Home > সুফলা বাংলা > সম্ভাবনার নাম ড্রাগন ফল

সম্ভাবনার নাম ড্রাগন ফল

Spread the love

কাজী লীনা : ড্রাগন  ফল যার আরেক নাম পিতায়্যা, কয়েক দশক আগেও এত বেশি প্রচলিত বা জনপ্রিয় ছিল না। তবে দৃশ্যপট বদলে গেছে। অপরিচয়ের ঘোমটা খুলতে শুরু করেছে জোরেশোরেই। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে এর যাত্রা শুরু হয়ে এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন অঞ্চলে। শুরুতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে চাষ শুরু হলেও ক্রমে তা কৃষকদের মাঝে আলোড়ন তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে। কৃষিবিভাগের উদ্যোগে ফলটিকে জনপ্রিয় করার জন্য প্রাথমিকভাবে দিনাজপুরের ১৪জন কৃষক, পঞ্চগড়ের ৪ জন, ঠাকুরগাঁওয়ের ২ জন এবং নীলফামারীর ১জন কৃষককে উৎসাহিত করার মাধ্যমে এই ফলের চাষ শুরু হয়। প্রত্যেকেই ফসলী জমিতে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি ৮০ টি করে চারা রোপণ করেন।

২০১৩ সালের শুরুর দিকে রোপণ করা গাছগুলোতে ২০১৪ সালের শুরুর দিকেই ফুল আসে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল গাছগুলোকে আলাদা করে একটা শক্ত লাঠির সাথে বেঁধে দেয়া হয় যাতে এগুলো ঠিকমত দাঁড়াতে পারে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সবচেয়ে বাগানটি অবস্থিত সাভারে।

ড্রাগন ফল মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় উৎপাদিত হয়। ড্রাগন ফলের জন্মস্থান দক্ষিণ আমেরিকায়, প্রায় ১০০ বছর আগে জনৈক ব্যক্তি এর বীজ ভিয়েতনামে নিয়ে আসে। পরে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মায়ানমারে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়। থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা ও ভিয়েতনামের মত দেশগুলোতে এগুলোর চাহিদা বেশি হওয়ায় দামও বেশি।

প্রচুর সূর্যের আলো সম্বলিত স্থান ড্রাগন চাষের জন্য আদর্শ।প্রতিবছর মে থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে ফল পাওয়া যায়। ফলগুলো প্রায় দুই মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। একেকটা গাছ ৪০-৫০ বছর অবধি ফল প্রদানে সক্ষম। রোগবালাইয়ের প্রকোপ কম হওয়ায় এই ফলের চাষ কম শ্রমসাপেক্ষ। উপযুক্ত আবহাওয়ায় গাছ নিজেই বাতাস থেকে তার ৫০ শতাংশ খাদ্য সংগ্রহ করে নিতে পারে। বাকীটুকু জৈবসার, পানি ইত্যাদি থেকে নেয়।
চাররকম ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। গ্রীষ্মপ্রধান দেশে এর উৎপাদন ভাল হওয়ায় সবরকম ড্রাগন ফল এদেশের মাটিতে ফলানো সম্ভব। বলে রাখা ভাল যে ফলটি কাঁচা, পাকা দুইভাবেই খাওয়া যায়।

বিশ্বব্যাপী ড্রাগন ফলের এত চাহিদার কারণ হিসেবে নিঃসন্দেহে এর স্বাদ এবং গুণাগুণকে দায়ী করা যায়। তাহলে
এর গুণাগুণ সম্পর্কেও কিছু জেনে নেয়া যাক। ভিটামিন সি, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ফাইবার এবং এন্টিঅক্সিডেন্টের বেশ ভালরকম উপস্থিতি পাওয়া যাবে এতে। ডায়াবেটিস প্রশমনে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে এর কোন জুড়ি নেই। অ্যাজমা ও আর্থাইটিস প্রতিরোধের একটি কার্যকরী খাবার এটি। কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে বেশ শক্তিশালী।
বিশ্বব্যাপী চাহিদার দরুন একে বলা হচ্ছে, ‘আগামীর ফল’। সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশও ড্রাগন ফলের ভক্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই সুপারশপ আর অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে এটি চলে এসেছে জনসাধারণের নাগালে। আপনি চাইলেই ফলের দোকানগুলো থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। বাইরের থেকে আমদানীকৃত ফলের চেয়ে আমাদের দেশীয় ফল আকারে ছোট হলেও স্বাদে এগিয়ে আছে। ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকায় প্রথম সারির অর্থনৈতিক ফসলের গোত্রভুক্ত হতে বুঝি বেশি দেরি নেই। বার্তা পাওয়া যাচ্ছে কি?

Facebook Comments