Wednesday, January 19, 2022
Home > ফিচার > সফল হতে হলে যা প্রয়োজন

সফল হতে হলে যা প্রয়োজন

Spread the love

কাজী লীনা :  কেউ কেউ মনে করেন, বিজয়ী হতে হলে প্রতিভা থাকতে হয়, আবার কেউ কেউ মনে করেন, বিজয়ী হতে হলে পরিশ্রম করতে হয়। যে যেভাবেই বলুক না কেনো, বিজয়ীদের আছে অনন্য কিছু গুণাবলি থাকে যা অন্যদের থেকে তাঁদের আলাদা করে। এই গুণগুলো তাঁদের অভ্যাস ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থেকে উদ্ভূত। একজন বিজয়ী আর বিজেতার মধ্যে এইসব গুণগুলোই গড়ে দেয় পার্থক্য। বিজয়ী হতে চাইলে তাঁদের সফলতার কারণ সম্পর্কে জানতে হবে আর সেই অনুযায়ী করতে হবে অনুশীলন। আপনি নিশ্চয়ই জানতে চান সফল ব্যক্তিদের গুণাবলি সম্পর্কে।

সততাঃ
সফল ব্যক্তিরা কখনো ভাগ্যের দানের জন্য বসে না, তাঁরা দৈবেও বিশ্বাস করেন না। নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ার পক্ষে সবসময় লেগে থাকেন। সততার সাথে লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বাস নিয়ে পরিশ্রম করে যান নিরন্তর। আর দিনশেষে ঠিকই সাফল্যের হাসিটাই হাসেন।

প্রাপ্যটুকু প্রদানঃ
মানুষ কিন্তু একজন বিজয়ীর চেহারা বা প্রতিভাকে শ্রদ্ধা করে না। তিনি যে বিষয়টি তুলে ধরতে চান, সেটিকেই শ্রদ্ধা করেন।আর সেই চাওয়াটিকে তুলে ধরার জন্য যেখানে যতোটুকু মূল্য দেয়া প্রয়োজন ততোটুকুই দেন।

মানসিক স্থিরতাঃ
বিজয়ীর অন্যতম একটি গুণ হলো মানসিক স্থিরতা। বিপদে মাথা ঠাণ্ডা রাখার অসীম ক্ষমতা না থাকলে সফল হওয়া যায় না। ধৈর্য কিন্তু অর্জন করে নিতে হয়, এটা প্রতিভার কোনো বিষয় নয়। স্থিরতা থাকলে সুচারুরূপে কাজ সম্পন্ন করা যায়। ফলস্বরূপ উদযাপন করা যায় সাফল্য।

সবার সাথে সম্পৃক্ত থাকাঃ
ব্যক্তি নিয়েই সমষ্টি হয়। সমষ্টি ভালো থাকলেই ব্যক্তি ভালো থাকে। একা একা ভালো থাকা যায় না। মানুষকে সামাজিক জীব হিসেবে সমাজে বসবাস করতে হয়। তাই সমাজকে অস্বীকার করে নিজে সুখী হওয়া যায় না। বিজয়ীরা কেবল নিজেদের নিয়ে ভাবেন না, বরং সমষ্টির উপকার করার কথা চিন্তা করেন। তাঁরা সবার সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পছন্দ করেন। নিজেদের দল, শ্রোতা, ভক্ত এমনকি নিন্দুকের সাথে থাকেন। মনে আছে তো সেই প্রবাদটি?
‘দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।’
বিজয়ীরা এই প্রবাদটি মাথায় রেখে এগিয়ে যান। এক্ষেত্রে মাইকেল জর্ডানের একটি কথা প্রণিধানযোগ্য, ‘প্রতিভাবানরা খেলায় জেতে, কিন্তু দলগত উদ্যোগ আর বুদ্ধি জেতে চ্যাম্পিয়নশিপ। ‘

ভালো শ্রোতাঃ
সত্যিকারের সফল ব্যক্তিত্ব কখনোই একগুঁয়েমিতে ভোগেন না। তাঁরা অপরের কথা শোনেন, শুনতে চান, ভালোবাসেন। স্রোতের সাথে সাঁতরানো না জানলে কখনোই তীরে পৌঁছানো যায় না। যদি কোনোভাবে প্রতিকূলতা চলে আসে তবে জয়ীরা সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিকে বোঝার চেষ্টা করেন। তারপর এগোতে থাকেন। তাই কেবল নিজেই বলে যাওয়া উচিত নয়। পারিপার্শ্বিকেও সময় দেয়া উচিত।

নিজকে জানাঃ
প্লেটোর সংলাপটি মনে আছে তো?
‘Know thyself’ – এর সারকথা হলো নিজেকে জানা। এটা কতোখানি গুরুত্বপূর্ণ তা বিজয়ীদের জীবনের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। তাঁরা সবার আগে নিজেকে জানার চেষ্টা করেছেন, তারপর লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে হেঁটেছেন। যা নেই তা নিয়ে আক্ষেপ না করে বরং যা আছে তাই নিয়ে লড়তে থাকেন। নিজেদের দোষগুলোকে খুঁজে বের করে সেগুলোকে গুণে পরিণত করার চেষ্টায় রত থাকেন।

দানশীলতাঃ
জীবনের সাথে যে যেমন ব্যবহার করেন, জীবন ঠিক সেভাবেই ফিরিয়ে দেয়। বিজয়ীরা মূলত নিঃস্বার্থ হয়ে থাকেন। তাঁরা চারপাশের অসঙ্গতি বা অভাবগুলো খুঁজে বের করেন। আর নিজ সাধ্যানুযায়ী তা পূরণের চেষ্টা করেন। সেজন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সমাজসেবায় অংশ নেন। তবে উপস্থিতি সরব হতে পারে বা নীরবও হতে পারে।

আশাবাদীঃ
আশা ছাড়া কখনো সামনে এগুনো যায় না। আশার ভেলায় সবসময় চড়েন বিজয়ীরা। ইতিবাচক প্রচেষ্টার মাধ্যমে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন সাফল্যকে। সম্ভাব্য বিশ্বাস রেখেই পায়ে পায়ে চলতে থাকেন। এই বিশ্বাসই হয়ে ওঠে আজীবনের পাথেয়। আশা না থাকলে উন্নতি হাসে না, হেসে ওঠে অবনতি।

দায়িত্বশীলতাঃ
সফল ব্যক্তিত্ব কখনোই দায়িত্ব নিতে পিছপা হন না। দায়িত্ব নিতে পারেন বলেই সফল হতে পারেন। আপনি সফল হতে চাইবেন কিন্তু দায়িত্ব এড়িয়ে চলবেন। এটা কী করে হয়? বিজয়ীরা মানবতার সেবায় নিবেদিতপ্রাণ।

দায়িত্ব ও নেতৃত্বকে পরিচর্যা করতে হয়। নতুবা জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো যায় না। আপনি সফল মানুষদের কখনো অজুহাত দিতে শুনবেন না। বরং শুনবেন দায়িত্ববোধের কথা, পরিশ্রমের কথা।

জয়ের শিক্ষাঃ
সফলতার শিক্ষাই সফলতা বয়ে আনে। সফলদের অনুসরণেই নিহিত সাফল্য, অনুকরণে নয়। খেয়াল করলে দেখবেন, সফল ব্যক্তিরা সর্বদা সফল ব্যক্তিদের সাথে মিশে থাকেন। এর ফলে জয়ী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায় অপর্যাপ্তভাবে। জয়ী হতে ইচ্ছুক এমন সঙ্গ বেছে নিয়ে এর থেকে উৎসাহ নিতে হবে। দিনশেষে এসবই এনে দেবে সাফল্য। জয়ীরা এভাবেই ভাবেন।
জিগলার বলেন, ‘তুমি জয়ী হবার জন্যই পৃথিবীতে এসেছো, কিন্তু এর জন্য তোমার অবশ্যই থাকতে হবে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি আর প্রত্যাশা।’

আমাদের চারপাশে হয়তো বিজয়ীর সংখ্যা কম, কিন্তু খুঁজলেই পাওয়া যাবে। এসব মানুষদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে জয়ী হতে পারেন যে কেউ। এজন্য আবিষ্কার করতে হবে নিজস্ব সম্ভাবনা। পরিশ্রম দিয়ে নাম লেখাতে হবে বিজয়ীর খাতায়। সফল বা বিজয়ী ব্যক্তিগণ সর্বদা নিজেকে অতিক্রম করে যেতে চান। লক্ষ্যচ্যুত হওয়া মৃত্যুর সমান, যা বিজয়ীরা কখনোই করেন না।

Facebook Comments