি ক্ষুধার্তের হক; টাকায় কেনে সম্মান৷


মানুষ তুমি
 
মানুষ তুমি, শুধু দূর্বলের উপর করো দাদাগিরি
সবলের অধিনে থাকো মাথা নুইয়ে,এটা কী গর্ব?
নিজের অধিকারের জন্য চিৎকারে অাকাশ ভাঙ্গ
অার নিরীহের অধিকার কর খর্ব!
 
নিজ সন্তানকে অাহার দিতে পৃথিবী উপরতল কর,
অার গাভীর বাচ্চাকে সামনে রেখে তার সব গুলো
দুধ নিংড়ে পাত্র ভরো !
 
হায় তুমি মানুষ কত নিষ্টুর তোমার করাল থাবা…
কোথায় যাবা? গাভীর বাচ্চা মরে গেলেও তোমার
হাত থেকে পায় না নিস্তার! কী করবা অার?
 
খড় দিয়ে অবয়ব বানিয়ে বাছুরের চামড়া চড়িয়ে সামনে বেঁধে রেখে
ধোঁকায় ফেলে দুধ দোহাও, সে চিৎকার করতে পারে না
তাই এই সুযোগ নাও?
 
মানুষ তুমি, তোমার অধিনকে করো শাসন, করো কত ঊনিশ বিশ,
তবে কেন গলার জোর বেশী যার তাঁকে কর কুর্নিশ?
Facebook Comments