শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Home > Uncategorized > হাদিস বিশারদদের দৃষ্টিতে শবে বরাতের মর্যাদা

হাদিস বিশারদদের দৃষ্টিতে শবে বরাতের মর্যাদা

Spread the love

মাওলানা আবদুল্লাহ মাসরূর
আলেম, লেখক

হাদিস অধ্যয়নের উজ্জ্বল জ্যোতিস্ক , হাদিস বিষয়ের শাহ্ সাওয়ার ও সিংহশাবকগণ “শবে বরাত ” সংক্রান্ত হাদিস সম্পর্কে কে কি বলেন, তাদের অভিমত কি? নিম্নে তা উপস্থাপন করা হচ্ছে ।শা’বানের পনেরোতম রাত্রি সম্পর্কে হাদিসে কি বলা হয়েছে তা উল্লেখ করছি ।
আসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবুবকর তাঁর পিতার সনদে দাদা হযরত আবুবকর রাঃ থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবুবকর সিদ্দিক রাঃ ফারমায়েছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : আল্লাহ তা’আলা শাবানের পনেরোতম রাত্রে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং সকল পাপী যারা ক্ষমা প্রার্থনা করে তাদেরকে ক্ষমা করে দেন । তবে মুশরিক ও হিংসুক কে ক্ষমা করেন না ।(বায়হাকি ফি শুয়াবিল ঈমান )

হাদিসে দুটো শব্দ এসেছে “মুশরিক ও মুশহিন” অর্থাৎ মুশরিক ও হিংসাপরায়ণ ।হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল ,আবুসালামা আলখুশানি, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, আবুমূসা আশ’আরি , আবুহুরায়রা, আবুবকর সিদ্দিক, আউফ ইবনে মালেক ও আয়শা সিদ্দিকা রাঃ সকলেই হাদিসটি বর্ণনা করছেন ।হাদিসবিদগণ উক্ত হাদিসের বর্ণনা কারীদেরকে “ছেক্বাহ” বিশ্বস্হ বলেছেন ।সহীহ্ ইবনে হিব্বান , আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব, খ, ০২ পৃঃ১১৮- মাজমাউল ফাওয়ায়িদ – খ: ৮, পৃঃ ৬৫, মুসনাদে বাযযার- খ ৮, পৃঃ ৬৭ )
বিশ্বখ্যাত হাদিস বিশারদ, প্রজ্ঞাসম্মৃদ্ব মনীষী “আল্লামাতুশ্ শাম” নাসীরুদ্দীন আলবানী রহঃ তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ “সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহীহা”তে আলোচিত হাদিসটি উল্লেখ করতঃ মন্তব্য করেছেন, সারকথা হচ্ছে হাদিসটি সহীহ বিশুদ্ধ ।বিশুদ্ধতার ব্যাপারে বিন্দু মাত্র সন্দেহ সংশয়ের অবকাশ নেই । অতএব যারা “শবে বরাত” সম্পর্কে আমল যোগ্য কোন হাদিস নেই বলে অহেতুক বিতর্ক করেন তাদের কথা অনির্ভরযোগ্য ও বর্জনীয় । সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহীহা, আলবানী, রুহবানুল লাইল , সাইয়েদ হুসাইন আফ্ ফানী, তাবরানী ফিল কাবীর )

হযরত আলী রাঃ থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : শা’বানের পনেরোতম রাত্রে জাগ্রত থাক এবং পরের দিন রোযা রাখ । কেননা পনেরোতম রাত্রে আল্লাহ তা’আলা সন্ধ্যা থেকে নিয়ে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন কেউ আছো কি? ক্ষমা প্রার্থনা কারী আমি তাকে ক্ষমা করে দিব, জীবিকার সন্ধানী কেউ কেউ আছো কি? আমি তাকে তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জীবিকা দান করব।কেউ কি বিপদ গ্রস্হ আছো? আমি তাকে বিপদ মুক্ত করব ।এ ভাবে আল্লাহ তা’আলা ঊষাকাল পর্যন্ত বান্দার চাহিদা পুরা করার জন্য জিজ্ঞাসা করতে থাকেন ।(মেশকাত শরীফ )

উল্লেখিত হাদিসের নিরিখে উপমহাদেশের স্বনামধন্য হাদিসব্যত্তা হযরত মাওলানা আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিসে দেহলভী রহঃ বলেন : আল্লাহ তা’আলার রহমত, বরকত, মাগফিরাতের অজস্র বারিধারা সাধারণতঃ প্রতি রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে সীমিত থাকে ।কিন্তু শা’বানের পনেরোতম রাতে আল্লাহর রহমতের সিন্ধু উপচে পড়ে। আল্লাহর অবতরণ শুধুমাত্র রাতের তৃতীয়াংশে সীমিত থাকে না ।বরং সন্ধ্যা থেকে নিয়ে প্রভাতের অরুণোদয় পর্যন্ত দুনিয়ার আকাশে স্হির থাকে । এ সকল কারণে পনেরোতম রাত বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ, পূণ্যময় ও ঐশ্বর্যমণ্ডিত ।সে রাতে আল্লাহ তা’আলার স্ফীত রহমত, সন্তুষ্টি, অনিমেশ ভাবে বান্দার প্রতি উতলে উঠে ।বিধায় সেই মাহেন্দ্রক্ষণের মূল্যায়ন করে বান্দা তার মা’বূদের এবাদতে আত্মনিবিষ্ট থাকবে । এবাদতের প্রতি ঐকান্তিক ভাবে মনোনিবেশ করে স্বীয় রিক্ত পুটলি রহমত, বরকত ও মাগফিরাত দ্বারা টইটুম্বুর করতে সদা প্রত্যয়ী ও উদ্যমী থাকবে এটাই বাঞ্চনীয় ।

হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ বলেন : একদা আমি রাসূল সাঃ- কে শয্যাঘরে না পেয়ে তাঁকে খুঁজতে বের হই ।রাসূল সাঃ কে আমি জান্নাতুলবকি তে দেখি, তিনি আকাশপানে তাকিয়ে কায়মনোবাক্যে মাওলার কাছে দুআ করছেন, রোনাজারি করছেন । আমাকে দেখে রাসূল সাঃ বলেন : হে আয়েশা (হুমায়রা) ! তোমার কি ভয় ও শংকা হচ্ছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাঃ তোমার উপর কোন নাহক্ব জুলুম করবেন? উম্মুলমুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ উত্তর দিলেন না, আমার এ ধরনের শংকা ও ভয় আদৌ নেই । তবে আপনি অন্যকোন ” আযওয়াযে মুতাহ্হারাতের ” হেরেমে গেলেন কি না, তা মনে করে খুঁজতে বের হলাম । রাসূল সাঃ আ’য়শা সিদ্দিকা রাঃ কে বলেন : শা’বানের পনেরোতম রাতে আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং “কালব” গোত্রের মেষপালের পশমের সমান লোকদিগকে ক্ষমা করে দেন । পশমের সমান বলে এখানে আধিক্য বুঝাচ্ছেন ।তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মেশকাত শরীফ ) ।

Facebook Comments