Monday, January 17, 2022
Home > Uncategorized > হামহাম জলপ্রপাত কখন ও কীভাবে যাবেন

হামহাম জলপ্রপাত কখন ও কীভাবে যাবেন

Spread the love

অক্ষরবিডি ডটকম : মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কুরমা বন বিট এলাকায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত বা ঝরনা। এটি ২০১০ সালে পর্যটন গাইড শ্যামল দেববর্মার সাথে দুর্গম জঙ্গলে ঘোরা একদল পর্যটক আবিষ্কার করেন। দুর্গম গভীর জঙ্গলে এই ঝরনাটি ১৩৫, মতান্তরে ১৪৭ কিংবা ১৬০ ফুট উঁচু। কেউ কেউ ঝরনার সাথে গোসলের সম্পর্ক রেখে ‘হাম্মাম’ (গোসলখানা) শব্দ থেকে ‘হামহাম’ হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন।

হামহাম নামের উৎপত্তি : হাম হাম ঝরণায় এপর্যন্ত (নভেম্বর ২০১১) গবেষকদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। সাধারণ পর্যটকেরা ঝরণাটির নামকরণ সম্পর্কে তাই বিভিন্ন অভিমত দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ মনে করেন, সিলেটি উপভাষায় ‘আ-ম আ-ম’ বলে বোঝানো হয় পানির তীব্র শব্দকে, আর ঝরনা যেহেতু সেরকমই শব্দ করে, তাই সেখান থেকেই শহুরে পর্যটকদের ভাষান্তরে তা ‘হামহাম’ হিসেবে প্রসিদ্ধি পায়। তবে স্থানীয়দের কাছে এটি ‘চিতা ঝরনা’ হিসেবে পরিচিত, কেননা একসময় এ জঙ্গলে নাকি চিতাবাঘের দেখা মিলতো।

যেভাবে যাবেন : ট্রেনে শ্রেণীভেদে ভাড়া। আর নন-এসি বাসে ৪৮০ টাকা শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত। সেখান থেকে জিপ রিজার্ভ করে গেলে ভালো, ভাড়া ২৫০০-৩০০০ টাকা। কলাবনপাড়া বা তার আগের বাজারগুলো থেকেই গাইড পাওয়া যায় ৫০০-৬০০ টাকায়।

প্রস্তুতি : অনভিজ্ঞরা কলাবনপাড়া থেকে বাঁশের লাঠি কিনবেন, ট্রেকিং সহজ হবে, তাছাড়া দরিদ্র মুণ্ডা পরিবারগুলোও সহায়তা পায় কিছু হলেও। ট্রেকিংয়ে সবসময় জার্সি ভালো, সুতি কাপড় ঘেমে লেপ্টে যায় শরীরে, হাফপ্যান্ট পরা ভালো, ফুলপ্যান্ট পরলে জোঁকের উপস্থিতি টের পাওয়া কঠিন। এক সেট কাপড় বাড়তি রাখা ভালো। যে বাড়িতে ব্যাগ বোচকা রাখবেন, সেখানে টাকা-পয়সা, মোবাইল, ক্যামেরা না রেখে সাথে রাখাই ভালো, রেখে গেলেও ক্ষতি নেই। যথেষ্ট সুপেয় পানি রাখতে হবে ও শুকনো খাবার। জোঁকের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কেরোসিন হাতে পায়ে গায়ে মেখে নিবেন।

কখন যাবেন : বর্ষায় গেলে পূর্ণ যৌবনা ঝিরি ও ঝনার দেখা পাবেন। বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে ছাতা-রেইনকোট রাখবেন সাথে। পলিব্যাগ রাখবেন।

কী দেখবেন : শ্রীমঙ্গল থেকে কলাবনপাড়া অবধি চা বাগান, আনারস বাগান, লাউয়াছড়ার কিছু অংশ, স্থানীয় সরল মানুষ, বিশেষ করে মুণ্ডা আদিবাসীদের সহজ-সরল জীবন যাপন, হামহাম ট্রেইল, বনবৈচিত্র্য, স্নিগ্ধ ঝিরি, অনিন্দ্য ঝরনা।

কী খাবেন : ট্রেকিং শুরুর আগে যে বাড়িতে ব্যাগ রাখবেন, সেখানেই খাবারের ব্যবস্থা হয়, অবশ্য সব বাড়িতে খাবারের ব্যবস্থা নেই। মূলত যে দোকানে খাবেন কলাবনপাড়ায় তাদের বললেই ব্যাগ রাখার ও কাপড় বদলানোর ব্যবস্থা করে দিবে। অর্ডার দিয়ে রাখলে ট্রেকিং শেষ করে এসে খাবার পেয়ে যাবেন; ভাত, সবজি, ডাল, মুরগি-হাঁস খেলে ১৫০-১৬০ টাকা নিবে।

কই থাকবেন : কলাবনপাড়াতেই কয়েকটি বাড়িতে চাইলে থাকা যায়। খুশি হয়ে যা দিবেন, তাতেই খুশি তবে তাতে যেন ন্যায্যতা নিশ্চিত হয়।

যা করবেন : স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবেন। গাইডকে, ড্রাইভারকে, লজিংয়ে খুশি হয়ে বেশি টাকা দিতে চাইলে বলে নিবেন যে, তাদের বেশি টাকা দেওয়া হচ্ছে খুশি হয়ে; তারা যেন অন্যদের কাছ থেকে এরকম বেশি টাকা না নেয়।

যা করবেন না : চলতি পথে তা যেখানেই হোক, চিৎকার করবেন না। অপচনশীল দ্রব্য যেখানে সেখানে না ফেলে সঙ্গে রাখবেন, শহরে এসে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবেন। ক্যামেরার চেয়ে চর্মচক্ষুকে বেশি গুরুত্ব দেবেন।

Facebook Comments