শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Home > গল্প > স্বপ্ন ভাঙ্গার গল্প ~ তালহা জারীর

স্বপ্ন ভাঙ্গার গল্প ~ তালহা জারীর

Spread the love
আমি সাথে সাথে বিছানা থেকে নেমে আম্মুর কাছে গেলাম। দেখি আম্মু’র পাশে একটা বাবু শুয়ে আছে। চেহারায় প্রশান্তির অপরুপ ছোঁয়া। সে জীবিত নেই। দুনিয়ার রূপ দেখে ওঠার সৌভাগ্য তার হয়নি। বিধাতার এমন করুণ ইচ্ছায় সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলো।
আম্মু এখনও অজ্ঞান। আমি আম্মুর কপালে হাত রাখতেই আম্মু জ্ঞান ফিরে পেলেন। আম্মু আমাকে দেখেই আমার কপালে চুমু খেয়ে আমার বুকে মুখ গুঁজে কাঁদতে শুরু করলেন। বুক ফাটা আর্তনাদে আমার বুক ভারি হয়ে যাচ্ছিলো। আমি আর নিতে পারছিলাম না। আমারও বুক ফেটে কান্না আসলো। তাও আমি আম্মুকে সান্তনা দেয়ার জন্য কান্না আটকিয়ে রাখছিলাম।
আহারে মা! মায়ের মন কি আর বুঝে! মা আবারো জ্ঞান হারালেন। আমার বাবা বেশি কাঁদেননি। পুরুষদের অসাধারণ একটা সহ্যক্ষমতা থাকে।
বাবুকে গোসল করানো শেষ। এখন দাফন হবে। কিন্তু মা -এখনও জ্ঞান ফিরে পাননি। শত চেষ্টা করেও মাকে জাগাতে পারিনি। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরে মার জ্ঞান ফিরে এলো। মা বাবুকে কোলে জড়িয়ে নিয়ে আবারো কাঁদলেন। অসম্ভব কষ্টের কান্না। বাবুকে নিয়ে নেয়া হলো মায়ের কাছ থেকে। দাফনের আগে আব্বু বাবুকে বুকে নিয়ে দু’ফোঁটা অশ্রু ঝরালেন। আর আল্লাহ্’র কাছে দোয়া করলেন।
অবশেষে দাফন সম্পন্ন হলো। আমার মা -এখন হাসতে ভুলে গেছেন। সারাদিন কেঁদেকেটে অস্থির হয়ে থাকেন। মায়ের মন বলে কথা। মায়ের কষ্ট কে বুঝবে এ জগতে? মা ই বুঝেন মায়ের কষ্ট। আমার অন্য ভাই বোনদের জন্মের পরে বাবা মার্কেটে গিয়ে বাবুর জন্য কতো কিছু নিয়ে আসতেন। আর আজকে বাবু নেই। তাও দেখি আব্বু মার্কেটে গিয়ে আমাদের জন্য কতো কিছু নিয়ে আসেন। কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করেন। বাবারা আসলেই খুব মহান।
আজ প্রায় দু’মাস হলো বাবু মারা যাওয়ার। আম্মু এখনো কাঁদেন। আমরা নিজেদেরকে সান্ত্বনা দেই। আব্বু মার্কেটে মার্কেটে ঘুরে ঘুরে আমাদের জন্য কতো কিছু কিনেন। আমরা এখনও স্বাভাবিক হতে পারিনি। একটা স্বপ্নের মৃত্যুতে আজো সবাই মারাত্মকভাবে শোকাহত। বেদনাময় যন্ত্রণার আঁধারে ডুবন্ত
Facebook Comments