শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Home > ইসলাম > হাদিসের আলোকে শবেবরাত, করণীয় ও বর্জনীয়

হাদিসের আলোকে শবেবরাত, করণীয় ও বর্জনীয়

Spread the love

মাওলানা আবদুল্লাহ মাসরূর
আলেম, লেখক

মহান রাব্বুল আলামীন মানব জাতির আমলি উৎকর্ষতার জন্য, স্হান, কাল ও যুগ হিসেবে অনেক বরকতময় দিবস রজনী দান করেছেন । আমলে পিছিয়ে পড়া বান্দাকে সফলতার রাজতোরণে প্রবেশ করার সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছেন।

এবাদতের এ উর্বর মওসুমকে যদি বান্দা এখলাস ও ঐকান্তিকতার সাথে কাজে লাগায় তাহলে সামান্য সাধনা দ্বারা প্রভূত নেকী লাভ করতে সক্ষম হবে ।তার জীবনের অপরাধ ও অবাধ্যতার অনলে দগ্ধ, কুৎসিত আমল সমূহ শান্তি – সওগাতের বারিধারায় স্নাত হবে ।ফলে সে অর্জন করবে আল্লাহ্তা’য়ালার মহাসন্তুষ্টি ও মহার্ঘ জান্নাত ।আত্মিক পরিশুদ্ধিতার অপার্থিব সুবর্ণ সুযোগ আমাদের সামনে সমাসন্ন ।আর তা হচ্ছে “লাইলাতুন্ নিসফি মিন শা’বান” বা শবে বরাত ।স্বর্ণ প্রসবা শবে বরাতের তাৎপর্য, করণীয় ও বর্জনীয় কি? সেই প্রামাণিক বিষয়াদি নিয়ে আজকের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস ।

দুটি মৌলিক বিষয় সম্পর্কে আমাদের অবহিত হওয়া একান্ত প্রয়োজন। এক, পনেরো শা’বান অর্থাৎ শবে বরাতের বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্ব । দুই শবে বরাতে (শা’বান মাসের পনেরোতম রাত্রি) জাগরণ ও পর দিন রোযা রাখার শরয়ী বিধান সংক্ষিপ্ত পরিসরে পয়েন্ট দুটো নিয়ে আলোচনা করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ!

প্রথমে ভাবতে হবে আমাদের যে “শবে বরাত ” শব্দের অর্থ কি? বাক্যটি মূলত দু’টি ফার্সি শব্দ দ্বারা গঠিত । ‘শব’ অর্থ রাত্র ,” বরাত” অর্থ মুক্তি ।অর্থাৎ মুক্তির রাত্র ।এই রজনীতে এবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা করা যায় ।তাই উক্ত রাত কে “শবে বরাত ” বা মুক্তির রজনী বলা হয় । কুরআনে কারীমের মধ্যে উক্ত পরিভাষার সরাসরি বিশুদ্ধ কোন প্রমাণ না থাকলেও হাদিসের পরিভাষায় এ রাত্রকে “লাইলাতুন্ নিসফি মিন শা’বান ” (শা’বান মাসের পনেরোতম রাত্রি বা “শবে বরাত ” বলা হয় ।”বারাআত ” ফার্সি শব্দ অর্থ জাহান্নাম থেকে মুক্তি, আর “বরাত ” হিন্দি শব্দ অর্থ হচ্ছে ‘বরযাত্রী, হালজামানায় “শবে বরাতের” আনুষ্ঠানিকতা দেখলে মনে হয় শব্দটি তার মূল রূপ ও আবেদন থেকে রূপান্তরিত হয়ে বিকৃত অর্থ “বরযাত্রী” এর অপসংস্কৃতির রূপ পরিগ্রহ করেছে । “লাইলাতুন্ নিসফি মিন শা’বান ” এর শিক্ষা থেকে সরে গিয়ে উক্ত রাত্রকে বিয়ে শাদী ও নানাবিধ উৎসবের রাত্রিতে পরিনত করা হয়েছে যেটা আদৌ কাম্য নয় । বক্ষমান নিবন্ধে হাদিস ও উসূলে হাদিসের আলোকে উক্ত রাত্রের তাৎপর্য পেশ করা হবে । ইনশাআল্লাহ!

“শবে বরাত” নিয়ে দু, ধরনের প্রান্তিকতা পরিলক্ষিত হয় ।এক, যারা অধিক উদ্দীপ্ত হওয়ার কারণে সীমালংগন করেছেন, ফলে অনেক বেদআ’ত , খুরাফাত , অপসংস্কৃতির মধ্যে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ।দুই, যারা একেবারেই বিমূখ , এবাদাত থেকে গাফিল , বরকতময় এ রজনীকে তোয়াক্কাই করেন না। উভয় দলের মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা অতীব জরুরী ।

Facebook Comments