Sunday, January 16, 2022
Home > ভ্রমণ >  সমুদ্রজলে ক’জন মুসাফির – পর্ব-১

 সমুদ্রজলে ক’জন মুসাফির – পর্ব-১

Spread the love

আতিক ফারুক: শৈশব থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের প্রবল আগ্রহ লালন করে আসছি। কিন্তু, বয়সের সীমাবদ্ধতার কারণে বাড়ি থেকে বের হওয়ার অনুমতি ছিল না। ঢাকা সাভারের শ্যামলাপুর-নামক একটি ছোট্ট গ্রামে আমাদের বসবাস। বাড়ি থেকে মাদরাসা আর মাদরাসা থেকে বাড়ি, এই ছিল আমার সফরের সীমাবদ্ধ ক্ষেত্র।

এখন তো বড় হয়েছি, ১৯ বছর বয়সে পদার্পণ করেছি। বুঝতে শিখেছি, স্বাধীনভাবে চলতে শিখেছি। হঠাৎ একদিন ফাহিমের ফোন। রিসিভ করতেই সে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলল, আতিক! কক্সবাজার যাবে? আমিও সঙ্গে সঙ্গে সায় দিয়ে বলে উঠলাম, হ্যাঁ! অবশ্যই। কবে যাচ্ছ?

এইতো প্রথম সাময়িক পরীক্ষার বন্ধে।

আর কে কে যাবে আমাদের সাথে?

ফজলে রাব্বি, মোশাররফ ভাই, তুমি আর আমি। মেশাররফ ভাইয়ের পরামর্শক্রমেই আমরা শিডিউল করেছি।

আমি বললাম, যাক ভালোই হল। এবার তা হলে ঘরের কোণা থেকে বের হয়ে এই সুন্দর পৃথিবীটাকে দেখতে পাব!

ফাহিম হেসে বলল, আমরা চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যাব। আমি বললাম ওহ্! তা হলে তো আরো ভালো হবে, সীতাকুণ্ড পাহাড় দেখে যেতে পারব।

মোবাইল রেখে খানিকটা চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ যাচ্ছে। এই মুহূর্তে সফরে গেলে আনুমানিক ৬/৭ হাজার টাকা দরকার। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই সাত হাজারই অনেক কিছু! আল্লাহর ওপর ভরসা করে সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে সফরে যাওয়ার বিষয়ে নিজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম।

কুরবানির আগে থেকেই সফরে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এই সফরের আমির আমাদের শ্রদ্ধেয় বড় ভাই মোশাররফ মাহমুদ। আমাদের প্রথম গন্তব্য হচ্ছে চিটাগাং সন্দ্বীপ কালাপানিয়া ইউনিয়নে। সেখানকার এক কওমি মাদরাসায় আজিজ ভাই শিক্ষকতা করেন হিফজ বিভাগে। আজিজ ভাই আমাদের সাথে দারুল ইনআমে প্রথম বর্ষে পড়েছিলেন। বিভিন্ন কারণে এবং নানাবিধ প্রয়োজনে এখন তিনি থাকেন সন্দ্বীপে।

প্রথম সাময়িক পরীক্ষার খেয়ার চলছে। শয়নে স্বপনে শুধু দেখছি ঐ আকাশছোঁয়া পাহাড়সারি আর সমুদ্রের বুকে দাপিয়ে বেড়ানো প্রবল উল্লাসে ছুটে আসা উত্তাল ঢেউরাশি।

এর আগে সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচটি জেলায় সফর করতে পেরেছি। সবগুলোই ছিল পারিবারিক সফর। এবারই প্রথম বন্ধুদের সঙ্গে যাচ্ছি। লাফালাফি ঝাঁপাঝাঁপি আর আনন্দ উল্লাসের পরিমাণ কল্পনা করে দারুণ উচ্ছ্বসিত হচ্ছি।

অপেক্ষার প্রহর গুনতে শুরু করলাম। দেখতে দেখতে সময় চলে এল।

২০১৬ সাল ১২ই ডিসেম্বর। জামাকাপড় আর প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রে ব্যাগ ভারী করে রেখেছি বৃহস্পতিবার বিকেলেই। এখন উড়াল দেয়ার পালা…!

 

চলবে…

Facebook Comments