বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২
Home > ভ্রমণ > সমুদ্র জলে ক’জন মুসাফির পর্ব-২

সমুদ্র জলে ক’জন মুসাফির পর্ব-২

Spread the love

আতিক ফারুক: যাইহোক, আমাদের প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল মুহাম্মদপুরে একত্রিত হয়ে কমলাপুর রেল ষ্টেশনে যাওয়া। কিন্তু ভাই নাজমুল ফারুকের একটি আবদারে আমাদের সিদ্ধান্তটা বাদ দিয়ে অবশেষে তারটাই মেনে নিলাম। নাজমুল ভাই আমাকে বললেন যে, আতিক, তুই তো কমলাপুরই যাবি। তাহলে আমার সাথে খিঁলগাও চল, সেখান থেকে কমলাপুর তো অনেক কাছে। আমার বড় ভাইয়ের শ্বশুরালয় খিলগাঁও। প্রথমে অসম্মতি জানাতে চাইলেও পরক্ষণে আবার কী ভেবে যেন রাজি হয়ে গেলাম। কমলাপুর যেহেতু খিলগাঁও থেকে কাছেই, গেলে ভালই হয়। তারপর খিলগাঁও এর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি। ঐদিকে ফাহিম আর ফজলে রাব্বিকে ফোন দিয়ে বললাম, আমি তো খিলগাঁও যাচ্ছি বড় ভাইয়ের সাথে, তোমরা বিকেল ৫ টার মধ্যে কমলাপুর চলে এসো। আমি তোমাদের জন্য অপেক্ষা করব। অতপর সকাল ১০ টা নাগাত রওনা হলাম খিলগাঁও নন্দীপাড়ার উদ্দেশে। জানযটে আটকা পরে পৌছতে পৌছতে প্রায় ১ টা বেজে গেল। সেদিন ছিল শুক্রবার। তাই কালবিলম্ব না করে গাড়ি থেকে নেমেই মসজিদে ছুটে চললাম জুম’আয় শরীক হওয়ার জন্য। নামাজ শেষে বড় ভাইয়ের পিছুপিছু যেতে লাগলাম তালই মশাইয়ের বাড়ির দিকে। আমার তালই অর্থাৎ, বড় ভাইয়ের শ্বশুর। রবিউল মিঁয়া খুব উদার মনের মানুষ, আমাকে নিজের ছেলের চোখেই দেখেন। ভাইয়ার শ্বশুরালয়ে দুপুরের জম্পেশ ভোজন শেষে ক্লান্ত-শ্রান্ত শরীরটাকে নরম বিছানার এলিয়ে দিলাম। নিমিষেই চোখোর পাতা বুজে এলো। ঠিক কতক্ষণ ঘুমিয়েছিলাম বলতে পাররব না। আচমকা বড় ভাইয়ার ডাকে ঘুম ভাঙল। চোখ কচলাতে কচলাতে ঘড়ির দিকে তাকাতেই আতকে উঠলাম! ওমা! ৫ টা বেজে গেছে! অথচ আমারই ৫ টায় কমলাপুরে থাকার কথা। তারপর তাড়াহুড়ো করে ব্যাগ গুছিয়ে বেরুবার উদ্যেশ্যে পা বাড়াতেই পেছন থেকে বড় ভাই ডেকে বলল, দীর্ঘ সফর রাতে খাবারের জন্য কিছু নিয়ে যা। আমি ঈষৎ হেসে বললাম নাহ্! কিছু লাগবেনা। আমি ষ্টেশন থেকে কিছু কিনে নিব। তারপর রাস্তায় তীব্র জানযটের কারণে আধা ঘন্টার পরিবর্তে ১ ঘন্টা সময় লেগে গেল। কিন্তু ফাহিম আর ফজলে রাব্বির কোন নাম গন্ধও নেই। পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে ফাহিমকে কল করলাম। সালাম বিনিময়ের পর জানতে চাইলাম কোথায় আছে। ওপাশ থেকে তার প্রতিউত্তরে মেজাজাটাই বিগড়ে গেল। সে বলল, এখনো মুহাম্মাদপুরে আছি। আমি আর কথা না বাড়িয়ে মেজাজটা ঠান্ডা করে বিনয়ের স্বরে বললাম, আচ্ছা তাড়াতাড়ি আসো। আমি জানি সন্ধ্যার পর ব্যস্ত ঢাকাআরো ব্যস্ত হয়ে ওঠে। কমলাপুর পৌছতে ওদের আরও কম করে হলেও ২ ঘন্টা সময় লাগবে। বিষন্ন মন নিয়ে মেঘঢাকা চাঁদের ঘোলাটে আলোর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। নাহ্! তাও ভাল্লাগছে না! ষ্টেশনের অনতিদূরেই কিছু বইয়ের দোকান দেখতে পেলাম। সেদিকেই পা বাড়ালাম। কাছে গিয়ে বিভিন্ন বইয়ের মলাটে চোখ বুলালাম। নাহ্! মনের মত বইও পাচ্ছিনা। এভাবেই কেটে গেল প্রায় দেড় ঘন্টা,,!

Facebook Comments