শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Home > গল্প > বীভৎস রাত ।। আতিক ফারুক 

বীভৎস রাত ।। আতিক ফারুক 

Spread the love
  1. ১ম পর্ব : চারদিকে নিরব নিস্তব্ধতায় ঘেড়া। রাস্তার দু’ ধারে থেকে থেকে ল্যাম্পপোস্টের নিয়ন আলো। দূর কোথাও থেকে নেড়ি কুকুরের ঘেউঘেউ ডাক ভেসে আসছে ফাহাদের কানে।
    প্রতি রাতেই সে রাস্তায় একাকী হাঁটাচলা করে।
    চারদিক যখন স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষজন যখন নাকডাকা শুরু করে, পশুপাখি যখন তন্দ্রাচ্ছন্ন। ঠিক তখনি অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে থাকে রাস্তার কুকুরগুলো। আর এই সময়েই ফাহাদের হাঁটাচলা করতে ভালো লাগে। এটা তার নতুন অভ্যাস, আগে সে খুব তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়তো কাঁথা মুড়ি দিয়ে।
    ফারিয়ার সাথে ব্রেকআপ হওয়ার পরই তার এই উদ্ভট অভ্যাস হয়েছে। নিঝুম রাতে একাকী হাঁটাচলা করা। সবার সাথে কেমন অদ্ভুত আচরণ করে ফাহাদ! সুন্দর তেলতেলে চুলগুলো কেমন উসকোখুসকো হয়ে গেছে ফাহাদের

    হাঁটবাজারে লোকজন তাকে নিয়ে নানাধরনের কথাবার্তা বলে। গ্রাম্য লোকদের এই একটা বদ অভ্যাস, কারো কোন দোষ পেলেই হলো। সেটা নিয়ে সমালোচনা না করলে যেন তাদের পেটের ভাত হজম হতেই চায়না!

    ফাহাদ কারো সমালোচনার ধার ধারেনা। সে চলে তার নিজ গতিপথে। যাইহোক, বাবলু মামার দোকান থেকে একটা স্টার সিগারেট নিয়ে আগুন ধরিয়ে হাঁটা শুরু করল গন্তব্যহীনভাবে।সিগারেট ফুঁকছে আর কাশছে। আজ চাঁদটাও কেমন জ্বলজ্বল করছে, মিটিমিটি তারকা জ্বলছে বিশাল আকাশে। রাস্তার দু’ধারের কাশফুলগুলো কেমন সটান দাঁড়িয়ে আছে! একটুও নড়ছে না। আজ চাঁদটা জ্বলজ্বল করলেও বিন্দুমাত্র মৃদু বাতাস নেই। তাই, ফাহাদেরও ভালো লাগছে না। এইতো ক’দিন হলো। ফারিয়ার সাথে রিলেশন ব্রেকআপ! তারপর থেকে তার সময়গুলো অতিবাহিত হয় নিশি জাগা ঝিঝিপোকার গান শুনে আর জোনাকিপোকার রহস্যময় আলোকরশ্মি দেখে। কখনো মুগ্ধ বিমোহিত হয় ফাহাদ, আবার কখনো শুকরিয়া আদায় করে মহান প্রভুর নিকট।

    রাত ১ টা বেজে গেছে। এটা তার কাছে নতুন নয়। রীতিমতো রুটিনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু, আজ কেমন যেন মনের ভেতর এক ভয়পাওয়া আশঙ্কা কাজ করছে। ফাহাদ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল কি করবে এখন ও! বাড়িতে যেতে আরও অনেক পথ বাকি। গত সপ্তাহ্ এই এলাকায় একটা খুন হয়েছে। কে খুন করেছে? তার সঠিক সন্ধান পুলিশ এখনো পায়নি। তাই, গভীর রাতে কাউকে চলাচল করতে দেখলেই সন্দেহ করে ধরে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। গত সপ্তাহ ফাহাদের বন্ধু ফাহিমকেও পুলিশ ধরে নিয়ে গেছিল। তাকে ছাড়াতে যে কত ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে! তার কোন ইয়ত্তা নেই। এসব ভাবনাচিন্তা তাকে আরো দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে ফেলে।

    দূর থেকে দুটি লাইটের তীব্র আলো তার দিকে ধেয়ে আসছে। বুঝা যাচ্ছে দু’জন লোক আসছে তার দিকে। ফাহাদের বুঝতে বাকী রইলনা যে এরা পুলিশের লোক। কিন্তু ফাহাদ বিচলিত হলনা। কারণ, ফাহাদ জানে সে নির্দোষ! কোন দোষ করেনি। পুলিশ দু’জন এসে তাকে অদ্ভুত সব প্রশ্ন করতে লাগল। তুই কে? তোর বাড়ি কোথায়? এতো রাতে এখানে কী করিস?

    ফাহাদ আমতাআমতা করে কিছু বলতে চাচ্ছিল। কিন্তু, বড় গোঁফওয়ালা পুলিশটা তাকে কিছু বলার সুযোগ দিলনা। খপ করে ফাহাদের হাত ধরে ফেলল। রাস্তার কিনারে পার্ক পুলিশের গাড়িটিতে ঢুকানো হল ফাহাদকে। ফাহাদ এখনো বিস্মিত! কিছু বুঝে উঠতে পারছেনা সে। কেন তাকে ধরা হল, আর কেনইবা তাকে অদ্ভুত সব প্রশ্ন করছে!
    ফাহাদ মনেমনে রাগে ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে যাচ্ছে। বড় গোঁফওয়ালা পুলিশটা বারবার ফাহাদের দিকে কেমন টেরা চোখে তাকাচ্ছে!

Facebook Comments