Monday, January 17, 2022
Home > সংবাদ > সমকামিতা ভারতীয় সভ্যতা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালচারের বিপরিত

সমকামিতা ভারতীয় সভ্যতা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালচারের বিপরিত

Spread the love

অক্ষর ডেস্ক : ভারতের সুপ্রিমকার্টে সমকামিতা বৈধতার পক্ষের রায়ের তুমুল সমালোচনা করেই চলছেন দারুল উলুম দেওবন্দের উলামায়ে কেরাম ও জমিয়তে উলামা হিন্দ।

১. ভারতের বিখ্যাত ইলমি প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতী আবুল কাসেম নোমানী সুপ্রিমকার্টে সমকামিতা বৈধতার রায়ের বিরোধিতা করে বলেছন, সব ধর্ম এবং প্রত্যেক ধর্মাচারে সমকামিতাকে বৈধতা দেয় না। আখলাকি এবং চিন্তাগত দিক দিয়েও এটি অপছন্দনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য।

আবুল কাসেম নোমানী বলেন, এখনো আদালতের কপি হাতে পাইনি। তাই এখনই কিছু বলতে পারছি না। কারণ আদালতের রায়ের কপি আমাদের হাতে এখনো পৌঁছেনি। গণমাধ্যমের খবরে যতটুকু জেনেছি তাতে প্রতীয়মান হয় যে, এটা এই উপমহাদেশের জন্য খুবই বেমানান, অগ্রহণযোগ্য এবং ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত।

দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতী আবুল কাসেম নোমানী আইনী লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভারতের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং দায়িত্বশীলদের সমকামিতা বৈধতার রায়ের বিষয়ে আইনীভাবে লড়তে হবে।

২. সমকামিতা বৈধতা রায়ের সমালোচনা করে জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল সাইয়্যিদ মাওলানা মাহমুদ বলেছেন, ভারতীয় সভ্যতা, কৃষ্টি-কালচার এবং জাতীয় যে কোনও মতাদর্শেরই বিরোধী সমকামিতা। আমাদের সমাজ সবসময়ই এই যৌন অপরাধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে। এমন অবস্থায় আদালতের ‘সমকামিতা’ বৈধতা দেয়া একদমই অযৌক্তিক। এটা কীভাবে সম্ভব! যেখানে যৌনতা ও সহিংসতা প্রতিরোধে এতো আন্দোলন, এতো প্রতিবাদ। সেখানে সমকামিতার বৈধতা কীভাবে হয়ৎ?

বৃহস্পতিবার ভারতের গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মাওলানা মাহমুদ মাদানী এসব কথা বলেন।

মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, সমকামিতার ব্যপারে ২০১৩ সালে সুপ্রিমকোর্টের দেয়া রায়ের উপরই আদালতের স্থির থাকা উচিৎ ছিলো। যেখানে সমকামিতা আইনকে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত রাখা হয়েছিলো।

মাওলানা মাদানী প্রমাণ উল্লেখ করে বলেন, সমকামিতা প্রকৃতি ও স্বভাবতা বিরোধ অপ্রকৃতিস্থ অসুখী আচরণ। এতে সমাজে সহিংসতা ও অবাধযৌনতা বৃদ্ধি পাবে।

মৌলিক অধিকারে জায়গা তো নিশ্চিত করা আছে। কিন্তু এমন কর্মকাণ্ডে মানব সমাজ, পরিবার এবং মানব প্রজন্ম ও সভ্যতা চরমভাবে প্রভাবিত। সমকামিতাকে স্বাধীন করে এটিকে যাচাই করা সম্ভব নয়। সঠিকও নয়। অবশ্যই গুটি কতেক মানুষের পছন্দসই ইচ্ছাধীন একটি বিষয়কে ভিত্তি বানিয়ে একটি অনভিজ্ঞ ও নৈতিক সমস্যাকে পুরো সমাজের উপর চাপিয়ে দিতে পারেন না।

প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীতে এমনকিছু বিষয়াদি রয়েছে। যা যৌনতা ও সমকামিতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অসুস্থতা। কিন্তু চারও আসমানি কিতাবেই এটিকে আল্লাহ তায়ালা ও তার প্রদত্ত স্বভাবজ নিয়মের বিরুদ্ধ বলেই প্রকাশ করা হয়েছে।

মাওলানা মাদানী বলেন, জমিয়তে উলামা হিন্দ যুবসম্প্রদায়কে শুদ্ধতার কথা বলে। আর বাস্তবতাও এটিই যে যুবসম্প্রদায়ের সঠিক পরিচর্যা ছাড়া রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। কিন্তু সুপ্রিমকোর্টের এমন আইন অনুমোদনের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যেক বাবা-মা’ তাদের সন্তানদের ব্যাপারে শঙ্কিত। সন্তানদের স্বাভাবিক জীবনযাপন তথা যে কারো সাথেই তাদের চলাফেরা ও উঠাবসা নিয়ে পরস্পর সন্দেহপ্রবণ। যাতে বাচ্চাদের স্বাভাবিক জীবন প্রক্রিয়া চরমভাবে ক্ষুণ্ন হবে।

৩. সুপ্রিমকার্টে সমকামিতা বৈধতার পক্ষের রায়ের তুমুল সমালোচনা করে জমিয়তে উলামা হিন্দ মহারাষ্ট্রের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসিমী বলেছেন, পৃথিবীতে যত ধর্ম আছে কোন ধর্মেই সমকামিতার বৈধতা নেই। আর সমকামিতা ভারতীয় সভ্যতা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালচারের বিপরিত।

মাওলানা কাসিমী বলেন, ইসলামে সমকামিতা হারাম। হযরত লুত আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্প্রদায়কে আল্লাহ তাআলা সমকামিতার কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আর মানব সভ্যতার উন্নয়নে সমকামিতা একটি বড় অন্তরায়, এমনকি সমকামিতা মানুষের মনুষ্যত্ব এ আখলাকের বিপরিত।

গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসিমী বলেন, সমকামিতার বৈধতা দেয়া ভারতে সুপ্রিমকার্টের জন্য কলঙ্ক। মানবজাতি বেঁচে থাকার জন্যে সমকামিতা একটি বিপদজনক ব্যধি ও শারিরীক সুস্থতা ও স্বাস্থের জন্যে ক্ষতিকর। তাই পশ্চিমাদের কতক মানুষের দাবির উপর ভিত্তি করে সুপ্রিমকার্টে ভারতে সমকামিতার বৈধতা দিতে পারে না।

মাওলানা কাসিমী সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও ভারতের সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সুপ্রিমকার্টের সমকামিতার বিষয়টি পুনর্বিবচনে করে বৈধতার রায় যেন বাতিল করা হয়। কারণ এটা কোন ব্যক্তি বা গুষ্ঠির সমস্যা নয়, বরং ধর্ম, দেশ ও সামাজিক জীবন সম্পর্কিত সমস্যা।

৪. সমকামিতা বিষয়ে ৩৭৭ ধারা আইনে সুপ্রিমকোর্টের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সেক্রেটারি ও মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানি। তিনি বলেন, সমকামিতা প্রকৃতি ও স্বভাব বিরোধী। আর প্রকৃতি ও স্বভাবতার বিরুদ্ধাচরণ মানবসমাজের জন্য অকল্যাণকরই হয়। এমনি ওয়ার্ল্ড মেডিক্যাল সাইন্সও এ ব্যাপারে একই কথা বলে যে, সমকামিতা এইডসের মতো ভয়ঙ্কর রোগের প্রধাণ ও বড়ো কারণ। এছাড়াও আরো নানান রোগব্যাধি এই সমকামিতার কারণেই সংক্রামক হয়। চারিত্রিক অবক্ষয়েও এর প্রভাব খুবই ভয়াবহ। এমনকি পাশ্চাত্যের মতোই ভেঙে পড়বে বিবাহ বন্ধনে প্রভাব পড়বে। মোটকথা এই সমকামিতা সামগ্রিকভাবেই পুরো সামাজিক সিস্টেমের জন্যই হুমকিজনক।

বিশেষত মেয়েদের জন্য এটি একটি বড়ো সমস্যা। অনেক আগ থেকেই ভারতে অবিবাহিত মেয়েদের সংখ্যা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় সমকামিতার এ আইন অনুমোদন এক শ্রেণির মেয়েকে সারাজীবন সংসার ও সুন্দর জীবনযাপন করা থেকে বিরত রেখে অবৈধ পন্থায় আনন্দ লাভকেই যথেষ্ট বলে জানাবে।

এছাড়াও আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, ভারত এমন একটি দেশ যেখানে বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন মতাদর্শের লোকেরাই বসবাস। আর প্রত্যেক ধর্মের অধিকাংশ লোকই ধর্মে বিশ্বাসী । আর সমকামিতার মতো স্বভাববিরুদ্ধ কাজকে প্রত্যেক ধর্মের লোকেরাই নিতান্ত খারাপ জানে। মানুষ এটিকে গর্হিত কাজ মনে করে। তাই সমকামিতায় বিশ্বাসী গুটিকতক মানুষের চাওয়াকে সামগ্রিকভাবে ঘৃণিত মনে করা সবার বিরুদ্ধে গিয়ে বৈধতা দেয়া যৌক্তিক নয়। অল্পকিছু মানুষের ইচ্ছাধীন বিষয়ের উপর এমন ফায়সালা রাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষের বিরুদ্ধে যায়। তাই পার্লামেন্টের উচিৎ হবে সমকামিতা আইনের এ রায়কে উঠিয়ে নিয়ে রাষ্ট্রকে সুশৃঙ্খল ও সুন্দরের দিকে নিয়ে যাওয়া।

সূত্র : ডেইলি পত্রিকা, ভারত।

Facebook Comments